শুভেন্দুকে ঘিরে বাংলাদেশ সংসদে বিতর্ক, কড়া প্রতিক্রিয়া নাহিদ ইসলামের
ঢাকা: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের আবহে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের সমালোচনা করেন এনসিপি নেতা ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শুভেন্দুর বাংলাদেশ-সংক্রান্ত বক্তব্যের পাশাপাশি কলকাতার ইতিহাস, দেশভাগ এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রসঙ্গও তোলেন তিনি।
বাংলাদেশি ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাহিদের বক্তব্য ঘিরে দুই বাংলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
এক নজরে:
• বাংলাদেশ সংসদে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম
• বাংলাদেশ সরকার ও বিদেশ মন্ত্রককে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি
• কলকাতা, দেশভাগ ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রসঙ্গও তোলেন এনসিপি নেতা
• ভারতের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি
আরও পড়ুন: ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে প্রযুক্তিনির্ভর! অবসরের আগে বড় বার্তা সেনাপ্রধান দ্বিবেদীর
কী বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী?
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রশ্নে কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তাঁর একাধিক মন্তব্য প্রতিবেশী দেশটির রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, শুভেন্দু অধিকারীর কিছু বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, প্রতিবেশী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের পক্ষে ইতিবাচক নয়। এই বিষয়ে বাংলাদেশের সরকার এবং বিদেশ মন্ত্রককে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কলকাতা ও দেশভাগ প্রসঙ্গ তুললেন নাহিদ
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম কলকাতার ইতিহাস নিয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, কলকাতা শহরের বিকাশে পূর্ববঙ্গের মানুষের অর্থনৈতিক অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দেশভাগের ইতিহাস এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এই ধরনের ঐতিহাসিক দাবি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন মত রয়েছে। ইতিহাসবিদদের মধ্যেও দেশভাগ, কলকাতার অর্থনৈতিক বিকাশ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। তাই নাহিদের বক্তব্যকে রাজনৈতিক মন্তব্য হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
ভারত সরকারকেও নিশানা
শুধু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নন, ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের অবস্থানের আত্মসমালোচনা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এনসিপি নেতা।
বিএনপিকেও ছাড়লেন না
নিজের বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকেও আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, অতীতে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময়ও সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বিএনপির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এখনও ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই
নাহিদ ইসলামের মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে বিষয়টি আপাতত রাজনৈতিক বক্তব্য এবং কূটনৈতিক পর্যবেক্ষণের স্তরেই রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, যোগাযোগ, কূটনীতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সমন্বয় রয়েছে। তাই রাজনৈতিক বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হলেও, সরকারি অবস্থান এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপই শেষ পর্যন্ত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
