রাজ্য

হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন নেই! অনুব্রতকে আগাম জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট

কলকাতা: পাঁচ বছর আগের একটি আর্থিক তছরুপের অভিযোগে বড় স্বস্তি পেলেন বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এই মামলায় অনুব্রতের আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, বহু পুরোনো বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তদন্ত এগোলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিযুক্তকে পুলিশি রিমান্ডে নিয়ে জেরা করার কোনো প্রয়োজন নেই।

পুরোনো অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দাবি

এর আগে ট্রায়াল কোর্টে জামিনের আর্জি খারিজ হওয়ার পর, গত ১৪ জুলাই হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন অনুব্রত। এদিন শুনানির সময় তাঁর আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন যে, ২০২১ সালের একটি ঘটনাকে ভিত্তি করে দীর্ঘ সময় পর, অর্থাৎ ২০২৬ সালে এসে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই পুরনো ঘটনাকে খুঁচিয়ে তুলে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে এই মামলা তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

জামিনের শর্ত ও আদালতের নির্দেশ

উভয় পক্ষের সওয়াল শোনার পর বিচারপতি জানান, যেহেতু মামলাটি বেশ পুরোনো, তাই তদন্ত চললেও এখন অনুব্রতকে হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে জামিন দিলেও তাঁর জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত আরোপ করেছে আদালত:

তদন্তকারী অফিসারের সমস্ত নির্দেশ মেনে তদন্তে পুরোপুরি সহযোগিতা করতে হবে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তার মুখোমুখি হতে হবে এবং পরবর্তীতে তলব করা মাত্রই হাজিরা দিতে হবে।

ঠিক কী অভিযোগ ছিল?

বোলপুরের এক বাসিন্দা শুভেন্দু মণ্ডলের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাঁর দাবি ছিল, অনুব্রত ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। এছাড়া রাজনৈতিক কারণে তাঁর ওপর নানা অত্যাচার চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি দাবি করে, সরকার পরিবর্তনের পরেই আদালতের দারস্থ হন ওই ব্যক্তি। হাইকোর্টের আজকের রায়ে আপাতত গ্রেপ্তারির খাঁড়া থেকে বড় রেহাই পেলেন অনুব্রত।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।