দেশ

প্রশ্নফাঁস চক্রে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা জরিমানা, সঙ্গে জেল! নয়া বিলে কী কী কড়া বিধান?

নয়াদিল্লি: প্রতিযোগিতামূলক ও সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত সংগঠিত চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আইন আরও কঠোর করার পথে কেন্দ্র। সরকারি সূত্রের খবর, শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এ-সংক্রান্ত একটি বিলে অনুমোদন দিয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি এবং বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান থাকতে পারে।

নতুন আইনি কাঠামোর প্রধান লক্ষ্য আন্তঃরাজ্য স্তরে সক্রিয় প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্রকে চিহ্নিত করা এবং তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমানো। বিলটি সংসদে পেশ ও অনুমোদিত হওয়ার পরেই সংশোধিত বিধানগুলি কার্যকর হবে।

তিন মাসের মধ্যে মামলা শেষ করার প্রস্তাব

সূত্রের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় তদন্ত ও বিচার শেষ করার জন্য তিন মাসের সময়সীমা রাখার কথা ভাবা হয়েছে। বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের জন্য আইনি ভিত্তিও প্রস্তাবিত বিলে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

তবে কোনও মামলার তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং বিচার শেষ হতে কতটা সময় লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট ঘটনার জটিলতা ও আদালতের প্রক্রিয়ার উপরেও নির্ভর করে। তিন মাসের বিধানটি বাধ্যতামূলক সময়সীমা, না কি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্য—সরকারি বিল প্রকাশিত হলে তা স্পষ্ট হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পর দিল্লি হাইকোর্ট রাউস অ্যাভিনিউ আদালত চত্বরে প্রশ্নপত্র ফাঁস-সংক্রান্ত মামলার বিচারের জন্য একটি বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠন করেছে।

সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা জরিমানার প্রস্তাব

সংগঠিত পরীক্ষার জালিয়াতিতে যুক্ত ব্যক্তি বা চক্রের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হতে পারে বলে সূত্রের দাবি। অপরাধের ধরন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা এবং কোনও প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত কি না—তার ভিত্তিতে শাস্তির মাত্রা নির্ধারিত হতে পারে।

সরকারি বিলের পূর্ণ পাঠ প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত জরিমানার অঙ্ক এবং কোন ধরনের অপরাধে তা প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে না।

বর্তমান আইনে কী শাস্তি রয়েছে?

২০২৪ সালের জনপরীক্ষা (অসদুপায় প্রতিরোধ) আইনে প্রশ্নপত্র বা উত্তরসূচি ফাঁস, অনুমতি ছাড়া প্রশ্নপত্র সংগ্রহ, উত্তরপত্রে কারচুপি, ভুয়ো পরীক্ষা আয়োজন, নকল ওয়েবসাইট তৈরি এবং পরীক্ষার কম্পিউটার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপকে অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে।

সাধারণ অপরাধে দোষ প্রমাণিত হলে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। সংগঠিত চক্রের অপরাধ প্রমাণিত হলে পাঁচ থেকে দশ বছর কারাদণ্ড ও কমপক্ষে এক কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে। কোনও প্রতিষ্ঠান সংগঠিত অপরাধে যুক্ত থাকলে তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ব্যবস্থাও বর্তমান আইনে রয়েছে।

এই আইন মূলত কেন্দ্রীয় সংস্থা পরিচালিত পরীক্ষায় প্রযোজ্য। ইউপিএসসি, স্টাফ সিলেকশন কমিশন, রেল নিয়োগ পর্ষদ, ব্যাঙ্ক কর্মী নিয়োগ সংস্থা এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি পরিচালিত পরীক্ষা এর আওতায় পড়ে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য এর অর্থ কী?

আইনটির লক্ষ্য সাধারণ পরীক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া নয়; বরং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভুয়ো পরীক্ষা বা সংগঠিত নকলচক্র পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। পরীক্ষার্থীদের নিজস্ব অসদুপায় সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থার নিয়ম কার্যকর থাকে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে পরীক্ষা বাতিল, পুনরায় পরীক্ষা এবং ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হন। নতুন ব্যবস্থায় তদন্ত ও বিচার দ্রুত হলে পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফেরানো সহজ হতে পারে। তবে বিলটি সংসদে পেশ হওয়ার পর তার চূড়ান্ত ধারা এবং প্রয়োগপদ্ধতি স্পষ্ট হবে।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।