বিধায়কদের প্রশিক্ষণ শিবির থেকে বেরিয়ে গেলেন কুণাল ঘোষ, স্পিকারদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্যদের জন্য আয়োজিত বিধায়কদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি মাঝপথেই অনুষ্ঠানস্থল ছাড়লেন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুণাল ঘোষ। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে এসে তিনি লোকসভার স্পিকার Om Birla এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার Rathindra Bose-এর ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান।
তবে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট করেন, তিনি কর্মসূচিকে পুরোপুরি বয়কট করেননি। বিধায়ক হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা তাঁর দায়িত্ব ছিল বলেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু কার বক্তব্য তিনি শুনবেন বা শুনবেন না, সেই সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত—এমনটাই দাবি করেন তিনি।
ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার স্পিকার Om Birla, কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী Kiren Rijiju, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিধানসভার স্পিকার Rathindra Bose-সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথাগত আনুষ্ঠানিকতার পর কুণাল ঘোষ অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন।
আরো পড়ুন: বাতিল পুরনো তালিকা! বাংলায় OBC ক্যাটেগরিতে এবার কত সম্প্রদায়?
অনুষ্ঠান বয়কট নয়, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত: কুণাল
অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ জানান, বিধায়ক হিসেবে এই ধরনের কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকা তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের অংশ। সেই দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন। তবে সব বক্তার বক্তব্য তিনি শুনবেন, এমন বাধ্যবাধকতা নেই বলেই তাঁর বক্তব্য।
তিনি বলেন, লোকসভা ও বিধানসভার অধ্যক্ষের পদকে তিনি সম্মান করেন। কিন্তু নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক আপত্তি রয়েছে। সেই কারণেই তিনি অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
Om Birla-কে নিয়ে কী অভিযোগ?
কুণাল ঘোষের অভিযোগ, লোকসভার স্পিকার হিসেবে Om Birla বিরোধী দলগুলির ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেননি। তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন সাংসদকে ঘিরে অতীতে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, লোকসভার স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে।
তবে এই অভিযোগগুলি কুণাল ঘোষের রাজনৈতিক বক্তব্য। লোকসভার স্পিকার বা লোকসভা সচিবালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগগুলিকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে নয়, রাজনৈতিক দাবি হিসেবেই দেখা উচিত।
বিধানসভার স্পিকার সম্পর্কেও অসন্তোষ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার Rathindra Bose সম্পর্কেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভার অধ্যক্ষের পদকে তিনি সম্মান করেন, কিন্তু অতীতে বিধানসভায় তাঁকে বক্তব্য রাখার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ তাঁর রয়েছে।
কুণালের দাবি, যাঁদের ভূমিকা নিয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে সংসদীয় শিষ্টাচার বা বিধানসভার কার্যপ্রণালী নিয়ে বক্তব্য শোনা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। যদিও স্পিকারের দফতর বা বিধানসভার পক্ষ থেকে এই মন্তব্যের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
কর্মসূচির গুরুত্ব কোথায়?
নবনির্বাচিত বিধায়কদের সংসদীয় রীতি, বিধানসভার কার্যপ্রণালী, আইন প্রণয়নের পদ্ধতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্য এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি-এর আয়োজন করা হয়েছে। এই ধরনের প্রশিক্ষণ সাধারণত নতুন বিধায়কদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
কিন্তু সেই কর্মসূচির শুরুতেই কুণাল ঘোষের বেরিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। বিশেষ করে তিনি দুই স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি আপত্তি তোলায় বিতর্ক আরও বাড়ে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
কুণাল ঘোষের এই পদক্ষেপকে শুধু ব্যক্তিগত প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ভিতরের অবস্থান, বিরোধী শিবিরের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বিধানসভার কার্যপ্রণালী নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—কুণালের মন্তব্যগুলি রাজনৈতিক অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের তরফে পাল্টা বক্তব্য সামনে এলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
শেষ কথা
বিধায়কদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থেকে কুণাল ঘোষের বেরিয়ে যাওয়া রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি দাবি করেছেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা তাঁর দায়িত্ব ছিল, কিন্তু নির্দিষ্ট কয়েকজন বক্তার বক্তব্য না শোনার সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত।
Om Birla ও Rathindra Bose-এর ভূমিকা নিয়ে তাঁর অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, অভিযোগের সত্যতা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো এখনই ঠিক হবে না। আপাতত নজর থাকবে, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসে কি না এবং রাজনৈতিক মহলে এই বিতর্ক কতদূর গড়ায়।
