রাজ্য

রেশন কার্ড নিয়ে কড়া পদক্ষেপ, কাদের নাম বাদ পড়বে তালিকা থেকে?

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে রেশন কার্ড যাচাইয়ে এবার নতুন ধাপে এগোল খাদ্য দফতর। রেশন ব্যবস্থায় অযোগ্য বা ভুয়ো প্রাপকের নাম আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এই যাচাইয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ২০২৬ সালের Special Intensive Revision বা SIR প্রক্রিয়ার ফলাফল। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় যাঁদের নাম বাদ পড়েছে বা অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, তাঁদের রেশন কার্ডের তথ্যও খতিয়ে দেখা হবে।

রাজ্য সরকারের দাবি, রেশন যেন প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের কাছেই পৌঁছায়। সেই কারণেই তালিকা পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, যাঁদের appeal বা CAA-সংক্রান্ত আবেদন বিচারাধীন, তাঁদের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করে কার্ড বাতিল করা হবে না।

রেশন তালিকায় কেন এই যাচাই?

পশ্চিমবঙ্গে রেশন ব্যবস্থার আওতা অত্যন্ত বড়। খাদ্য দফতরের সাম্প্রতিক ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, রাজ্যে মোট রেশন কার্ডের সংখ্যা ৮ কোটি ৭২ লক্ষের বেশি। এর মধ্যে অধিকাংশ কার্ড আধার-লিঙ্কড।

AAY, PHH, SPHH, RKSY-সহ একাধিক ক্যাটাগরিতে রাজ্যের মানুষ রেশন পেয়ে থাকেন। প্রত্যেক ক্যাটাগরির বরাদ্দ ও নিয়ম আলাদা। তাই তালিকায় অযোগ্য নাম থাকলে প্রকৃত প্রাপকদের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে।

প্রশাসনিক মহলের দাবি, রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এখন জরুরি। কোনও মৃত ব্যক্তি, duplicate entry, স্থানান্তরিত ব্যক্তি বা অযোগ্য প্রাপকের নামে সুবিধা চলতে থাকলে সরকারি খাদ্য বরাদ্দে সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই যাচাইকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কাদের কার্ড খতিয়ে দেখা হবে?

খাদ্য দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির প্রাপকদের তথ্য পরীক্ষা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে SIR প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া বা অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত নাম।

ASDD category-ও নজরে থাকবে। এই ASDD-র অর্থ absentee, shifted, dead এবং duplicate। অর্থাৎ যাঁরা অনুপস্থিত, অন্যত্র স্থানান্তরিত, মৃত বা duplicate হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, তাঁদের রেশন কার্ড যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে।

এছাড়া SIR hearing-এর পরে rejected হওয়া case, draft list প্রকাশের পর deletion, adjudication-এর পরে বাদ পড়া নাম এবং voter information slip বিতরণের সময় ASDD হিসেবে চিহ্নিত electors-দের তথ্যও খতিয়ে দেখা হবে।

তবে শুধু তালিকায় নাম না থাকলেই কার্ড বাতিল হবে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির appeal থাকলে বা CAA-র অধীনে আবেদন জমা থাকলে সেই প্রমাণ যাচাই করা হবে। প্রমাণ থাকলে card active রাখা যেতে পারে, যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট আবেদন বা appeal-এর নিষ্পত্তি হচ্ছে।

যাচাই কীভাবে হবে?

খাদ্য দফতরের নির্দেশে অনলাইন মডিউল ব্যবহার করে ভেরিফিকেশন প্রিক্রিয়া চালানোর কথা বলা হয়েছে। area inspector-রা booth-wise list সংগ্রহ করবেন। এই list আসবে ERO, AERO অথবা CEO portal থেকে।

এরপর সংশ্লিষ্ট beneficiary-র রেশন কার্ডের সঙ্গে SIR data মিলিয়ে দেখা হবে। যদি কেউ দাবি করেন যে তাঁর appeal চলছে, তাহলে সেই সংক্রান্ত নথি পোর্টাল-এ আপলোড করতে হবে।

প্রশাসনিকভাবে প্রমাণ সন্তোষজনক হলে card active রাখা হবে। কিন্তু নথি না থাকলে card cancellation-এর জন্য recommendation করা যেতে পারে। শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত issuing authority।

এই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি প্রতিদিন monitor করার কথাও নির্দেশে বলা হয়েছে। জেলা স্তরের খাদ্য আধিকারিকদের রিপোর্ট district magistrate এবং directorate-এ পাঠাতে হবে।

সাধারণ মানুষের কী করণীয়?

যাঁদের রেশন কার্ডে কোনও সমস্যা নেই, তাঁদের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে যাঁদের নাম voter list বা SIR process-এ বাদ পড়েছে, তাঁদের নথি প্রস্তুত রাখা দরকার।

রেশন কার্ড, আধার, ভোটার সংক্রান্ত নথি, address proof, appeal copy বা CAA application-এর receipt থাকলে তা সংরক্ষণ করা উচিত। স্থানীয় ration office বা খাদ্য দফতরের helpdesk-এ যোগাযোগ করাও প্রয়োজন হতে পারে।

যদি কেউ ভুলভাবে বাদ পড়েছেন বলে মনে করেন, তাহলে দ্রুত official route-এ appeal বা representation জমা দেওয়া জরুরি। কারণ যাচাই প্রক্রিয়ায় নথিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

বিতর্কও তৈরি হয়েছে

এই পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ পড়ার ভিত্তিতে রেশন সুবিধা বন্ধ করার চেষ্টা হলে বহু সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন।

অন্যদিকে সরকারের বক্তব্য, রেশন তালিকা নিয়মিত আপডেট করা আইনের মধ্যেই পড়ে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এর উদ্দেশ্য প্রকৃত দরিদ্র ও যোগ্য প্রাপকদের অধিকার রক্ষা করা।

বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন উঠেছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, শীর্ষ আদালত আবেদনকারীকে কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছে। তাই এই যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি লড়াইও সামনে এগোতে পারে।

কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?

রেশন শুধু সরকারি প্রকল্প নয়। বহু পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে এটি সরাসরি যুক্ত। তাই তালিকা পরিষ্কার করা যেমন প্রয়োজন, তেমনই ভুলভাবে কোনও যোগ্য মানুষের সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়া ঠেকানোও সমান জরুরি।

প্রশাসনের সামনে এখন দুই দিক সামলানোর দায়িত্ব। একদিকে ভুয়ো বা অযোগ্য এন্ট্রি বাদ দিতে হবে। অন্যদিকে প্রকৃত প্রাপকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

এই যাচাই প্রক্রিয়ার পর কত কার্ড বাতিল হবে, তা এখনও সরকারি ভাবে স্পষ্ট নয়। চূড়ান্ত সংখ্যা জানা যাবে জেলা রিপোর্ট এবং দফতরের পরবর্তী পদক্ষেপের পর।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।