আমেদাবাদে সুভাষ ব্রিজ ভাঙার কাজে বড় অগ্রগতি, নিরাপদে সরানো হল আরও ৫টি স্প্যান
এক নজরে
- আমেদাবাদের সুভাষ ব্রিজ ভাঙার কাজে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন।
- নদীর দিক এবং শাহিবাগ দিকের মোট ৫টি স্প্যান নিরাপদে ভাঙা হয়েছে।
- কাজটি বিশেষজ্ঞদের নজরদারিতে ঠিকাদারি সংস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
- সাইটে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধি মেনে কাজ করা হয়েছে বলে AMC সূত্রে জানা গিয়েছে।
- পুরনো সেতুর কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ধাপে ধাপে ভাঙার কাজ চলছে।
আমেদাবাদ: গুজরাটের আমেদাবাদে পুরনো সুভাষ ব্রিজ ভাঙার কাজে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হল। চলমান ভাঙার কাজের অংশ হিসেবে ব্রিজের নদীর দিক এবং শাহিবাগ দিকের মোট পাঁচটি স্প্যান নিরাপদে সরানো হয়েছে বলে আমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন সূত্রে জানা গিয়েছে।
এএনআই প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, পরিকল্পিত পদ্ধতিতে সেতুর অংশ ভাঙার কাজ চলছে। AMC সূত্রে দাবি, পুরো কাজটি ঠিকাদারি সংস্থা বিশেষজ্ঞদের নিয়মিত নজরদারিতে করেছে। কাজের সময় সাইটে পর্যবেক্ষণ চালানো হয় এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা হয়।
কী কাজ সম্পন্ন হল?
সুভাষ ব্রিজ ভাঙার চলমান কাজের অংশ হিসেবে এবার মোট পাঁচটি স্প্যান সরানো হয়েছে। এর মধ্যে কিছু অংশ ছিল নদীর দিকের, আর কিছু অংশ শাহিবাগ দিকের। প্রশাসনের দাবি, কাজটি ধাপে ধাপে ও নিরাপদ পদ্ধতিতে করা হয়েছে, যাতে আশপাশের এলাকা, শ্রমিক এবং যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা বজায় থাকে।
এই ধরনের পুরনো সেতু ভাঙার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পুরো প্রক্রিয়াটি আগে থেকে পরিকল্পনা করে, সাইটে পর্যবেক্ষণ রেখে এবং বিশেষজ্ঞদের নির্দেশ মেনে করা হয়েছে বলে AMC সূত্রে জানানো হয়েছে।
কেন ভাঙা হচ্ছে সুভাষ ব্রিজ?
সুভাষ ব্রিজ আমেদাবাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগ। সেতুটি বহু বছর ধরে শহরের যান চলাচলে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে পুরনো কাঠামো, ফাটল এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে সেতুটি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে পর্যালোচনা শুরু হয়েছিল।
রিপোর্ট অনুযায়ী, সেতুটি ১৯৭৩ সালে তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর কাঠামোগত সমস্যা সামনে আসায় বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়। এরপর ধাপে ধাপে পুরনো অংশ সরিয়ে ভবিষ্যতের কাজ এগোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল?
AMC সূত্রে দাবি, ভাঙার কাজের সময় সব ধরনের নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করা হয়েছে। সাইটে বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি ছিল এবং কাজ চলাকালীন পর্যবেক্ষণ বজায় রাখা হয়। ঠিকাদারি সংস্থাকে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে বলা হয়েছিল।
সেতু ভাঙার সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ থাকে ভারসাম্য, কম্পন, আশপাশের অংশের নিরাপত্তা এবং নদীর দিকের কাজের ঝুঁকি। সেই কারণে কাজটি একসঙ্গে না করে ধাপে ধাপে করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এই ধাপের কাজ কোনও বড় অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে।
আগে কী হয়েছিল?
এর আগে সুভাষ ব্রিজের তিনটি স্প্যান ভাঙার কাজ সম্পন্ন হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেই কাজও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে করা হয়েছিল। এবার আরও পাঁচটি স্প্যান সরানোয় পুরো ভাঙার প্রক্রিয়া আরও এগোল।
পুরনো সেতু ভাঙার পর নতুন কাঠামো বা পুনর্নির্মাণ ঘিরে শহরের যান চলাচল, বিকল্প রুট এবং নাগরিক অসুবিধার বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ সুভাষ ব্রিজ বহু মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
শহরের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই কাজ?
আমেদাবাদের মতো বড় শহরে পুরনো সেতু, ফ্লাইওভার ও রাস্তার নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনও সেতুর কাঠামোগত দুর্বলতা ধরা পড়লে শুধু মেরামত নয়, প্রয়োজনে বড় সিদ্ধান্তও নিতে হয়। সুভাষ ব্রিজের ক্ষেত্রেও সেই কারণেই ধাপে ধাপে ভাঙার কাজ চলছে।
এই কাজ শেষ হলে ভবিষ্যতে নতুন বা উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা তৈরি হলে শহরের যান চলাচলে সুবিধা হতে পারে। তবে সেই পর্যন্ত নাগরিকদের বিকল্প পথ, যানজট এবং প্রশাসনিক নির্দেশিকার দিকে নজর রাখতে হবে।
এখন নজর কোথায়?
এখন নজর থাকবে সুভাষ ব্রিজ ভাঙার পরবর্তী ধাপের দিকে। বাকি অংশ কীভাবে সরানো হবে, নতুন নির্মাণ বা সংস্কার পরিকল্পনা কীভাবে এগোবে এবং নাগরিকদের জন্য বিকল্প যান চলাচলের ব্যবস্থা কী থাকে—এসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, সুভাষ ব্রিজ ভাঙার কাজে আরও পাঁচটি স্প্যান নিরাপদে সরানো আমেদাবাদের নগর পরিকাঠামো প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে কাজটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা, পর্যবেক্ষণ এবং নাগরিক সুবিধা—এই তিন দিকেই প্রশাসনের নজর রাখা জরুরি।
তথ্যসূত্র: Ahmedabad Municipal Corporation সূত্রে ANI প্রকাশিত ভিডিও, Asianet News-ANI প্রতিবেদন, Times of India এবং Ahmedabad Mirror-এ প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত।
