রাজনীতি

তৃণমূলের তহবিলে কীসের টাকা? কলকাতা-জুড়ে ইডি-র অভিযান

তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ঘিরে বিতর্কের মধ্যে কলকাতা ও আশপাশের পাঁচ জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। তদন্তে নজরে রয়েছে টাকার উৎস, লেনদেন এবং অ্যাকাউন্টের সিগনেটরি।

এক নজরে

  • তৃণমূলের তহবিল বিতর্কে এবার সক্রিয় হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
  • কলকাতা, সল্টলেক ও নিউটাউন-সহ পাঁচ জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে রিপোর্ট।
  • ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের টাকা, লেনদেন ও সিগনেটরি নিয়ে তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • তৃণমূলের কয়েকটি HDFC ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ঘিরে আগেই আদালতে মামলা গড়িয়েছে।
  • তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য বলা যাবে না।


কী ঘটেছে

কলকাতা ও আশপাশের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। তৃণমূলের তহবিল সংক্রান্ত বিতর্কের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নতুন করে রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনা তৈরি করেছে। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতা, সল্টলেক ও নিউটাউন-সহ মোট পাঁচটি জায়গায় ইডির আধিকারিকরা পৌঁছন।

ইডি সূত্রের দাবি, তল্লাশির মূল নজরে রয়েছে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন, ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে থাকা টাকার উৎস এবং কারা সেই অ্যাকাউন্ট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তবে এই পর্যায়ে ইডির তরফে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা অভিযোগ আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ্যে আসেনি।

তল্লাশির সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও উপস্থিত ছিলেন বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সল্টলেকের একটি নির্মীয়মাণ বাড়ি-সহ কয়েকটি জায়গায় নথি ও আর্থিক তথ্য খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

তহবিল বিতর্কের শুরু কোথা থেকে

তৃণমূলের কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ঘিরে বিতর্ক কিছুদিন ধরেই সামনে আসছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, HDFC ব্যাঙ্কে থাকা দলের কয়েকটি অ্যাকাউন্টে ডেবিট ফ্রিজের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ফলে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হয়।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্টে যায়। আদালত ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা, লেনদেন এবং অনুমোদিত সিগনেটরির তথ্য জমা দিতে বলে। একই সঙ্গে পুলিশি পদক্ষেপ কত দ্রুত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও আদালত প্রশ্ন তুলেছে বলে প্রকাশিত রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

কী খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা

ইডি সূত্রের দাবি, তদন্তে তিনটি বিষয় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমত, অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থের উৎস কী। দ্বিতীয়ত, ওই অ্যাকাউন্টগুলির বর্তমান সিগনেটরি কারা। তৃতীয়ত, টাকা কোন পথে এসেছে এবং কোথায় খরচ হয়েছে।

আর্থিক তদন্তে সাধারণত ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, লেনদেনের সময়, টাকা পাঠানো বা তোলার পদ্ধতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার নথি—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। এই ক্ষেত্রেও সেই ধরনের নথি দেখা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনও চলমান, তাই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।

আদালত ও পুলিশের ভূমিকাও নজরে

এই মামলায় রাজ্য পুলিশের তদন্ত আগেই শুরু হয়েছিল বলে রিপোর্টে জানা গিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের পদক্ষেপের পরই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের বিষয়টি সামনে আসে। পরে আদালত ব্যাঙ্ক ও পুলিশের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছে।

আদালত এই পর্যায়ে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি। বরং তদন্তের নথি, ব্যাঙ্কের তথ্য এবং আইনি প্রক্রিয়া দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে। তাই এই খবর লিখতে গেলে অভিযোগ ও প্রমাণের পার্থক্য স্পষ্ট রাখা জরুরি।

রাজনৈতিকভাবে কেন গুরুত্বপূর্ণ

তৃণমূলের তহবিল বিতর্ক শুধু আর্থিক তদন্তের বিষয় নয়। এর সঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ এবং রাজ্য রাজনীতির বড় প্রেক্ষাপটও জড়িয়ে আছে। তাই ইডির তল্লাশি রাজনৈতিক মহলেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল তদন্তের প্রমাণ। ব্যাঙ্ক নথি, লেনদেনের উৎস, সিগনেটরি পরিবর্তন এবং আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্ট—এসবের উপরই পরবর্তী দিক নির্ভর করবে।

এখন নজর কোথায়

এখন নজর থাকবে ইডির তল্লাশিতে কী নথি পাওয়া যায়, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ আদালতে কী তথ্য জমা দেয় এবং রাজ্য পুলিশের রিপোর্টে কী উঠে আসে, সেই দিকে।

সব মিলিয়ে, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ঘিরে বিতর্কে ইডির এই পদক্ষেপ নতুন চাপ তৈরি করেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যাবে না। সমস্ত অভিযোগ আদালত ও তদন্তের প্রক্রিয়াতেই যাচাই হবে।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।