বিনোদন

‘প্রীতম অ্যান্ড পেড্রো’ নিয়ে এত আলোচনা কেন? অর্শদ–বীরের জুটি থেকে সাইবার অপরাধের গল্প

রাজকুমার হিরানির প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘প্রীতম অ্যান্ড পেড্রো’ ৩ জুলাই জিওহটস্টারে মুক্তি পেয়েছে। তাই এখন আর সিরিজটির জন্য দর্শকের অপেক্ষার কথা বলা ঠিক হবে না। তবে মুক্তির পরেও অর্শদ ওয়ারসি ও নবাগত বীর হিরানির জুটি, সাইবার অপরাধের গল্প এবং হালকা হাসির মিশ্রণ নিয়ে আলোচনা চলছে।

জিওস্টারের দাবি, এটি তাদের সবচেয়ে বেশি দেখা ধারাবাহিকগুলির একটি এবং চলতি বছরের সবচেয়ে বড় সূচনা পাওয়া কাহিনিনির্ভর অনুষ্ঠান। হিন্দির পাশাপাশি বাংলা, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, মারাঠি ও কন্নড় ভাষাতেও সিরিজটি দর্শকের নজর কেড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে মোট কত জন দেখেছেন, সেই নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তাই দর্শকসংখ্যা সংক্রান্ত দাবিটিকে জিওস্টারের নিজস্ব হিসাব হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

এক নজরে

  • ৩ জুলাই থেকে জিওহটস্টারে দেখা যাচ্ছে
  • মোট ছ’টি পর্ব রয়েছে
  • প্রধান চরিত্রে অর্শদ ওয়ারসি ও বীর হিরানি
  • পরিচালনায় অবিনাশ অরুণ
  • রাজকুমার হিরানির প্রথম ওয়েব সিরিজ
  • বিক্রান্ত ম্যাসি রয়েছেন প্রতিপক্ষের ভূমিকায়
  • দর্শক ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র

কী নিয়ে ‘প্রীতম অ্যান্ড পেড্রো’র গল্প?

গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন পেড্রো গনসালভেস এবং প্রীতম পার্কার। পেড্রো পুরনো পদ্ধতিতে অপরাধের তদন্ত করতে অভ্যস্ত এক পুলিশ আধিকারিক। কম্পিউটার ও নতুন প্রযুক্তির বিষয়ে তাঁর জ্ঞান সীমিত। অন্যদিকে প্রীতম অনলাইন নিরাপত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণে দক্ষ এক তরুণ।

একটি গুরুত্বপূর্ণ অপহরণ মামলার তদন্তে দু’জনকে একসঙ্গে কাজ করতে হয়। পেড্রোর মাঠের অভিজ্ঞতা এবং প্রীতমের প্রযুক্তিগত দক্ষতা মিলিয়ে শুরু হয় অপরাধীদের খোঁজ। দু’জনের স্বভাব সম্পূর্ণ আলাদা হওয়ায় তদন্তের পাশাপাশি ভুল বোঝাবুঝি, তর্ক এবং হাসির মুহূর্তও তৈরি হয়।

গল্পটি মূলত সাইবার অপরাধ ঘিরে তৈরি হলেও একেবারে ভারী তদন্ত-কাহিনি নয়। অনলাইন প্রতারণা, তথ্য চুরি ও প্রযুক্তির অপব্যবহারের মতো বর্তমান সময়ের সমস্যাকে বন্ধুত্ব এবং হালকা হাসির সঙ্গে দেখানোর চেষ্টা রয়েছে।

রাজকুমার হিরানির নাম কেন আগ্রহ বাড়িয়েছে?

‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’, ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘পিকে’ ও ‘সঞ্জু’-র মতো ছবির জন্য পরিচিত রাজকুমার হিরানি এই সিরিজের মাধ্যমে প্রথমবার দীর্ঘ ওয়েব কাহিনির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তবে তিনি সিরিজটি পরিচালনা করেননি। পরিচালনার দায়িত্ব সামলেছেন ‘কিল্লা’ ও ‘থ্রি অব আস’-এর নির্মাতা অবিনাশ অরুণ।

হিরানি এই প্রকল্পের নির্মাতা ও প্রযোজক। রাজকুমার হিরানি, অভিজাত জোশী, সুয়াশ ত্রিবেদী এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অমিত দুবে গল্প ও চিত্রনাট্যের কাজে যুক্ত ছিলেন। করোনা-পর্বে মুম্বই সাইবার শাখা থেকে পাওয়া একটি ফোনের পর অনলাইন অপরাধ নিয়ে গল্প তৈরির ভাবনা শুরু হয়েছিল বলে জানিয়েছেন হিরানি।

তাঁর ছবিতে সাধারণত হাসির সঙ্গে সামাজিক সমস্যা ও মানুষের সম্পর্ককে রাখা হয়। সেই পরিচিত গল্প বলার ধরন ওয়েব সিরিজে কতটা কাজ করেছে, তা নিয়েও দর্শকের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বীর হিরানির প্রথম বড় অভিনয়

প্রীতমের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রাজকুমার হিরানির ছেলে বীর হিরানি। এই সিরিজের মাধ্যমেই বড় পরিসরে তাঁর অভিনয়ের শুরু। পরিচিত নির্মাতার ছেলের অভিষেক হওয়ায় মুক্তির আগে থেকেই তাঁকে নিয়ে কৌতূহল ছিল। অন্যদিকে পেড্রোর চরিত্রে রয়েছেন অর্শদ ওয়ারসি। হাসি এবং অপরাধের গল্পে তাঁর স্বাভাবিক অভিনয় বহু বছর ধরেই দর্শকের পরিচিত। শান্ত স্বভাবের প্রীতম এবং সহজে মেজাজ হারানো পেড্রোর বিপরীত চরিত্রই সিরিজের প্রধান আকর্ষণ। বিক্রান্ত ম্যাসি রয়েছেন বুদ্ধিমান ও বিপজ্জনক সাইবার অপরাধীর ভূমিকায়। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও রয়েছেন মোনা সিং, সত্যদীপ মিশ্র এবং বোমান ইরানি।

সাইবার অপরাধের বিষয়টি কেন সময়োপযোগী?

অনলাইন ব্যাঙ্কিং, ভুয়ো ফোন, তথ্য চুরি এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনা এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন উদ্বেগের অংশ। সেই কারণে সাইবার অপরাধকে কেন্দ্র করে তৈরি গল্প সহজেই দর্শকের সঙ্গে যোগ তৈরি করতে পারে। সিরিজটি সরাসরি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান নয়। তবে অপরাধীরা কীভাবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগায় এবং পুলিশ পুরনো তদন্ত-পদ্ধতির পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নেয়, সেই বিষয়গুলি গল্পের মধ্যে এসেছে। জিওস্টারের মতে, সিরিজটি অনলাইন প্রতারণা ও নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবহারের বিষয়ে দর্শকের মধ্যে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন; সিরিজটিকে তথ্যভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তার নির্দেশিকা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

দর্শক ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া কেমন?

‘প্রীতম অ্যান্ড পেড্রো’ নিয়ে সব মহলের মত এক নয়। কোনও কোনও পর্যালোচনায় অর্শদ ওয়ারসির অভিনয়, দুই প্রধান চরিত্রের সম্পর্ক এবং রহস্যের সঙ্গে হাসির ভারসাম্যের প্রশংসা করা হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার পর্যালোচনায় সিরিজটিকে সহজ ও বিনোদনমূলক কাহিনি হিসেবে দেখা হয়েছে।

অন্যদিকে সিনেমা এক্সপ্রেসের পর্যালোচনায় গল্পের গতি, চরিত্রগুলির গভীরতা এবং ছ’টি পর্বের মধ্যে আবেগ ও রহস্য ঠিকভাবে গড়ে না ওঠার সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে অর্শদের অভিনয়ের প্রশংসা করা হলেও বাকি গল্পকে দুর্বল বলা হয়েছে।

তাই “সবাই সিরিজটির প্রশংসা করছেন” বা “অবশ্যই দেখা উচিত”—এমন দাবি করা ঠিক হবে না। হালকা হাসির সঙ্গে অপরাধের গল্প যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে এটি আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে যাঁরা খুব টানটান ও অন্ধকার আবহের তদন্ত-কাহিনি খুঁজছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা আলাদা হতে পারে।

কোথায় এবং কতগুলি পর্ব দেখা যাবে?

‘প্রীতম অ্যান্ড পেড্রো’ বর্তমানে জিওহটস্টারে দেখা যাচ্ছে। সিরিজে মোট ছ’টি পর্ব রয়েছে এবং প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ মিনিট।

রাজকুমার হিরানির ওয়েব দুনিয়ায় প্রথম কাজ, অর্শদ ওয়ারসি ও বীর হিরানির নতুন জুটি এবং সাইবার অপরাধকে সহজ ভঙ্গিতে তুলে ধরার চেষ্টাই সিরিজটিকে অন্য অনেক অপরাধ-কাহিনি থেকে আলাদা করেছে। তবে গল্পটি দর্শকের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করবে, তা শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত পছন্দের উপর নির্ভর করবে।

তথ্যসূত্র: জিওহটস্টারের সরকারি তথ্য, নির্মাতা ও শিল্পীদের বক্তব্য এবং প্রকাশিত চলচ্চিত্র পর্যালোচনা।

Avatar photo

Bapan Biswas

বাপন বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক। তিনি সাইটের সম্পাদকীয় পরিকল্পনা, তথ্য যাচাই এবং সংবাদ প্রকাশনার দায়িত্বে রয়েছেন। দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, ব্যবসা-বাণিজ্য, খেলাধুলা ও বিনোদনের খবর সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে সহজ বাংলায় পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।