কোহলি-গম্ভীরের সম্পর্কে ফের ফাটল? অনুশীলনের একটি দৃশ্য ঘিরে জল্পনা
বার্মিংহাম: বিরাট কোহলি ও গৌতম গম্ভীরের সম্পর্কে কি ফের দূরত্ব তৈরি হয়েছে? ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম এক দিনের ম্যাচের আগে ভারতের অনুশীলন ঘিরে এমনই প্রশ্ন উঠেছে। এজবাস্টনে অনুশীলনের সময় দু’জনকে সরাসরি কথা বলতে দেখা যায়নি। সেই দৃশ্য সামনে আসতেই পুরনো বিরোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে অনুশীলনের একটি অংশে দু’জনের মধ্যে কথা না হওয়ার অর্থ তাঁদের বিবাদ হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো কোনও তথ্য এখনও নেই। কোহলি, গম্ভীর কিংবা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকেও মনোমালিন্যের কথা জানানো হয়নি।
প্রথম এক দিনের ম্যাচের আগে এজবাস্টনের নেটে দীর্ঘ সময় ব্যাট করেন কোহলি। তাঁর অনুশীলনের সময় কাছেই ছিলেন ভারতের ব্যাটিং প্রশিক্ষক সীতাংশু কোটাক। কোহলির ব্যাটিং শেষ হওয়ার পরে কোটাককে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতেও দেখা যায়।
অন্যদিকে, প্রধান প্রশিক্ষক গৌতম গম্ভীর দলের একাধিক ক্রিকেটারের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন। কিন্তু প্রকাশ্যে আসা অনুশীলনের দৃশ্যে কোহলি ও গম্ভীরের মধ্যে সরাসরি কথাবার্তা দেখা যায়নি।
কোটাক প্রথমে কোহলি এবং পরে গম্ভীরের সঙ্গে কথা বলেন। এই কারণেই প্রশ্ন উঠেছে, কোনও প্রয়োজনীয় বার্তা কি ব্যাটিং প্রশিক্ষকের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল? বিষয়টি নিয়ে অবশ্য দলের তরফে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
কথা না বললেই কি বিবাদ?
একটি অনুশীলন পর্বে দু’জনকে কথা বলতে না দেখার ভিত্তিতে তাঁদের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে বলা যায় না। দলের প্রস্তুতিতে ক্রিকেটার এবং প্রশিক্ষকের দায়িত্ব আলাদা থাকে। প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে প্রধান প্রশিক্ষকের প্রতিটি অনুশীলনে আলাদা করে কথা বলাও বাধ্যতামূলক নয়।
প্রকাশ্যে আসা দৃশ্য অনুশীলনের সম্পূর্ণ সময়ের নয়। ক্যামেরার বাইরে কোহলি ও গম্ভীরের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল কি না, সেটাও জানা যায়নি। ফলে “কথা বন্ধ” কিংবা “দলে সংঘাত”, এমন দাবি এই মুহূর্তে অনুমাননির্ভর।
রোহিতদের সঙ্গে হাসিখুশি কোহলি
অনুশীলনে কোহলিকে বেশ স্বচ্ছন্দ দেখিয়েছে। তিনি রোহিত শর্মা এবং দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। দীর্ঘ সময় নেটে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি শারীরিক প্রস্তুতিতেও অংশ নেন।
গম্ভীরও রোহিত, লোকেশ রাহুল এবং অন্য ক্রিকেটারদের সঙ্গে পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। কিন্তু কোহলির সঙ্গে তাঁর দৃশ্যমান কথোপকথন না হওয়াই যাবতীয় জল্পনার কারণ।
আফগানিস্তান সিরিজে কেন খেলেননি কোহলি?
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ থেকে বিরাট কোহলিকে কেবল বিশ্রাম দেওয়া হয়নি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঊরুর পিছনের পেশিতে চোটের কারণে তিনি ওই সিরিজে খেলতে পারেননি।
আইপিএলের শেষ পর্যায়ে কোহলি এই চোট পেয়েছিলেন বলে জানানো হয়। তাঁর পরিবর্তে যশস্বী জয়সওয়ালকে ভারতীয় দলে নেওয়া হয়েছিল। তাই চোটের বিষয়টি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য ছিল না—এমন দাবি সঠিক নয়। কোহলির চোট নিয়ে তথ্য
সুস্থ হয়ে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজে ফিরেছেন কোহলি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ঘোষিত দলেও তাঁর নাম রয়েছে। ভারতের এক দিনের দল ও ম্যাচসূচি
অতীতে দু’বার প্রকাশ্য বিবাদ
কোহলি ও গম্ভীরের মধ্যে অতীতে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। গম্ভীর কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক থাকাকালীন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ক্রিকেটার কোহলির সঙ্গে মাঠে তাঁর তর্ক হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে গম্ভীর লখনউ সুপার জায়ান্টসের পথপ্রদর্শক থাকাকালীন আবার দু’জনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। সেই ঘটনায় আইপিএল কর্তৃপক্ষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিয়েছিল।
যদিও পরে দু’জনই পুরনো বিরোধ পিছনে ফেলার ইঙ্গিত দেন। ভারতীয় দলের অনুশীলনেও গম্ভীরকে কোহলির জন্য বল করতে এবং দু’জনকে ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করতে দেখা গিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাঁদের কথোপকথনের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানও প্রকাশ করেছিল।
চাপের মুখে গম্ভীর
সাম্প্রতিক সীমিত ওভারের সিরিজে ভারতের ফল প্রত্যাশামতো হয়নি। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ০-২ এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ০-৪ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারার পর দলের পরিকল্পনা ও নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই অবস্থায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ গম্ভীরের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। রোহিত ও কোহলির মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের প্রত্যাবর্তন ভারতীয় ব্যাটিংকে শক্তিশালী করেছে। প্রথম ম্যাচের আগেই ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় অবশ্য মাঠের প্রস্তুতি কিছুটা আড়ালে চলে গিয়েছে।
এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য শুধু এটুকুই, অনুশীলনের প্রকাশিত অংশে কোহলি ও গম্ভীরকে সরাসরি কথা বলতে দেখা যায়নি। তাঁদের মধ্যে নতুন করে বিবাদ বা মনোমালিন্য হয়েছে, এমন কোনও আনুষ্ঠানিক প্রমাণ নেই।
