সোনম ওয়াংচুককে মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিল দিল্লি হাই কোর্ট
নয়াদিল্লি: পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিল দিল্লি হাই কোর্ট। মঙ্গলবার তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর আবেদন শুনে এই নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ। শুনানির প্রথম পর্বে আদালত স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে চূড়ান্ত নির্দেশে ওয়াংচুককে তাঁর পছন্দের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকারও এই স্থানান্তরে কোনও আপত্তি জানায়নি।
কেন মেদান্তে স্থানান্তরের আবেদন?
পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশন করছেন ওয়াংচুক। স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় ১৮ জুলাই তাঁকে দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থল থেকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ওয়াংচুকের স্ত্রী দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন করে তাঁকে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতাল অথবা পরিবারের পছন্দের অন্য কোনও চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরের অনুমতি চান। তাঁর অভিযোগ ছিল, ওয়াংচুক গ্রেফতার না হলেও সফদরজং হাসপাতালে কার্যত নিজের চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা পাচ্ছেন না। ১৯ জুলাই একক বিচারপতির বেঞ্চ তাৎক্ষণিকভাবে স্থানান্তরের অনুমতি দেয়নি। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেন গীতাঞ্জলি।
চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলল আদালত
শুনানির সময় এইমস, সফদরজং হাসপাতাল এবং ওয়াংচুকের পরিচিত চিকিৎসকদের মতামত শোনে আদালত। চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিও পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকদের মধ্যে এই বিষয়ে মতৈক্য ছিল যে, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে ওয়াংচুককে হাসপাতালেই রেখে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর রক্তচাপ, নাড়ির গতি-সহ শরীরের প্রধান মাপকাঠিগুলি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে রক্তের কিছু পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েছে। শ্বেত রক্তকণিকা ও হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়।
দীর্ঘ অনশন, শরীরে জলের ঘাটতি এবং রক্ত পরীক্ষার ফলের কারণে তাঁকে একটানা চিকিৎসকদের নজরে রাখা জরুরি বলেও মত দেন তাঁরা। চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াংচুক শিরার মাধ্যমে তরল বা গ্লুকোজ নিতে রাজি হননি। তবে মুখে খাওয়ার জল-লবণের দ্রবণ গ্রহণ করছেন।
কেন্দ্র কী বলেছে?
কেন্দ্রের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি জানান, ওয়াংচুককে মেদান্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সরকারের আপত্তি নেই। হাসপাতালটিকে একটি স্বনামধন্য চিকিৎসাকেন্দ্র বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে মেহতা অনুরোধ করেন, চিকিৎসকদের পরামর্শের বিরুদ্ধে ওয়াংচুক যেন হাসপাতাল না ছাড়েন। তাঁকে কবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া যাবে, সেই সিদ্ধান্ত মেদান্তের চিকিৎসকদের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত বলেও জানান তিনি। আদালত জানিয়েছে, সফদরজং হাসপাতালে হওয়া পরীক্ষা, চিকিৎসার বিবরণ এবং প্রাসঙ্গিক নথি মেদান্ত কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে। এর ফলে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
অনশন চালিয়ে যেতে চান ওয়াংচুক
ওয়াংচুকের স্ত্রীর হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অখিল সিব্বল। তিনি আদালতকে জানান, ওয়াংচুক সচেতন অবস্থায় রয়েছেন এবং নিজের সিদ্ধান্তে অনশন চালিয়ে যেতে চান। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও একটানা চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে—এই মতের বিরোধিতা করেনি তাঁর পরিবার। সফদরজং হাসপাতালে যোগাযোগের উপর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি নিয়ে ওয়াংচুক যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সেই সংক্রান্ত একটি চিঠিও আদালতের সামনে রাখা হয়। তবে ওই অভিযোগগুলি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত জবাব এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
মেদান্তে স্থানান্তরের অনুমতি মিললেও ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করেছেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তাঁর চিকিৎসা এবং অনশনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত মেদান্তে ভর্তি হওয়ার পর স্পষ্ট হতে পারে।
