খেলাধুলা

ফেমা মামলায় বড় স্বস্তি, ১৬ বছর পর ভারতে ফেরার কথা জানালেন ললিত মোদী

নয়াদিল্লি: প্রায় ১৬ বছর বিদেশে থাকার পর ভারতে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানালেন আইপিএলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও কমিশনার ললিত মোদী। ২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় আইপিএল আয়োজনকে ঘিরে বিদেশি মুদ্রা আইন লঙ্ঘনের মামলায় আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর উপর আরোপিত জরিমানা বাতিল করেছে। সেই রায়ের পরই চলতি বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের গোড়ায় দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে ললিত মোদীর এই ঘোষণা এখনও তাঁর ব্যক্তিগত পরিকল্পনা। দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ জানাননি তিনি। আলোচ্য মামলার রায় তাঁর পক্ষে গেলেও ভারতে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্য কোনও আইনি বিষয় বা তদন্তের অবস্থার উপর এই রায়ের প্রভাব কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

কী বলেছেন ললিত মোদী?

বুধবার প্রকাশিত একটি ভিডিয়ো বার্তায় ললিত মোদী বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তিনি যে অবস্থান জানিয়ে এসেছেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ের মাধ্যমে সেটিই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তাঁর বিশ্বাস। আইপিএলের স্বার্থ রক্ষাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

ললিত মোদীর কথায়, এই আইনি অধ্যায় এখন পিছনে ফেলে ভবিষ্যতের দিকে এগোতে চান তিনি। তাঁর মেয়ে অক্টোবরে সন্তানের জন্ম দিতে পারেন। সেই পারিবারিক সময়টি কাটানোর পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭ সালের গোড়ায় ভারতে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন আইপিএল কর্তা।

কোন মামলায় স্বস্তি পেলেন?

২০০৯ সালে ভারতের সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে সময় মিলে যাওয়ায় আইপিএলের দ্বিতীয় মরসুম দক্ষিণ আফ্রিকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য ভারত থেকে বিদেশে অর্থ পাঠানো হয়।

প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই ওই অর্থ পাঠানো হয়েছিল, এই অভিযোগে বিদেশি মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইন বা ফেমার অধীনে ব্যবস্থা নেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ২০১৮ সালে ললিত মোদীর উপর ১০ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা-সহ বিসিসিআই এবং তৎকালীন কয়েকজন কর্মকর্তার উপর মোট ১২১ কোটি টাকার বেশি জরিমানা আরোপ করা হয়েছিল।

১৬ জুলাই দেওয়া রায়ে আপিল ট্রাইব্যুনাল জানায়, আইপিএল আয়োজনের জন্য মূল অর্থপ্রেরণগুলি মূলধনী লেনদেন নয়, সেগুলি চলতি খাতের লেনদেন। ফলে ওই লেনদেনগুলির জন্য আগে থেকে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনুমতি প্রয়োজন ছিল—এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের সেই মূল যুক্তি মানেনি ট্রাইব্যুনাল।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, বিসিসিআইয়ের ফেমা-সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার দায়িত্ব ললিত মোদীর উপর ছিল—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও তাঁর হাতে ছিল বলে যথেষ্ট তথ্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সেই কারণে মূল কার্যধারায় তাঁর উপর আরোপিত জরিমানা সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে।

বিসিসিআইয়ের সব জরিমানা কি বাতিল হয়েছে?

না। রায়ে ললিত মোদী সম্পূর্ণ স্বস্তি পেলেও বিসিসিআই ও অন্য কয়েকজন প্রাক্তন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে সব জরিমানা বাতিল হয়নি।

হিসাবে দেখানো অর্থের তুলনায় বেশি টাকা বিদেশে পাঠানোর একটি বিষয়ে বিসিসিআইয়ের বিরুদ্ধে চার কোটি টাকার জরিমানা বহাল রাখা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় টিকিট বিক্রির অর্থ ভারতে ফেরাতে দেরি হওয়ার আর একটি ঘটনায় বিসিসিআইয়ের জরিমানা চার কোটি টাকা থেকে কমিয়ে এক কোটি টাকা করা হয়েছে। কয়েকজন তৎকালীন কর্মকর্তার জরিমানাও কোনও ক্ষেত্রে কমানো এবং কোনও ক্ষেত্রে বহাল রাখা হয়েছে।

অতএব, রায়টিকে পুরো মামলার সব অভিযোগ খারিজ বলে দেখা ঠিক হবে না। নির্দিষ্ট কার্যধারায় ললিত মোদীর ব্যক্তিগত দায় প্রতিষ্ঠিত না হওয়াই তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি।

২০১০ সাল থেকে বিদেশে ললিত মোদী

আইপিএলের অন্যতম রূপকার ললিত মোদী প্রতিযোগিতাটির প্রথম চেয়ারম্যান ও কমিশনার ছিলেন। ২০১০ সালে বিসিসিআই তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার পর তিনি ভারত ছেড়ে চলে যান। পরবর্তী সময়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, আয়কর দপ্তর এবং বিসিসিআইয়ের একাধিক তদন্ত ও কার্যধারার মুখোমুখি হন।

বর্তমান রায়টি ২০০৯ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা আইপিএল আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট ফেমা মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই এই রায়ের ভিত্তিতে ললিত মোদীর বিরুদ্ধে অতীতের সমস্ত অভিযোগ বা আইনি বিষয় নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।