আন্তর্জাতিক

Mindanao earthquake: ফিলিপিন্সে ৬.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা নেই

ম্যানিলা: Mindanao earthquake বা মিন্ডানাও ভূমিকম্প ঘিরে শুক্রবার আতঙ্ক ছড়াল দক্ষিণ ফিলিপিন্সে। মিন্ডানাওয়ের দক্ষিণ উপকূলের কাছে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস বা GFZ-এর প্রাথমিক হিসাবে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.৪। উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২৯ কিলোমিটার গভীরে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রাথমিক হিসাবে মাত্রা ও গভীরতায় সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা সুনামি সতর্কতার খবর পাওয়া যায়নি।

এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট

  • দক্ষিণ ফিলিপিন্সের মিন্ডানাওয়ের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
  • GFZ-এর প্রাথমিক হিসাবে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.৪।
  • কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২৯ কিলোমিটার গভীরে।
  • তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির নিশ্চিত খবর মেলেনি।
  • ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারির খবর পাওয়া যায়নি।
  • আফটারশকের সম্ভাবনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।

কম্পনের জেরে মিন্ডানাওয়ের একাধিক এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই নিরাপত্তার কথা ভেবে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। ভূমিকম্পটি কতটা ক্ষতি করেছে, তা নিয়ে এখনও পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব সামনে আসেনি। তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

কতটা শক্তিশালী ছিল ভূমিকম্প?

GFZ-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬.৪। উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২৯ কিলোমিটার গভীরে। এই ধরনের কম্পন সাধারণত বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হতে পারে। তবে বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল, গভীরতা, স্থানীয় মাটির গঠন এবং জনবসতির ঘনত্বের ওপর।

ভূমিকম্পের পর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির প্রাথমিক হিসাবে কখনও কখনও সামান্য পার্থক্য দেখা যায়। পরে আরও তথ্য হাতে এলে মাত্রা, গভীরতা বা কেন্দ্রস্থল নিয়ে সংশোধিত তথ্য প্রকাশ হতে পারে। তাই এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে সরকারি ও স্বীকৃত ভূতাত্ত্বিক সংস্থার আপডেটের ওপর নজর রাখা জরুরি।

সুনামি সতর্কতা জারি হয়নি

শক্তিশালী ভূমিকম্প হলেও এই ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনও সুনামি সতর্কতা জারির খবর পাওয়া যায়নি। সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে অগভীর ও বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে সুনামির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে এই ভূমিকম্পের পর আপাতত সেই ধরনের সতর্কবার্তা সামনে আসেনি।

তার পরেও উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা জরুরি। ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। তাই সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো অযাচাই তথ্যের বদলে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নির্দেশিকাই অনুসরণ করা উচিত।

কেন ভূমিকম্পপ্রবণ ফিলিপিন্স?

ফিলিপিন্স বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটি প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। এই অঞ্চলে একাধিক টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল রয়েছে। ফলে এখানে প্রায়ই ছোট-বড় ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা দেখা যায়।

ফিলিপাইন সি প্লেট এবং আশপাশের অন্যান্য প্লেটের পারস্পরিক চাপের কারণে ভূত্বকে শক্তি জমা হয়। সেই শক্তি হঠাৎ নির্গত হলে ভূমিকম্প তৈরি হয়। এই কারণেই ফিলিপিন্সে ভূমিকম্প নতুন ঘটনা নয়। তবে প্রতিটি বড় কম্পনের পর পরিকাঠামো ও উপকূলীয় নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা জরুরি হয়ে পড়ে।

ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়

প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, কম্পন একাধিক এলাকায় অনুভূত হয়েছে। তবে রাস্তা, সেতু, বাড়িঘর বা গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর বড় ক্ষতির কোনও নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। স্থানীয় পর্যায়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ভূমিকম্পের পর আফটারশক হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি, ফাটল ধরা ভবন বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দ্রুত ফিরে যাওয়া নিরাপদ নাও হতে পারে।

ভূমিকম্পের পর কী সতর্কতা জরুরি?

ভূমিকম্পের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আফটারশকের সম্ভাবনা থাকায় আতঙ্কিত না হয়ে খোলা ও নিরাপদ জায়গায় থাকা ভালো। বিদ্যুৎ লাইন, গ্যাস সংযোগ বা পানির পাইপে ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে স্থানীয় নির্দেশিকা মেনে চলা উচিত।

উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের সুনামি সংক্রান্ত সরকারি আপডেটের দিকে নজর রাখা দরকার, যদিও এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনও সুনামি সতর্কতা জারির খবর পাওয়া যায়নি। গুজব এড়িয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

সামনে কী নজর থাকবে?

এখন নজর থাকবে ক্ষয়ক্ষতির সরকারি হিসাব, সম্ভাব্য আফটারশক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির পরবর্তী আপডেটের দিকে। Mindanao earthquake-এর মতো শক্তিশালী কম্পনের পর উপকূলীয় সতর্কতা, ভবন পরীক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে দক্ষিণ ফিলিপিন্সের এই ভূমিকম্প আপাতত বড় বিপর্যয়ের আকার নেয়নি বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতা বজায় রাখাই সবচেয়ে জরুরি।


তথ্যসূত্র: German Research Centre for Geosciences (GFZ), USGS ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন

Avatar photo

Bapan Biswas

বাপন বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক। তিনি সাইটের সম্পাদকীয় পরিকল্পনা, তথ্য যাচাই এবং সংবাদ প্রকাশনার দায়িত্বে রয়েছেন। দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, ব্যবসা-বাণিজ্য, খেলাধুলা ও বিনোদনের খবর সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে সহজ বাংলায় পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *