রিষড়া রামনবমী অশান্তি মামলায় NIA-র বড় পদক্ষেপ, গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলার শাকির আলি
২০২৩ সালের রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে হুগলির রিষড়ায় সংঘটিত অশান্তির তদন্তে বড় পদক্ষেপ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। মঙ্গলবার সকালে রিষড়ায় প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁর স্বামী তথা রিষড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার শাকির আলিকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শাকির আলির বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। সেই ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে মামলার বিচারাধীন অবস্থায় অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যায় না।
এক নজরে:
• ২০২৩ সালের রিষড়া রামনবমী অশান্তি মামলায় এনআইএ-র অভিযান
• প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের স্বামী শাকির আলি গ্রেফতার
• তিনি রিষড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার
• কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় বাড়িতে তল্লাশি চালায় এনআইএ
• অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত শাকির আলি আইনত দোষী নন
সকালেই বাড়ি ঘিরে তল্লাশি
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় এনআইএ-র একটি দল রিষড়ায় শাকির আলির বাড়িতে পৌঁছয়। বাড়ি ঘিরে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। তদন্তকারীরা বেশ কিছুক্ষণ ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা কাউকে বাড়ির কাছাকাছি যেতে দেননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় পুলিশও এলাকায় নজরদারি চালায়।
২০২৩ সালের রিষড়া অশান্তি মামলায় পদক্ষেপ
২০২৩ সালের রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে রিষড়ায় অশান্তি ছড়ায়। অভিযোগ ওঠে, এলাকায় পাথর ছোড়া, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং বোমাবাজির মতো ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে নামতে হয়। ওই ঘটনায় একাধিক মানুষ আহত হন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে যায়। তদন্ত চলাকালীন বিভিন্ন তথ্য, ডিজিটাল প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই শাকির আলির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে নতুন চর্চা
গ্রেফতার হওয়া শাকির আলি রিষড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার। তাঁর স্ত্রী অপরূপা পোদ্দার আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ছিলেন। ২০১৪ ও ২০১৯ সালে তিনি ওই কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অবশ্য দল তাঁকে প্রার্থী করেনি।
শাসকদলের এক প্রাক্তন সাংসদের পরিবারের সদস্যকে এনআইএ গ্রেফতার করায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে সামনে রেখে রামনবমী অশান্তি, আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক দায় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
তদন্তের পরবর্তী ধাপ কী?
এনআইএ এখন শাকির আলিকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, রিষড়া অশান্তির সময় তাঁর ভূমিকা কী ছিল, কোনও পরিকল্পিত যোগ ছিল কি না এবং আরও কেউ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা।
ডিজিটাল প্রমাণ, ফোনের তথ্য, যোগাযোগের নথি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে তদন্ত চলার কারণে কেন্দ্রীয় সংস্থা এখনও সব তথ্য প্রকাশ্যে আনেনি।
আদালতের দিকেই নজর
রিষড়া রামনবমী অশান্তি মামলায় এই গ্রেফতার তদন্তে নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এটি এখনও তদন্তাধীন ও বিচারাধীন বিষয়। তাই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী বলা যায় না।
আগামী দিনে আদালতে এনআইএ কী তথ্য পেশ করে, শাকির আলির হেফাজত নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয় এবং তদন্তে আরও কারও নাম উঠে আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর থাকবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
