গুয়াহাটির খারঘুলিতে ৫৫ কোটির সোনার হদিশ! গ্রেফতার মহারাষ্ট্রের যুবক
গুয়াহাটি সোনা উদ্ধার মামলায় অসম পুলিশ বড় সাফল্য পেয়েছে। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুয়াহাটির খারঘুলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৭ কেজির বেশি সন্দেহভাজন পাচার হওয়া সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সোনার বাজারমূল্য আনুমানিক ৫৪ থেকে ৫৫ কোটি টাকা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় মহারাষ্ট্রের সাংলি জেলার বাসিন্দা ৩২ বছরের অক্ষয় বানসোদে নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া সোনা কোনও বড় আন্তঃরাজ্য বা আন্তর্জাতিক পাচার নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে। তবে সোনার উৎস, গন্তব্য এবং এই ঘটনার সঙ্গে আরও কারা যুক্ত, তা জানতে তদন্ত চলছে।
এক নজরে:
• গুয়াহাটির খারঘুলি এলাকায় বিশেষ অভিযানে ৩৭ কেজির বেশি সোনা উদ্ধার
• উদ্ধার হওয়া সোনার বাজারমূল্য আনুমানিক ৫৪ থেকে ৫৫ কোটি টাকা
• মহারাষ্ট্রের সাংলি জেলার বাসিন্দা অক্ষয় বানসোদে গ্রেফতার
• ৪টি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও সোনা বহনের ব্যাগ বাজেয়াপ্ত
• সোনা পাচারের আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক যোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ
খারঘুলিতে অভিযান, উদ্ধার বিপুল সোনা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন খবরের ভিত্তিতে গুয়াহাটি সিটি পুলিশের বিশেষ দল এবং লতাশিল থানার পুলিশ খারঘুলি এলাকায় অভিযান চালায়। সেই অভিযানে ৩৭ কেজির বেশি সন্দেহভাজন পাচার হওয়া সোনা উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সোনার বেশিরভাগই ২৪ ক্যারেটের সোনার বার।
সোনার পাশাপাশি কয়েকটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং সোনা বহনের কাজে ব্যবহৃত ব্যাগও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই উদ্ধার সাম্প্রতিক সময়ে অসমে সোনা পাচার বিরোধী অভিযানের অন্যতম বড় সাফল্য।
আরও পড়ুন: ভারত -পাক সম্পর্কে ফের ট্র্যাক-২ আলোচনা ঘিরে জল্পনা, সরকারি যোগ অস্বীকার নয়াদিল্লির
দুই মাস ধরে গুয়াহাটিতে ছিল অভিযুক্ত
গ্রেফতার হওয়া অক্ষয় বানসোদে মহারাষ্ট্রের সাংলি জেলার বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তিনি গত প্রায় দু’মাস ধরে গুয়াহাটিতে থাকছিলেন। তাঁকে সোনা পাচারের বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের সন্দেহ, অভিযুক্ত নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এই কাজে যুক্ত থাকতে পারেন। তিনি এর আগেও কোনও চালান বহন করেছেন কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর মোবাইল ফোন, যোগাযোগের তালিকা, ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য এবং আর্থিক লেনদেন এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।
আন্তর্জাতিক যোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের হাতে এমন কিছু তথ্য এসেছে, যার ভিত্তিতে এই সোনা পাচারের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য বা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলির তথ্য, অভিযুক্তের যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং যাতায়াতের রুট বিশ্লেষণ করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ এখনও সোনার আসল উৎস বা চূড়ান্ত গন্তব্য প্রকাশ করেনি। তদন্তকারীদের মতে, এত বিপুল পরিমাণ সোনা একা একজনের পক্ষে বহন বা পরিচালনা করা কঠিন। তাই এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত আছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
কোন পথে গুয়াহাটিতে এল এত সোনা?
এই ঘটনার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, এত বিপুল পরিমাণ সোনা গুয়াহাটিতে কীভাবে পৌঁছল। উত্তর-পূর্ব ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান একাধিক আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি। সেই কারণে এই অঞ্চলের কিছু রুট পাচারকারীরা ব্যবহার করে থাকে বলে আগেও অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, সোনা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে আনা হয়েছিল, নাকি দেশের ভেতরেই কোনও বড় শহর থেকে গুয়াহাটিতে পৌঁছেছিল। একই সঙ্গে এই সোনা কোথায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আরও গ্রেফতারির সম্ভাবনা
গুয়াহাটি সোনা উদ্ধার মামলায় ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের অন্য সদস্যদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁর মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর ফরেন্সিক পরীক্ষা করা হতে পারে।
পুলিশের মতে, এই ধরনের বড় চালান সাধারণত সংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই এর সঙ্গে আরও কয়েকজন যুক্ত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের সঙ্গেও তথ্য ভাগ করা হতে পারে।
অসম পুলিশের বড় সাফল্য
গুয়াহাটি সোনা উদ্ধার শুধু একটি বড় বাজেয়াপ্তি নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতে সক্রিয় পাচার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। পুলিশ এখন সোনার উৎস, গন্তব্য, অর্থের লেনদেন এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগ—সব দিক খতিয়ে দেখছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো চক্র সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্ধার অসম পুলিশের কাছে বেআইনি সোনা পাচার রুখতে একটি বড় সাফল্য বলেই মনে করা হচ্ছে। তদন্তের পরই সোনার উৎস, গন্তব্য এবং চক্রের বিস্তার সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসবে।
