দেশ

দৌসায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা: জ্বলন্ত বাসে পুড়ে মৃত্যু ৮ জনের, জখম ২২

রাজস্থানের দৌসা জেলায় দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অন্তত ৮ জন। বুধবার ভোররাতে একটি যাত্রীবাহী বাস সামনে থাকা ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার পর আগুন ধরে যায়। ঘটনায় আহত হয়েছেন ২২ জনের বেশি যাত্রী। আহতদের দৌসা-সহ আশপাশের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসটি উত্তরাখণ্ড থেকে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের দিকে যাচ্ছিল। বাসে প্রায় ৩৭ জন যাত্রী ছিলেন। দৌসা জেলার কোলওয়া থানা এলাকার ধানাওদা গ্রামের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষের পর বাসে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বহু যাত্রী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

এক নজরে:
• দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ
• সংঘর্ষের পর যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরে যায়
• ঘটনায় অন্তত ৮ জনের মৃত্যু
• আহত হয়েছেন ২২ জনের বেশি
• দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ

ভোররাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বুধবার ভোরের দিকে বাসটি দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ে ধরে ইন্দোরের দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় সামনে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। ধাক্কার অভিঘাতে বাসে আগুন ধরে যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

ঘটনার সময় বহু যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। আচমকা ধাক্কা ও আগুনে তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। কয়েকজন যাত্রী কোনওভাবে বাস থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও, কয়েকজন আগুনের মধ্যে আটকে পড়েন।

উদ্ধারকাজে নামে স্থানীয়রা, পরে পৌঁছয় পুলিশ-দমকল

দুর্ঘটনার পর প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। তাঁরা আহতদের বাস থেকে বের করার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল এবং প্রশাসনের জরুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

দৌসা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দগ্ধ দেহ উদ্ধার এবং মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজও শুরু হয়েছে। কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।



নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা

দুর্ঘটনার পর বাসের বড় অংশ পুড়ে যাওয়ায় মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে উঠেছে। পুলিশ নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। প্রয়োজন হলে ডিএনএ পরীক্ষা বা অন্যান্য প্রক্রিয়ার সাহায্য নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন যাত্রী আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান। আবার কয়েকজনের মৃত্যু হয় সংঘর্ষের অভিঘাতে গুরুতর আঘাতের কারণে। আহতদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আরো পড়ুন: রিষড়া রামনবমী অশান্তি মামলায় NIA-র বড় পদক্ষেপ, গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলার শাকির আলি

দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত গতি, চালকের অসাবধানতা, কম দৃশ্যমানতা, ক্লান্তি, নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাস ও ট্রাকের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা করা হচ্ছে।

দৌসা পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দুর্ঘটনার সময় বাসটির গতি কত ছিল, ট্রাকটি এক্সপ্রেসওয়ের কোন লেনে চলছিল এবং সংঘর্ষের আগে কোনও ব্রেক নেওয়া হয়েছিল কি না, সেই তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

যান চলাচলেও প্রভাব

দুর্ঘটনার জেরে দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ের ওই অংশে কিছু সময় যান চলাচলে প্রভাব পড়ে। আগুন নেভানো, আহতদের সরানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাস ও ট্রাক সরানোর কাজ শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা শুরু হয়।

এক্সপ্রেসওয়ের মতো দ্রুতগতির সড়কে এমন দুর্ঘটনা ঘটায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে রাতের যাত্রা, দীর্ঘ দূরত্বের বাস পরিষেবা এবং চালকদের বিশ্রামের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে ফের উঠল প্রশ্ন

দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দ্রুতগতির সড়কপথ। কিন্তু দ্রুতগতির যাত্রা, রাতের কম দৃশ্যমানতা এবং দীর্ঘ সময় একটানা গাড়ি চালানোর মতো কারণ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত সড়ক পরিকাঠামোর পাশাপাশি নিয়মিত গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কারণ এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা ঘটলে তার অভিঘাত অনেক সময় ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

তদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা

দৌসা বাস দুর্ঘটনায় আপাতত পুলিশের তদন্ত চলছে। মৃতদের পরিচয়, আহতদের চিকিৎসা, দুর্ঘটনার কারণ এবং বাস-ট্রাকের গতিপথ—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় নির্ধারণ আরও স্পষ্ট হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাজস্থান থেকে উত্তরাখণ্ড ও মধ্যপ্রদেশের একাধিক পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য এখন আহতদের চিকিৎসা, মৃতদের শনাক্তকরণ এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।