লিটারে ৫ টাকা কমল পেট্রোল, ডিজেলে ৩ টাকা ছাড়, কলকাতায় দাম কত?
জ্বালানির দামের চাপে দীর্ঘদিন ধরেই নাজেহাল সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী মহল। এর মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির খবর দিল বেসরকারি তেল বিপণন সংস্থা Nayara Energy। বুধবার থেকে সারা দেশে নিজেদের খুচরো বিক্রয়কেন্দ্রে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা কমানোর ঘোষণা করেছে সংস্থাটি।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে শিল্পমহল সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে এই দাম কমার সুবিধা আপাতত Nayara Energy-র পাম্পেই মিলবে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা IOC, BPCL এবং HPCL এখনও পেট্রোল ও ডিজেলের দামে কোনও পরিবর্তন ঘোষণা করেনি।
এক নজরে:
• Nayara Energy পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৫ টাকা কমিয়েছে
• ডিজেলের দাম কমেছে লিটার প্রতি ৩ টাকা
• নতুন দাম কার্যকর হয়েছে সংস্থার ৭,০০০-এর বেশি পাম্পে
• IOC, BPCL ও HPCL এখনও দাম অপরিবর্তিত রেখেছে
• ১৯ কেজির বাণিজ্যিক LPG সিলিন্ডারের দামও কমেছে
কেন কমল পেট্রোল-ডিজেলের দাম?
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমার জেরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে Nayara Energy। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কিছুটা কমায় এবং জ্বালানি সরবরাহের আশঙ্কা কমে আসায় বিশ্ববাজারে ক্রুড অয়েলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে।
সংস্থার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেই সুবিধার একটি অংশ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তবে রাজ্যভেদে VAT এবং অন্যান্য স্থানীয় কর আলাদা হওয়ায় প্রতিটি রাজ্যে পাম্পে চূড়ান্ত দাম কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
আরো পড়ুন: বড় স্বস্তি! এক ধাক্কায় ১৮৩ টাকা কমল LPG সিলিন্ডারের দাম
৭,০০০-এর বেশি পাম্পে নতুন দাম
Nayara Energy-র দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৭,০০০-এর বেশি খুচরো জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এই সব পাম্পেই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে। ফলে যে গ্রাহকরা নায়ারার পাম্প থেকে পেট্রোল বা ডিজেল কিনবেন, তাঁরা এই মূল্যছাড়ের সুবিধা পাবেন।
প্রায় আড়াই বছরেরও বেশি সময় পরে কোনও বড় জ্বালানি সংস্থা খুচরো জ্বালানির দামে এমন কাটছাঁট করল। তাই বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত জ্বালানি বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে।
মার্চে বাড়ানো দাম কার্যত প্রত্যাহার
পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল। সেই সময় Nayara Energy পেট্রোল ও ডিজেলের দামে যথাক্রমে ৫ টাকা এবং ৩ টাকা বৃদ্ধি করেছিল বলে শিল্পমহল সূত্রে জানা যায়। এবার আন্তর্জাতিক বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় সেই অতিরিক্ত দাম কার্যত প্রত্যাহার করা হল।
সংস্থার গুজরাটের ভাদিনার রিফাইনারি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সংস্থার সরবরাহ ব্যবস্থা এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
সরকারি তেল সংস্থাগুলির অবস্থান কী?
Nayara Energy দাম কমালেও রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি এখনও একই পথে হাঁটেনি। Indian Oil Corporation, Bharat Petroleum এবং Hindustan Petroleum পেট্রোল ও ডিজেলের দামে কোনও নতুন সংশোধন ঘোষণা করেনি।
দিল্লিতে IOC পাম্পে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আপাতত অপরিবর্তিত রয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে। ফলে আগামী দিনে সরকারি তেল সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি দেখে দাম কমায় কি না, সেদিকেই নজর রাখছেন গ্রাহক ও বাজার বিশেষজ্ঞরা।
বাণিজ্যিক LPG-তেও স্বস্তি
পেট্রোল ও ডিজেলের পাশাপাশি বাণিজ্যিক LPG সিলিন্ডারের দামেও ছাড় মিলেছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলি ১৯ কেজির বাণিজ্যিক LPG সিলিন্ডারের দাম ১৮৩ টাকা ৫০ পয়সা কমিয়েছে। দিল্লিতে এই সিলিন্ডারের নতুন দাম হয়েছে ২,৯৩০ টাকা।
তবে গৃহস্থালির ১৪.২ কেজি LPG সিলিন্ডারের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ এই ছাড় মূলত হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্যাটারিং সংস্থা, ধাবা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবসায়ীদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
জ্বালানির দাম কমলে সরাসরি ব্যক্তিগত যানবাহনের খরচ কমে। পাশাপাশি পরিবহণ ব্যয় কমলে খাদ্যপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং বিভিন্ন পরিষেবার খরচেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে বাণিজ্যিক LPG সিলিন্ডারের দাম কমায় হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং খাদ্য ব্যবসার পরিচালন ব্যয় কিছুটা কমতে পারে। তবে এই সুবিধা শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকদের কাছে কতটা পৌঁছবে, তা নির্ভর করবে বাজারের প্রতিযোগিতা এবং ব্যবসায়ীদের মূল্যনীতির উপর।
সামনে কী হতে পারে?
Nayara Energy-র এই সিদ্ধান্তের পর এখন নজর থাকবে সরকারি তেল সংস্থাগুলির দিকে। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম যদি স্থিতিশীল বা নিম্নমুখী থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য সংস্থাগুলিও দাম সংশোধনের পথে হাঁটতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
তবে জ্বালানির দাম শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের উপর নির্ভর করে না। কর, মুদ্রার বিনিময় হার, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং সংস্থাগুলির নিজস্ব খরচও চূড়ান্ত দামে প্রভাব ফেলে। তাই আপাতত Nayara Energy-র গ্রাহকদের জন্য স্বস্তি এলেও, সার্বিক জ্বালানি বাজারে বড় পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।
