Ronaldo ঐতিহাসিক গোল, নাটকীয় জয়ে স্পেনের মুখোমুখি পর্তুগাল
Ronaldo ৪১ বছর বয়সেও বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাস লিখলেন। টরন্টোতে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করে পর্তুগালকে ম্যাচে ফেরালেন তিনি। পরে যোগ করা সময়ে গনসালো রামোসের হেডারে ২-১ জয় পেল পর্তুগাল। এই জয়ের ফলে রবের্তো মার্তিনেসের দল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল। সামনে অপেক্ষা করছে স্পেন। ইউরোপের দুই শক্তিশালী দলের এই লড়াই ঘিরে এখন থেকেই ফুটবলমহলে আগ্রহ বাড়ছে।
প্রথমার্ধে চাপ ছিল, গোল এল না
ম্যাচের শুরু থেকে বলের দখলে পর্তুগাল এগিয়ে ছিল। রাফায়েল লেয়াও, ব্রুনো ফের্নান্দেস ও পেদ্রো নেতো ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণে চাপ তৈরি করেন। রোনালদোও কয়েকবার বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছন। কিন্তু শেষ পাস ও গোলমুখে নিখুঁততার অভাবে প্রথমার্ধে গোল পায়নি পর্তুগাল। ক্রোয়েশিয়া শুরুতে সতর্ক ফুটবল খেলেছে। মাঝমাঠে লুকা মদ্রিচ ও মাতেও কোভাচিচ বল ধরে রেখে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। দোমিনিক লিভাকোভিচের নেতৃত্বে রক্ষণভাগও প্রথমার্ধে পর্তুগালকে আটকে রাখে।
আরো পড়ুন: England vs DR Congo: Kane-এর জোড়া গোলে ২-১ জয়, অঘটন এড়াল ইংল্যান্ড
পেরিশিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি বদলে যায়। ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিশিচ গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন। গোলের পর পর্তুগাল চাপের মধ্যে পড়ে যায়। নকআউট ম্যাচে এক গোল পিছিয়ে পড়লে যে অস্থিরতা তৈরি হয়, পর্তুগালের খেলাতেও সেই চাপ স্পষ্ট ছিল। তবুও পর্তুগাল আক্রমণ থামায়নি। দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ বাড়াতে থাকে তারা। ক্রোয়েশিয়া তখন রক্ষণ শক্ত করে ম্যাচ ধরে রাখার চেষ্টা করছিল।
পেনাল্টি থেকে ইতিহাস Ronaldo
৬৮ মিনিটে পর্তুগালের জন্য আসে বড় সুযোগ। বক্সের ভিতরে ফাউলের ঘটনায় ভিএআর দেখার পর পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। চাপের মুহূর্তে বল হাতে নেন রোনালদো। ঠান্ডা মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করে তিনি ম্যাচে সমতা ফেরান। এই গোল শুধু পর্তুগালকে ম্যাচে ফেরায়নি, রোনালদোর কেরিয়ারেও বিশেষ মুহূর্ত হয়ে থাকল। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি তাঁর প্রথম গোল। ৪১ বছর বয়সে সেই গোল করে তিনি আবারও দেখালেন, বড় ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি এখনও কতটা মূল্যবান।
শেষ মুহূর্তে রামোসের হেডার
সমতা ফেরার পর ম্যাচ আরও খোলা হয়ে যায়। ক্রোয়েশিয়াও সুযোগ খুঁজছিল। শেষদিকে তাদের একটি গোল ভিএআর-এ অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ফলে স্কোর তখনও ১-১। এরপর যোগ করা সময়ে পর্তুগালের জয়ের মুহূর্ত আসে। গনসালো রামোস দুর্দান্ত হেডারে বল জালে পাঠান। বদলি হিসেবে নেমে তাঁর এই গোল ম্যাচের ফল বদলে দেয়। রোনালদো ইতিহাস গড়লেন, আর রামোস হয়ে উঠলেন ম্যাচের নায়ক।
স্পেন ম্যাচের আগে ভাবনা বাড়ল
শেষ ষোলোয় স্পেনের বিরুদ্ধে পর্তুগালের লড়াই সহজ হবে না। স্পেন বল দখল, দ্রুত পাসিং ও চাপ তৈরি করে খেলার জন্য পরিচিত। তাই পর্তুগালকে আরও সংগঠিত ফুটবল খেলতে হবে। ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে রোনালদোর অভিজ্ঞতা যেমন কাজে এসেছে, তেমনই রামোসের প্রভাবও চোখে পড়েছে। স্পেনের বিরুদ্ধে আক্রমণভাগ কীভাবে সাজানো হবে, সেটাই এখন মার্তিনেসের বড় সিদ্ধান্তগুলির একটি।
মদ্রিচের জন্য কঠিন রাত
ক্রোয়েশিয়ার জন্য এই হার ছিল হতাশার। লুকা মদ্রিচ দীর্ঘদিন ধরে ক্রোয়েশিয়া ফুটবলের মুখ। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং ২০২২ সালের শক্তিশালী অভিযানে তাঁর ভূমিকা ছিল বড়। পর্তুগালের বিরুদ্ধে হার তাঁদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ করে দিল। তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছে।ম্যাচ শেষে পর্তুগাল শিবিরে আবেগও দেখা যায়। প্রয়াত সতীর্থ দিয়োগো জোতাকে স্মরণ করা হয়। রোনালদোকেও আবেগপ্রবণ দেখা যায়। জয়, ইতিহাস আর স্মৃতির মিশেলে রাতটি পর্তুগাল ফুটবলের জন্য বিশেষ হয়ে থাকল।
শেষ কথা
ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠল পর্তুগাল। রোনালদো পেলেন বহু প্রতীক্ষিত নকআউট গোল, রামোস দিলেন জয়ের মুহূর্ত, আর দল পেল স্পেনের বিরুদ্ধে বড় ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাস।তবে সামনে পরীক্ষা আরও কঠিন। স্পেনের বিরুদ্ধে পর্তুগালকে আরও দ্রুত, সংগঠিত এবং সতর্ক ফুটবল খেলতে হবে। ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ দেখিয়েছে, চাপের মুহূর্তে পর্তুগাল ফিরতে পারে। এবার দেখার, সেই মানসিক শক্তি তারা স্পেনের বিরুদ্ধেও ধরে রাখতে পারে কি না।
সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন।
