খেলাধুলা

ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে হ্যারি কেনের জোড়া গোল, অঘটন এড়াল ইংল্যান্ড

আটলান্টা: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ বত্রিশের ম্যাচে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন করল ইংল্যান্ড। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে ০-১ গোলে পিছিয়ে পড়েও হ্যারি কেনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পেল টমাস টুখেলের দল। ম্যাচের ৭ মিনিটে ব্রায়ান সিপেঙ্গা ডিআর কঙ্গোকে এগিয়ে দেন। দীর্ঘ সময় এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি আফ্রিকার দলটি। ৭৫ মিনিটে সমতা ফেরান ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। এরপর ৮৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচের ফল বদলে দেন তিনি। প্রথমার্ধে বড় অঘটনের ইঙ্গিত তৈরি হয়েছিল। প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে নেমে ডিআর কঙ্গো আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছিল। কিন্তু শেষ ১৫ মিনিটে ইংল্যান্ড চাপ বাড়ায়। সেই চাপের ফলেই ম্যাচের ছবি পাল্টে যায়।

এক নজরে

  • ইংল্যান্ড ২-১ ডিআর কঙ্গো
  • ৭ মিনিটে ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে এগিয়ে যায় ডিআর কঙ্গো
  • ৭৫ মিনিটে হ্যারি কেন ইংল্যান্ডের হয়ে সমতা ফেরান
  • ৮৬ মিনিটে কেনের দ্বিতীয় গোলে জয় নিশ্চিত হয়
  • এই জয়ের ফলে পরের রাউন্ডে মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড

ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা ইংল্যান্ডের

ম্যাচের শুরুটা ইংল্যান্ডের জন্য মোটেই ভালো ছিল না। প্রথমার্ধের মাত্র ৭ মিনিটে ডিআর কঙ্গো এগিয়ে যায়। চান্সেল এমবেম্বার লম্বা বল ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ ঠিকমতো সামলাতে পারেনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্রায়ান সিপেঙ্গা নিচু শটে জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করেন। শুরুতেই গোল খেয়ে ইংল্যান্ড কিছুটা চাপে পড়ে যায়। তবে গোলের পর ডিআর কঙ্গো শুধু রক্ষণে বসে থাকেনি। দ্রুত চাপ তৈরি, পাল্টা আক্রমণ এবং শক্তিশালী ফুটবল দিয়ে তারা ইংল্যান্ডকে বারবার অস্বস্তিতে ফেলে। ইংল্যান্ড বলের দখল রাখলেও প্রথমার্ধে তাদের আক্রমণে ধার ছিল না। হ্যারি কেন অনেক সময় একা পড়ে যাচ্ছিলেন। জুড বেলিংহ্যাম ও মার্কাস র‍্যাশফোর্ড চেষ্টা করলেও শেষ পাস এবং গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর জায়গায় সমস্যা হচ্ছিল।

প্রথমার্ধে ডিআর কঙ্গোর রক্ষণে দৃঢ়তা

প্রথমার্ধে ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। ইংল্যান্ড কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও এমপাসি ও ডিআর কঙ্গোর রক্ষণভাগ বারবার বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ডিআর কঙ্গোর রক্ষণভাগ খুব আঁটসাঁট ছিল। ফলে ইংল্যান্ড বক্সের সামনে জায়গা পেলেও পরিষ্কার শট নিতে পারছিল না। হাফটাইমে ইংল্যান্ড ০-১ গোলে পিছিয়ে ছিল।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলে গেল ম্যাচের গতি

দ্বিতীয়ার্ধে ধীরে ধীরে ম্যাচের গতি বদলাতে শুরু করে। টমাস টুখেলের দল মাঝমাঠ থেকে দ্রুত বল আক্রমণভাগে তুলতে থাকে। দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ বাড়ে। সেট-পিস থেকেও চাপ তৈরি হয়। ইংল্যান্ড বুঝতে পারে, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং দ্রুত গোল দরকার। ৭৫ মিনিটে সেই চাপের ফল মেলে। হ্যারি কেন ইংল্যান্ডের হয়ে সমতা ফেরান।

এই গোলের পর ইংল্যান্ড নতুন আত্মবিশ্বাস পায়। ডিআর কঙ্গো লিড হারানোর পর রক্ষণ আরও শক্ত করার চেষ্টা করে, কিন্তু তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে ইংল্যান্ডের দিকে চলে যায়। ৮৬ মিনিটে আবারও গোল করেন কেন। এই দ্বিতীয় গোলেই ইংল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। শেষ কয়েক মিনিটে ডিআর কঙ্গো সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ আর বড় ভুল করেনি।

ম্যাচের মোড় ঘোরালেন হ্যারি কেন

এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠলেন হ্যারি কেন। প্রথমার্ধে তিনি খুব বেশি পরিষ্কার সুযোগ পাননি। কিন্তু বড় স্ট্রাইকাররা কম সুযোগ থেকেও ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারেন—কেন আবার সেটাই দেখালেন। ৭৫ মিনিটে তাঁর প্রথম গোল ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরায়। এরপর ৮৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে তিনি শুধু দলকে এগিয়ে দেননি, ডিআর কঙ্গোর অঘটনের স্বপ্নও প্রায় শেষ করে দেন। চাপের মুহূর্তে শান্ত থেকে গোল করার ক্ষমতাই কেনকে আলাদা করে দিল।

কেন এই জয় গুরুত্বপূর্ণ?

এই ম্যাচ ইংল্যান্ডের জন্য বড় পরীক্ষা ছিল। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে নকআউটে উঠলেও ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের খেলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। রক্ষণভাগ কিছুটা নড়বড়ে ছিল। মাঝমাঠ থেকেও দ্রুত সহায়তা আসছিল না। এগিয়ে থাকার মতো দল হয়েও তারা শুরুতে ছন্দ খুঁজে পায়নি। অন্যদিকে ডিআর কঙ্গোর জন্য এই ম্যাচ ছিল ঐতিহাসিক। তারা প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলছিল। ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ৭ মিনিটে এগিয়ে গিয়ে তারা বড় অঘটনের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।

সিপেঙ্গার গোল এবং এমপাসির দুর্দান্ত গোলরক্ষা দীর্ঘ সময় দলটিকে ম্যাচে এগিয়ে রাখে। তবে নকআউট ফুটবলে অভিজ্ঞতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বড় ভূমিকা নেয়। শেষ ১৫ মিনিটে ইংল্যান্ড সেই অভিজ্ঞতার জোরেই ম্যাচে ফিরে আসে। এই জয় ইংল্যান্ডকে পরের রাউন্ডে নিয়ে গেলেও তাদের রক্ষণভাগের ভারসাম্য এবং ধীর শুরু নিয়ে প্রশ্ন থাকল।

শেষ কথা

ইংল্যান্ড বনাম ডিআর কঙ্গো ম্যাচটি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অন্যতম নাটকীয় নকআউট লড়াই হয়ে রইল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর ইংল্যান্ড শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ জয় তুলে নেয়। ডিআর কঙ্গো হারলেও তাদের লড়াই প্রশংসনীয়। প্রথমবার নকআউট পর্বে নেমে তারা ইংল্যান্ডকে দীর্ঘ সময় চাপে রেখেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত হ্যারি কেনের অভিজ্ঞতা, বড় ম্যাচের মানসিকতা এবং গোল করার দক্ষতাই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। এখন ইংল্যান্ডের সামনে মেক্সিকো পরীক্ষা।

Avatar photo

Bapan Biswas

বাপন বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক। তিনি সাইটের সম্পাদকীয় পরিকল্পনা, তথ্য যাচাই এবং সংবাদ প্রকাশনার দায়িত্বে রয়েছেন। দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, ব্যবসা-বাণিজ্য, খেলাধুলা ও বিনোদনের খবর সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে সহজ বাংলায় পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।