দেশ

এবার বদ্রীনাথ ধামে প্রণামী চুরির অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ BKTC-র

উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ ধামে প্রণামী ও দানের টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্তের পথে হাঁটল বদ্রীনাথ-কেদারনাথ টেম্পল কমিটি বা BKTC।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক সামাজিক সংগঠনের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, বদ্রীনাথ মন্দিরের প্রণামী ও দানের অর্থ দেখভালের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, মন্দির কমিটির এক কর্মীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে BKTC-র এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগকারী সংগঠন প্রমাণ জমা দেয়নি। তা সত্ত্বেও বিষয়টির সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কী অভিযোগ উঠেছে?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভৈরব সেনা নামে একটি সংগঠন BKTC-র কাছে অভিযোগ জানায়। তাদের অভিযোগ, বদ্রীনাথ ধামে প্রণামী ও দানের অর্থের হিসেব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ওই সংগঠন fair investigation-এর দাবিও জানিয়েছে।

এই অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এক কর্মীকে BKTC chairman-এর personal secretary বলে দাবি করা হয়। সেই দাবিও বিতর্ক বাড়ায়।

তবে BKTC চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী এই দাবি অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যাঁর নাম ঘুরছে, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সচিব নন। তিনি BKTC-র একজন regular employee। ওই কর্মী এর আগে কমিটির তিনজন প্রাক্তন চেয়ারম্যনা-এর পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করেছেন বলেও জানানো হয়েছে।

কমিটির প্রতিক্রিয়া কী?

অভিযোগ পাওয়ার পরে BKTC বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কমিটির তরফে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটি অভিযোগ, available evidence, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বক্তব্য খতিয়ে দেখবে।

BKTC-র বক্তব্য, মন্দিরের প্রণামী ও দান লক্ষ লক্ষ ভক্তের বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত। তাই অভিযোগকে হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী বলা ঠিক নয়।

কমিটির chairman জানিয়েছেন, তদন্তে যদি কোনও অনিয়ম বা গড়মিল সামনে আসে, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও ব্যক্তিকে দায়ী করা থেকে বিরত থাকার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।

CCTV ফুটেজে কী পাওয়া গেল?

BKTC Chief Executive Officer Sohan Singh Rangad জানিয়েছেন, অভিযোগ ওঠার পরে বদ্রীনাথ মন্দির চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়েছে। তবে available footage খুব পরিষ্কার নয় বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দান গণনার ঘরে একাধিক CCTV camera রয়েছে। তাই তদন্ত কমিটি ফুটেজ, ডিউটি রেকর্ড, ডোনেশন কাউন্টিং প্রসেস এবং কর্মীদের লিখিত ব্যখ্যা মিলিয়ে দেখবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছ থেকে জবাব চাওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য ও নথি পরীক্ষা করার পরই তদন্ত কমিটি রিপোর্ট তৈরি করবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা

BKTC-র তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তে adverse fact বা irregularity পাওয়া গেলে Shri Badrinath-Kedarnath Temple Committee Act, 1939 এবং employee conduct rules অনুযায়ী বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। তাই “চুরি হয়েছে” বা “কর্মী যুক্ত” এমন direct statement ব্যবহার করা ঠিক নয়। আপাতত বিষয়টি অভিযোগ, তদন্ত এবং প্রশাসনিক যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?

বদ্রীনাথ ধাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। প্রতি বছর বহু ভক্ত সেখানে যান। মন্দিরে দেওয়া প্রণামী ও দানের অর্থ ভক্তদের বিশ্বাসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

তাই দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। শুধু বদ্রীনাথ নয়, বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের donation management নিয়ে transparency এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে।

প্রণামী গণনা, হিসেব রাখা, CCTV monitoring, audit এবং staff accountability-এই সব জায়গায় পরিষ্কার ব্যবস্থা থাকা জরুরি। এতে ভক্তদের আস্থা বজায় থাকে।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

তদন্ত কমিটি গঠন হলে তারা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের explanation, CCTV footage এবং দান গণনার নিয়ম—সব দিক পর্যালোচনা করা হবে।

BKTC জানিয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। তবে কমিটির তরফে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে যাচাই না করা দাবি বা misleading allegation ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে।

এই ঘটনায় এখন নজর তদন্ত রিপোর্টের দিকে। রিপোর্টে কী উঠে আসে, তার ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী বিভাগীয় বা আইনি পদক্ষেপ।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।