সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ: ইউএপিএ আইনে ২৩ কুখ্যাত জঙ্গিকে চিহ্নিত করল কেন্দ্র
নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক UAPA-র অধীনে ২৩ জন ব্যক্তিকে “সন্ত্রাসবাদী” হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তাঁদের নাম Unlawful Activities (Prevention) Act, 1967-এর Fourth Schedule-এ যুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা মূলত পাকিস্তান-ভিত্তিক এবং তাঁদের সঙ্গে জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তৈবা, দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট ও জামাত-উদ-দাওয়া-র মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের যোগের অভিযোগ রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, অনুপ্রবেশে সহায়তা, অস্ত্র সরবরাহ, তহবিল সংগ্রহ এবং জম্মু-কাশ্মীরে হামলার পরিকল্পনার মতো অভিযোগ রয়েছে।
তবে এই ধরনের মামলায় আইনি ভাষা গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে নাম যুক্ত হওয়া মানে ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারতের anti-terror framework-এর অধীনে ব্যবস্থা নেওয়ার পথ আরও স্পষ্ট হল। সংশ্লিষ্ট অভিযোগ আদালত বা তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে প্রমাণসাপেক্ষ বিষয়।
UAPA-র কোন ধারায় এই পদক্ষেপ?
কেন্দ্র UAPA-র Section 35 অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ধারার অধীনে কেন্দ্রীয় সরকার কোনও ব্যক্তিকে terrorism-এ যুক্ত বলে মনে করলে তাঁর নাম আইনের Fourth Schedule-এ যুক্ত করতে পারে।
২০১৯ সালের সংশোধনের পরে UAPA-তে শুধু সংগঠন নয়, ব্যক্তিকেও “designated terrorist” হিসেবে তালিকাভুক্ত করার ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে আসে। এর ফলে তদন্তকারী সংস্থা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আর্থিক লেনদেন, সম্পদ, নেটওয়ার্ক এবং যোগাযোগের সূত্র খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে আরও আইনি ভিত্তি পায়।
Economic Times-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন ২৩ জনের নাম যুক্ত হওয়ার পরে UAPA-র অধীনে designated individual terrorists-এর সংখ্যা ৮০-তে পৌঁছেছে।
তালিকায় কারা রয়েছেন?
রিপোর্ট অনুযায়ী, তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য নামগুলির মধ্যে রয়েছেন মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মীরি, মহম্মদ মুসাদ্দিক, মুফতি মহম্মদ আসগর খান, হাফিজ আব্দুল শাকুর, আব্দুল্লাহ জেহাদি, ফিরদৌস আহমেদ ভাট, গুলাম ফরিদ, বিলাল আহমেদ মীর, আবিদ কায়ুম লোন, নাজির আহমেদ গুজ্জর, আব্দুল রউফ, আশফাক আহমেদ, হাফিজ খালিদ ওয়ালিদ, মাওলানা সাইফুল্লাহ খালিদ, মহম্মদ ইয়াকুব, মওলানা ইউসুফ তাইবি, ওয়াসিম নূর জাট, ওওয়াইস ফারুজ, কারি ইয়াকুব শেখ, রানা ইফতিকার, মহম্মদ শহিদ ফয়সাল, মাওলানা ইমদাদ উল্লাহ মাক্কি এবং হারুন রশিদ গানাই।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি উদ্ধৃত করে একাধিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এদের মধ্যে কয়েকজন জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে পাকিস্তান বা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ। আবার কয়েকজন সরাসরি পাকিস্তানি নাগরিক বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
Sunjwan ও Nagrota হামলার প্রসঙ্গ
এই তালিকায় থাকা কয়েকজনের নাম অতীতের কয়েকটি বড় মামলার সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হয়েছে। NIA-র আগের chargesheet অনুযায়ী, ২০২২ সালের Sunjwan attack মামলায় Pakistan-based JeM leadership ও launching commanders-এর নাম উঠে এসেছিল।
Masood Ilyas Kashmiri এবং Mohammad Mussadiq-এর নাম সেই তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছিল। NIA-র দাবি ছিল, জম্মু অঞ্চলে হামলার উদ্দেশ্যে অনুপ্রবেশকারী জঙ্গিদের সহায়তার ষড়যন্ত্রে পাকিস্তান-ভিত্তিক handlers-দের ভূমিকা ছিল।
অন্যদিকে ২০১৬ সালের Nagrota Army camp attack-এর সঙ্গে Mufti Muhammad Asghar Khan, Hafiz Abdul Shakoor এবং Abdullah Jehadi-র নামও কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে যুক্ত হয়েছে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। তবে এই অংশে “অভিযোগ” শব্দটি ব্যবহার করাই নিরাপদ, কারণ মামলা ও তদন্তের আইনি প্রক্রিয়া আলাদা বিষয়।
কেন এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, সীমান্তের ওপার থেকে অনুপ্রবেশ, অস্ত্র পাঠানো, online recruitment এবং funding network এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে drone, encrypted communication এবং social media ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক চালানোর অভিযোগ বহু তদন্তে উঠে এসেছে।
কেন্দ্রের নতুন পদক্ষেপের ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত, সম্পদ চিহ্নিতকরণ, আর্থিক লেনদেন নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সুবিধা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি তাঁদের network বা facilitator-দের ওপরও নজরদারি বাড়াতে পারে।
PRAHAAR নীতির প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্র National Counter-Terrorism Policy and Strategy বা PRAHAAR প্রকাশ করেছে। এই নীতিতে intelligence-guided response, inter-agency coordination, online radicalisation রোধ, অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহের network ভাঙা এবং international cooperation-এর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই পটভূমিতে ২৩ জনকে UAPA-র অধীনে তালিকাভুক্ত করা কেন্দ্রের বৃহত্তর counter-terror framework-এর অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে?
এখন তদন্তকারী সংস্থাগুলি তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের যোগাযোগ, আর্থিক channel এবং alleged support network খতিয়ে দেখতে পারে। প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক সংস্থা বা অন্য দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়াও এগোতে পারে।
সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এর সরাসরি দৈনন্দিন প্রভাব সীমিত। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিক থেকে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সরকার দাবি করছে সীমান্তপারের নেটওয়ার্ক ভাঙাই এর লক্ষ্য।
তবে একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া, প্রমাণ এবং তদন্তের স্বচ্ছতাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ যত গুরুতরই হোক, চূড়ান্ত আইনগত অবস্থান নির্ভর করবে তদন্ত, নথি এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর।
