অবৈধ গাছ কাটা রুখতে পুলিশকে সঙ্গে নেওয়ার নির্দেশ, বন দফতরের শূন্যপদে প্রস্তাব চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী
কলকাতা: রাজ্যে অবৈধভাবে গাছ কাটা এবং কাঠ পাচার বন্ধ করতে বন দফতরকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রয়োজনে পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে বেআইনি কারবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি।
১৪ জুলাই সল্টলেকের বনবিতানে অরণ্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন। একই অনুষ্ঠানে বন দফতরের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং খালি পদ পূরণের জন্য বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দিতে দফতরের সচিবকে বলা হয়েছে।
কাঠ পাচার রুখতে পুলিশের সাহায্য
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বন দফতরের কাজকর্মে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। রাজ্যের কোনও এলাকায় বেআইনিভাবে গাছ কাটা বা কাঠ পাচারের অভিযোগ উঠলে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।
নিজের সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, গরু পাচার, সিন্ডিকেট-নির্ভর কারবার এবং অন্যান্য বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একইভাবে কাঠ পাচারের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
গরু পাচার ও সিন্ডিকেট নিয়ে বলা কথাগুলি মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক দাবি। তবে বনাঞ্চলে বেআইনি গাছ কাটা এবং কাঠ পাচার ঠেকাতে পুলিশ ও বন দফতরকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশটি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
শূন্যপদ পূরণে প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশ
বন দফতরে কাজ করতে গিয়ে আধিকারিক ও কর্মীদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয় বলেও স্বীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কারণে দফতরের বর্তমান পরিকাঠামো, কর্মীর প্রয়োজন এবং খালি পদগুলির বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব জমা দিতে সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী দিনে বনরক্ষী নিয়োগের দায়িত্ব পুলিশ নিয়োগ পর্ষদের হাতে থাকবে। খালি পদগুলি কয়েক মাসের মধ্যে পূরণের চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা এখনও চাকরির বিজ্ঞপ্তি নয়। কতগুলি পদে নিয়োগ হবে, আবেদন কবে শুরু হবে, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত ও শারীরিক যোগ্যতা কী হবে—এসব বিষয়ে কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি তখনও প্রকাশিত হয়নি।
ফলে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ সংক্রান্ত পরবর্তী সরকারি বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। বন দফতর বা পুলিশ নিয়োগ পর্ষদের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পরেই আবেদনের নিয়ম পরিষ্কার হবে।
জঙ্গলমহলে মানুষ ও হাতির সংঘাত নিয়েও আলোচনা
অনুষ্ঠানে জঙ্গলমহলের মানুষ ও হাতির সংঘাতের প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার বিভিন্ন এলাকায় ফসলের মরসুমে হাতির দল লোকালয় এবং চাষের জমিতে ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, হাতি সংরক্ষণ এবং এলাকার উন্নয়ন—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। এই সমস্যার মোকাবিলায় বন দফতরের মাঠপর্যায়ের কর্মী এবং পরিকাঠামো শক্তিশালী করাও প্রয়োজন।
অরণ্য সপ্তাহে বৃক্ষরোপণের আহ্বান
অরণ্য সপ্তাহের উদ্বোধনের পাশাপাশি বনরথের সূচনাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যজুড়ে আরও বেশি গাছ লাগানোর জন্য সাধারণ মানুষ এবং জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
শুধু বনাঞ্চল নয়, বসতি এলাকা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের আশপাশেও জায়গা বুঝে বৃক্ষরোপণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা এবং রাজ্যের সবুজ আচ্ছাদন বাড়ানোর জন্য এই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বন দফতরের শূন্যপদ পূরণের প্রস্তাব জমা পড়ার পর নিয়োগের পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে সরাসরি নিয়োগ শুরু হওয়ার খবর হিসেবে দেখা যাবে না।
