দেশ

পহেলগাঁও হামলা মামলা: হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা জারি

জম্মু: পহেলগাঁও হামলা মামলায় পাকিস্তানে থাকা হাফিজ মহম্মদ সইদের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল জম্মুর বিশেষ এনআইএ আদালত। গত ৮ জুলাই বিশেষ আদালত এই নির্দেশ দেয়। এর দু’দিন আগে হাফিজকে অভিযুক্ত করে পরিপূরক অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ।

হাফিজ সইদকে নিষিদ্ধ সংগঠন লস্কর-ই-তইবা এবং দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের প্রধান হিসেবে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছে এনআইএ। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনও বিচারাধীন। পরোয়ানা জারি হওয়াকে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাবে না।

আদালতের নির্দেশে কী বলা হয়েছে?

আদালতে এনআইএ দাবি করে, হাফিজ সইদ পাকিস্তানে রয়েছেন এবং গ্রেফতার এড়িয়ে চলছেন। মামলার পরবর্তী তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে খোলা মেয়াদের জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা চেয়েছিল তদন্তকারী সংস্থা।

সেই আবেদন মেনে বিশেষ আদালত পরোয়ানা জারি করেছে। নির্দেশ কার্যকর করার জন্য সেটি এনআইএর জম্মু শাখার ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেলের কাছে পাঠানো হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মামলার পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর তদন্তের জন্য অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে।

এই নির্দেশের ফলে হাফিজকে আদালতে হাজির করানোর আইনি প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল। তবে তিনি ভারতের বাইরে থাকায় পরোয়ানা কবে বা কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে আদালত বা এনআইএ এখনও বিস্তারিত জানায়নি।

এনআইএর অভিযোগপত্রে কী রয়েছে?

গত ৬ জুলাই জম্মুর বিশেষ এনআইএ আদালতে পরিপূরক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। সেখানে হাফিজ সইদকে ব্যক্তিগতভাবে অভিযুক্ত করার পাশাপাশি লস্কর-ই-তইবা ও তার সহযোগী সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের প্রধান হিসেবেও তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। সীমান্তের বাইরে থেকে ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং হামলার পরিকল্পনার অভিযোগও অভিযোগপত্রে যুক্ত করেছে এনআইএ।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা তথ্য, বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষা এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই অভিযোগপত্র তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগপত্রে থাকা সমস্ত নথি ও প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। অভিযোগগুলি আদালতে প্রমাণিত হওয়ার পরেই দায় নির্ধারিত হবে।

আগের অভিযোগপত্রে কার নাম ছিল?

পহেলগাঁও হামলা মামলায় প্রথম অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর। এনআইএর তথ্য অনুযায়ী, ১,৫৯৭ পাতার ওই অভিযোগপত্রে পাকিস্তানে থাকা সাজিদ জাটের নাম ছিল।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত তিন হামলাকারী এবং ভারতে গ্রেফতার হওয়া আরও দুই অভিযুক্তের নামও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল। লস্কর-ই-তইবা এবং দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টকেও সংগঠন হিসেবে মামলায় অভিযুক্ত করেছে এনআইএ। নতুন অভিযোগপত্রটি সেই মামলারই ধারাবাহিক অংশ।

পহেলগাঁওয়ে কী ঘটেছিল?

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পহেলগাঁওয়ে হামলায় ২৫ জন পর্যটক এবং স্থানীয় এক বাসিন্দা-সহ মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়। পহেলগাঁও থানায় প্রথমে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছিল।

প্রাথমিকভাবে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব এনআইএর হাতে যায়। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, হামলাটি সীমান্তের বাইরে থেকে পরিচালিত একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল। এই দাবি এখন বিচারাধীন মামলার বিষয়।

পরোয়ানা জারির গুরুত্ব কোথায়?

পরিপূরক অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা জারি হওয়ায় হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে মামলার আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া এগোল। ভবিষ্যতে তাঁকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হেফাজতে পাওয়া গেলে এই পরোয়ানার ভিত্তিতে আদালতে হাজির করা যাবে।

তবে পরোয়ানা জারি হওয়া এবং তা কার্যকর হওয়া এক বিষয় নয়। অভিযুক্ত অন্য দেশে থাকলে সংশ্লিষ্ট আইন ও সরকারি প্রক্রিয়ার উপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করে। এই বিষয়ে ভারত সরকার বা এনআইএ এখনও নতুন কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।

এই মুহূর্তে নিশ্চিত তথ্য হল, পহেলগাঁও হামলা মামলায় হাফিজ সইদকে অভিযুক্ত করে পরিপূরক অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে এনআইএ। তার পর জম্মুর বিশেষ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। মামলার তদন্ত এখনও চলছে।

Avatar photo

Bapan Biswas

বাপন বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক। তিনি সাইটের সম্পাদকীয় পরিকল্পনা, তথ্য যাচাই এবং সংবাদ প্রকাশনার দায়িত্বে রয়েছেন। দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, ব্যবসা-বাণিজ্য, খেলাধুলা ও বিনোদনের খবর সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে সহজ বাংলায় পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।