রাশিয়ার তেল আমদানিতে বড় স্বস্তি: শুল্কের হার ৫০০ থেকে কমিয়ে ১০০ করল আমেরিকা
ওয়াশিংটন: রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা দেশগুলির বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত শাস্তিমূলক শুল্কের হার কমালেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। সংশোধিত বিলে সর্বোচ্চ শুল্ক ৫০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০০ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভারত শুল্কের ঝুঁকি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়ে গেল।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, রাশিয়ার জ্বালানির সব ক্রেতার উপর শুল্ক আরোপ করা হবে না। মূলত সবচেয়ে বেশি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা পাঁচটি দেশকে এইটি ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। সেই তালিকায় ভারত ও চিন থাকায় নয়াদিল্লির উদ্বেগ পুরোপুরি কাটছে না।
আগের খসড়ায় রাশিয়া থেকে তেল, গ্যাস বা নির্দিষ্ট জ্বালানি পণ্য কেনা দেশের আমেরিকায় রফতানি করাত পণ্যের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব ছিল। সংশোধিত বিলে সেই হার সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ব্যবস্থাটির পরিধিও কমানো হয়েছে। রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা প্রত্যেকটি দেশকে লক্ষ্য করার পরিবর্তে সবচেয়ে বড় পাঁচ ক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সেনেটের সহকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ ক্রেতাদের তালিকায় রয়েছে চিন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান। তবে আমদানির। তবে আমদান পরিমাণ পরিবর্তিত হলে এই তালিকাও বদলাতে পারে।
ভারতের জন্য কি সত্যিই স্বস্তি?
৫০০ শতাংশের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব অবশ্যই আগের তুলনায় কম কঠোর। কিন্তু ভারত শীর্ষ ক্রেতাদের তালিকায় থাকলে এই শুল্ক আরোপের ঝুঁকি থেকেই যাবে।
এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। প্রস্তাবিত শুল্ক রাশিয়ার তেলের উপর সরাসরি বসবে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে আমেরিকায় যাওয়া পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে। ফলে ব্যবস্থা কার্যকর হলে ভারতের রফতানি, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং দেশীয় শিল্পের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
তবে ১০০ শতাংশ শুল্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না। সংশোধিত প্রস্তাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যথেষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আমেরিকার জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দিষ্ট দেশকে ছাড় দিতে অথবা নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখতে পারবেন।
কয়েকটি দেশের জন্য বিশেষ ছাড়ের সুযোগ
যেসব দেশ রাশিয়ার মোট প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানির ১৫ শতাংশের কম কেনে এবং আমদানি কমানোর জন্য উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করছে, তাদের ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই শর্তে জাপান, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি ও বেলজিয়ামের মতো কয়েকটি দেশ সুবিধা পেতে পারে।
ভারতের ক্ষেত্রে অবশ্য মূল আলোচনার বিষয় অপরিশোধিত তেল। তাই প্রাকৃতিক গ্যাস সংক্রান্ত ওই ছাড় ভারতের উপর একইভাবে প্রযোজ্য হবে কি না, তা বিলের চূড়ান্ত রূপ এবং প্রয়োগবিধির উপর নির্ভর করবে।
রাশিয়ার উপর আর কী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব?
বিলে শুধু তেল ও গ্যাসের ক্রেতাদের বিরুদ্ধে শুল্কের কথা নেই। রাশিয়ার বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রকল্প এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহণে ব্যবহৃত কথিত ‘ছায়া নৌবহর’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রস্তাবটির লক্ষ্য হল জ্বালানি রফতানি থেকে রাশিয়ার আয় কমানো এবং ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মস্কোর উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো।
বিলটি কি ইতিমধ্যেই আইন হয়ে গিয়েছে?
না। এটি এখনও সংশোধিত আইনপ্রস্তাব। প্রয়াত রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মঙ্গলবার দুই দলের সেনেটররা এর সংশোধিত রূপ সামনে এনেছেন।
বর্তমানে প্রস্তাবটির ২৬ জন সহ-সমর্থক রয়েছেন বলে সেনেটের সহকারীরা জানিয়েছেন। তবে সেনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত এটি আইন হিসেবে কার্যকর হবে না।
সুতরাং, ভারতের উপর এখনই নতুন করে ১০০ শতাংশ শুল্ক বসেছে, এমন ধারণা ঠিক নয়। আপাতত এটি একটি প্রস্তাব। বিলটি কংগ্রেসে কোন রূপে পাশ হয় এবং প্রেসিডেন্ট ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহার করেন, তার উপরই ভারতের প্রকৃত ঝুঁকি নির্ভর করবে।
