খেলাধুলা

স্পেনের মাঝমাঠেই আটকে গেল ফ্রান্স, হারের পর কৌশল নিয়ে প্রশ্ন এমবাপের

ডালাস: তারকাদের দ্বৈরথে নজর ছিল কিলিয়ান এমবাপে ও লামিন ইয়ামালের দিকে। কিন্তু বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ করল স্পেনের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং জমাট রক্ষণ। ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন।

১৯ বছরের ইয়ামাল নিজে গোল না করলেও প্রথম গোলের পথ তৈরি করেন। তাঁকে ফাউল করার কারণে পেনাল্টি পায় স্পেন। অন্যদিকে, আট গোল নিয়ে সেমিফাইনালে নামা এমবাপেকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখেন স্পেনের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা।

ম্যাচের ২২ মিনিটে লামিন ইয়ামালকে নিজেদের বক্সে ফাউল করেন ফ্রান্সের লুকাস দিনিয়ে। পেনাল্টি থেকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবাল।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান পেদ্রো পোরো। দানি ওলমোর সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়ার পরে তাঁর গোল স্পেনকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। এরপর বলের দখল ধরে রেখে এবং রক্ষণ আঁটসাঁট করে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করে স্পেন।

শেষ দিকে ফ্রান্স কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোল করতে পারেনি। এমবাপের একটি ফ্রি-কিক লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। উসমান দেম্বেলের একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোন।

মাঝমাঠে কেন পিছিয়ে পড়ল ফ্রান্স?

ফ্রান্সের মূল সমস্যা ছিল স্পেনের মাঝমাঠের বিরুদ্ধে কার্যকর চাপ তৈরি করতে না পারা। রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজ বলের দখল ধরে রেখে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁদের সহায়তা করেন দানি ওলমো।

ফ্রান্স শুরু থেকেই স্পেনের খেলা তৈরির পথ বন্ধ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এমবাপেদের চাপ তৈরির মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছিল না। ফলে স্পেনের খেলোয়াড়েরা তুলনামূলক সহজেই প্রথম চাপ কাটিয়ে মাঝমাঠে জায়গা তৈরি করেন।

ম্যাচের পরে এমবাপেও এই সমস্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, স্পেনের দুই খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে তিনজনকে দিয়ে চাপ তৈরির পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি। তাঁর মতে, এক জনের দায়িত্বে এক জনকে রেখে চাপ তৈরি করলে স্পেনকে সমস্যায় ফেলা যেত।

তবে এমবাপের বক্তব্যকে সরাসরি কোচ দিদিয়ের দেশঁকে দায়ী করা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তিনি দলের পরিকল্পনা ও মাঠে তার প্রয়োগ, দুই ক্ষেত্রেই ঘাটতি থাকার কথা বলেছেন। অধিনায়ক হিসেবে ব্যর্থতার দায়ও এড়িয়ে যাননি।

এমবাপেকে কীভাবে থামাল স্পেন?

ফ্রান্সের আক্রমণ মূলত এমবাপের গতি ও জায়গা তৈরির ক্ষমতার উপর নির্ভর করছিল। স্পেন তাঁকে একা কোনও রক্ষণের খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ দেয়নি। এমবাপে বল পেলেই কাছাকাছি দুই বা তিনজন স্প্যানিশ ফুটবলার জায়গা ছোট করে দেন।

স্পেনের রক্ষণ খুব বেশি উপরে উঠে ঝুঁকিও নেয়নি। ফলে ফরাসি অধিনায়ক রক্ষণের পিছনে দৌড় শুরু করার মতো জায়গা পাননি। তাঁকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেও প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেননি।

সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্স ছয় ম্যাচে ১৬টি গোল করেছিল। কিন্তু স্পেনের বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি। প্রতিযোগিতায় সাত ম্যাচের মধ্যে এটি স্পেনের ষষ্ঠ গোল না খাওয়া ম্যাচ।

বড় মঞ্চে ইয়ামালের প্রভাব

ম্যাচের আগের দিনই ১৯ বছরে পা দেন লামিন ইয়ামাল। সেমিফাইনালে তিনি কোনও গোল বা সরাসরি গোলের সহায়তা না পেলেও ম্যাচের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি তৈরি করেন।

ডান দিক থেকে বক্সে ঢুকে দিনিয়েকে ভুল করতে বাধ্য করেন ইয়ামাল। সেই ফাউল থেকেই পেনাল্টি পায় স্পেন। আক্রমণের পাশাপাশি প্রয়োজনে পিছনে নেমে রক্ষণকেও সাহায্য করেন বার্সেলোনার তরুণ ফুটবলার।

ম্যাচের আগে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানিয়েছিলেন, ইয়ামালের কাছে শুধু বেশি গোল নয়, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নির্ণায়ক ভূমিকা চান তিনি। সেমিফাইনালে ইয়ামাল সেই প্রত্যাশাই পূরণ করেছেন।

এমবাপের গোলসংখ্যায় সংশোধন

প্রদত্ত তথ্যে এমবাপের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ১৯ বলা হয়েছিল। সেটি সঠিক নয়। সেমিফাইনালের আগে তাঁর বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ছিল ২০। ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় তিনি আটটি গোল করেছেন।

বিশ্বকাপে পুরুষদের সর্বাধিক গোলের তালিকায় ২১ গোল নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি। অর্থাৎ, সেমিফাইনালে গোল করলে এমবাপে মেসির রেকর্ড স্পর্শ করতে পারতেন। কিন্তু স্পেনের বিরুদ্ধে গোল না পাওয়ায় তিনি ২০ গোলেই রইলেন।

ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে?

বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যে জয়ী দলের বিরুদ্ধে খেলবে স্পেন। রবিবার নিউ ইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে হবে শিরোপা নির্ধারণের ম্যাচ।

২০১০ সালে প্রথম এবং এখনও পর্যন্ত একমাত্র বার পুরুষদের বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। অন্যদিকে, টানা তৃতীয়বার ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারাল ফ্রান্স। দেশঁর দল এবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণের ম্যাচে খেলবে।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।