রাজ্য

মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা ফেরানোর সিদ্ধান্ত রাজ্যের, জানালেন কৃতজ্ঞতা

কলকাতা: প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের সরকারি নিরাপত্তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রশাসন সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মীরা।

তবে কবে থেকে নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে, কতজন থাকবেন কিংবা কী ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হবে—সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত সরকারি নির্দেশ প্রকাশ্যে আসেনি।

প্রশাসন সূত্রের দাবি, দক্ষিণ কলকাতার পাম অ্যাভিনিউয়ে মীরা ভট্টাচার্যের বাসভবনে আবার সরকারি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পরে ওই বাসভবনে থাকা সরকারি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মীরা। প্রায় দু’বছর পরে বর্তমান সরকার তা ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিল।

তবে নিরাপত্তার স্তর নির্ধারণের আগে সাধারণত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ঝুঁকি এবং বাসভবনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে রাজ্যের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভাগ। মীরা ভট্টাচার্যের ক্ষেত্রে সেই মূল্যায়ন সম্পূর্ণ হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

সিদ্ধান্ত নিয়ে কী বললেন মীরা ভট্টাচার্য?

টেলিফোনে সংবাদমাধ্যমকে মীরা জানিয়েছেন, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পরেই নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর বিশেষ উদ্বেগ না থাকলেও রাজ্য সরকারের উদ্যোগকে সম্মানের সঙ্গেই দেখছেন তিনি।

মীরার কথায়, “বুদ্ধবাবুর মৃত্যুর পরই নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিল। এখন অবশ্য আমার নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা নেই। তবে নতুন মুখ্যমন্ত্রী যদি আমার কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, সেটা আমার পরম সৌভাগ্য।”

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি বর্তমান প্রশাসনের সম্মান হিসেবেই এই পদক্ষেপকে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তটির রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

পাম অ্যাভিনিউয়ের ছোট ফ্ল্যাটেই জীবন

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে দীর্ঘদিন দক্ষিণ কলকাতার ৫৯এ পাম অ্যাভিনিউয়ের ছোট ফ্ল্যাটে থেকেছেন মীরা। মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালীনও বুদ্ধদেব কোনও বড় সরকারি আবাসনে উঠে যাননি। পরিচিত ওই বাড়ি থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবন পরিচালিত হয়েছিল।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু একসময় তাঁকে আরও বড় বাড়িতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে। কিন্তু পরিচিত পরিবেশ ছাড়তে চাননি বুদ্ধদেব। তাঁর মৃত্যুর পরেও মীরা পাম অ্যাভিনিউয়ের সেই ঠিকানা ছাড়েননি।

বুদ্ধদেব ও মীরার সন্তান সুচেতন ভট্টাচার্য। তবে মীরা বর্তমানে সম্পূর্ণ একা থাকেন, এই তথ্যটি নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় তা নিশ্চিত ভাষায় বলা ঠিক হবে না।

নতুন সরকার নিয়ে আগেও মুখ খুলেছিলেন মীরা

মে মাসে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরে নতুন প্রশাসন সম্পর্কে ইতিবাচক প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন মীরা ভট্টাচার্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের কয়েকটি প্রাথমিক পদক্ষেপের প্রশংসাও করেছিলেন তিনি।

একই সঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক পরিবেশের উন্নতি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানো এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। সেগুলি ছিল মীরা ভট্টাচার্যের ব্যক্তিগত মতামত; সরকারের কাজের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন হিসেবে তা তুলে ধরা ঠিক হবে না।

রাজনৈতিক সৌজন্য নাকি নিরাপত্তা মূল্যায়ন?

রাজনৈতিক মতাদর্শের দিক থেকে বামপন্থী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা। তা সত্ত্বেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের নিরাপত্তা ফেরানোর সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সৌজন্যের বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন অনেকে।

এর আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা অপরিবর্তিত রাখার নির্দেশও দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় প্রশাসনকে তিনি জানিয়েছিলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যেন কোনও অসুবিধা না হয়।

মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তও একই প্রশাসনিক অবস্থানের অংশ কি না, তা সরকারিভাবে জানানো হয়নি। নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এবং ব্যবস্থার বিস্তারিত সামনে এলেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।