কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিরাপত্তায় জোর, Microsoft-এ বড় রদবদল ও ছাঁটাইয়ের দাবি
Microsoft-এর সাইবার নিরাপত্তা বিভাগে নেতৃত্ব, কর্মীদের দল এবং কাজের অগ্রাধিকার নতুন করে সাজানো হচ্ছে। প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের দাবি, এই পরিবর্তনের মধ্যে একাধিক সফটওয়্যার তৈরির দলকে একত্র করা হয়েছে, কয়েকজন প্রবীণ আধিকারিকের দায়িত্ব বদলেছে এবং কয়েকশো পদ বিলুপ্ত হয়েছে।
তবে নিরাপত্তা বিভাগে ঠিক কতজন কাজ হারিয়েছেন, কোন দেশ বা কার্যালয়ে ছাঁটাই হয়েছে এবং কোন দল সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে—Microsoft সেই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। সংস্থাটি প্রতিবেদনে ওঠা নির্দিষ্ট দাবিগুলি নিয়েও মন্তব্য করতে চায়নি। তাই ‘কয়েকশো পদ ছাঁটাই’-এর তথ্যটি এখনও প্রকাশিত প্রতিবেদনের দাবি, নিশ্চিত সরকারি বা সংস্থাগত ঘোষণা নয়।
নতুন নিরাপত্তা প্রধানের হাতে কী বদল হচ্ছে?
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হায়েতে গ্যালটকে নিরাপত্তা বিভাগের কার্যনির্বাহী সহ-সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করে Microsoft। তিনি সরাসরি সংস্থার প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলার অধীনে কাজ করছেন। গ্যালট এর আগে ১৫ বছরের বেশি সময় Microsoft-এ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। পরে তিনি Google Cloud-এর গ্রাহক পরিষেবা ও অভিজ্ঞতা বিভাগের নেতৃত্ব দেন।
গ্যালট দায়িত্ব নেওয়ার সময় নিরাপত্তা বিভাগের আগের প্রধান চার্লি বেলকে সফটওয়্যারের গুণমান উন্নত করার নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়। Microsoft তখনই জানিয়েছিল, নিরাপত্তা পণ্য, Security Copilot এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অগ্রগতি নতুন নেতৃত্বের প্রধান দায়িত্ব হবে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের দাবি, গ্যালট দায়িত্ব নেওয়ার পরে কয়েকটি দলকে একসঙ্গে আনা হয়েছে এবং কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিকের দায়িত্ব বদলানো হয়েছে। কর্মীদের পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ বার্তায় তিনি বোঝান, সাইবার নিরাপত্তার বাজার গোড়া থেকে বদলে যাচ্ছে। যে সংস্থাগুলি এই পরিবর্তন দ্রুত বুঝবে, প্রয়োজনীয় কঠিন সিদ্ধান্ত নেবে এবং পরিকল্পনা ঠিকভাবে কার্যকর করবে, তারাই এগিয়ে থাকবে বলে তিনি মনে করেন। ওই অভ্যন্তরীণ বার্তার সম্পূর্ণ নথি প্রকাশ্যে আসেনি।
Security Copilot আসলে কী?
Microsoft এখন যে পণ্যটিতে বেশি জোর দিচ্ছে, তার অন্যতম হল Security Copilot। সহজ ভাষায়, এটি নিরাপত্তা কর্মীদের সহায়তা করার জন্য তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার।
বড় কোনও প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার ব্যবস্থায় প্রতিদিন হাজার হাজার নিরাপত্তা সতর্কবার্তা আসে। কোনটি সত্যিকারের বিপদ এবং কোনটি সাধারণ ঘটনা, তা আলাদা করতে অনেক সময় লাগে। Security Copilot সেই তথ্য দ্রুত পড়ে ঘটনার সহজ সারাংশ তৈরি করতে, সন্দেহজনক কম্পিউটার কোড পরীক্ষা করতে এবং হামলা মোকাবিলার সম্ভাব্য ধাপ সাজাতে সাহায্য করে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মানুষেরই নেওয়ার কথা।
এই ব্যবস্থা Microsoft Defender, Sentinel, Intune ও Entra-র মতো নিরাপত্তা পণ্যের সঙ্গে কাজ করতে পারে। অর্থাৎ কোনও প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার, কর্মীদের পরিচয়, ইমেল, নেটওয়ার্ক এবং তথ্যের নিরাপত্তা এক জায়গা থেকে পরীক্ষা করতে এটি ব্যবহার করা যায়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, দুর্বল কম্পিউটার কোড খুঁজে বের করার সরঞ্জাম এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়কদের কাজ পর্যবেক্ষণের প্রযুক্তিকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এখানে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়ক’ বলতে এমন সফটওয়্যার বোঝানো হচ্ছে, যা মানুষের দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী নিজে থেকে নির্দিষ্ট কাজ করতে পারে।
ছাঁটাই নিয়ে কোন তথ্য নিশ্চিত?
Microsoft ৬ জুলাই আলাদা একটি ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪,৮০০টি পদ বিলুপ্ত করার কথা জানিয়েছিল। এটি সংস্থার মোট কর্মীর প্রায় ২.১ শতাংশ। Microsoft-এর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ছাঁটাইয়ের বড় অংশ বাণিজ্যিক ব্যবসা এবং Xbox বিভাগে হয়েছে। গত এক বছরে ৪,০০০-এর বেশি কর্মীকে অন্য দায়িত্বে সরানো হয়েছে বলেও সংস্থা জানিয়েছে।
তবে ওই ৪,৮০০ পদের মধ্যে নিরাপত্তা বিভাগের কতজন কর্মী রয়েছেন, তা আলাদা করে জানানো হয়নি। ফলে সংস্থার সামগ্রিক ছাঁটাই এবং নিরাপত্তা বিভাগে কয়েকশো পদ বিলুপ্ত হওয়ার দাবিকে একই হিসাব হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
নিরাপত্তা বিভাগের ক্ষেত্রে কতটি পদ সরানো হয়েছে, কতজনকে অন্য দলে পাঠানো হয়েছে এবং কতজন স্থায়ীভাবে চাকরি হারিয়েছেন—এসব এখনও নিশ্চিত নয়। কর্মীদের ক্ষতিপূরণ বা নতুন দায়িত্ব দেওয়ার পূর্ণ বিবরণও প্রকাশ করা হয়নি।
নিরাপত্তা বিভাগে এত পরিবর্তন কেন?
Microsoft কয়েক বছর ধরে নিজেদের সফটওয়্যার ও অনলাইন পরিষেবার নিরাপত্তা নিয়ে চাপের মুখে রয়েছে। ২০২৩ সালে চিন-সংযুক্ত বলে চিহ্নিত একটি হ্যাকার গোষ্ঠী Microsoft-এর অনলাইন ইমেল ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানের ইমেলে প্রবেশ করেছিল।
এই ঘটনার তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি পর্যালোচনা পর্ষদ জানায়, Microsoft-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একের পর এক ব্যর্থতার কারণে হামলাটি সফল হয়েছিল। তদন্তের পর সংস্থাটি নিরাপত্তাকে অন্য কাজের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ঘোষণা করে।
Microsoft পরে Secure Future Initiative নামে দীর্ঘমেয়াদি একটি কর্মসূচি শুরু করে। এর উদ্দেশ্য হল সফটওয়্যার তৈরির শুরু থেকেই নিরাপত্তা যুক্ত করা, কর্মীদের দায়িত্ব স্পষ্ট করা এবং হামলার নতুন কৌশলের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া। সংস্থার প্রতিটি কর্মীর বার্ষিক কাজের মূল্যায়নের সঙ্গেও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত দায়িত্ব যুক্ত করা হয়েছে।
ফলে বর্তমান পরিবর্তন শুধু কর্মী কমানোর ঘটনা নয়। Microsoft একই সঙ্গে নিরাপত্তা বিভাগকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পণ্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং সফটওয়্যার তৈরির পুরনো পদ্ধতিও বদলাচ্ছে।
কর্মীদের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
একাধিক দল একত্র করা হলে কর্মীদের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, দায়িত্ব এবং চলতি প্রকল্প বদলে যেতে পারে। যাঁদের চাকরি রয়েছে, তাঁদেরও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষা এবং তথ্য বিশ্লেষণের নতুন কাজে পাঠানো হতে পারে।
এটি প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য প্রভাব; Microsoft এখনও নিরাপত্তা বিভাগের নতুন পূর্ণ কাঠামো প্রকাশ করেনি। কোন পুরনো দল বন্ধ হয়েছে এবং কতজন কর্মীকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা জানা যায়নি।
গ্রাহকদের জন্য এর অর্থ কী?
Microsoft-এর নিরাপত্তা পরিষেবা ব্যবহারকারী সংস্থাগুলি ভবিষ্যতে আরও বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সুবিধা পেতে পারে। যেমন—বিপজ্জনক ইমেল দ্রুত চিহ্নিত করা, সন্দেহজনক কম্পিউটার কোড বোঝা, বড় নিরাপত্তা ঘটনার সহজ সারাংশ পাওয়া এবং কোন ঝুঁকিটি আগে মোকাবিলা করা দরকার তা নির্ধারণ করা।
এতে নিরাপত্তা কর্মীদের সময় বাঁচতে পারে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্তর সব সময় নির্ভুল হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। Microsoft-এর নথিতেও ব্যবহারকারীর কাছে ফলাফল যাচাই ও মূল্যায়নের দায়িত্ব রাখা হয়েছে।
পুনর্গঠনের কারণে কোনও পুরনো পণ্য বন্ধ হবে কি না, পরিষেবার দাম বদলাবে কি না অথবা নতুন সুবিধাগুলি কবে সব গ্রাহকের কাছে পৌঁছবে—Microsoft এখনও তা জানায়নি। নিরাপত্তা বিভাগের ছাঁটাইয়ের নির্দিষ্ট হিসাবও প্রকাশ করা হয়নি।
