আন্তর্জাতিক

চাঞ্চল্যকর! বেজিং বিমান দুর্ঘটনা: ১০৯ তলা ‘চায়না জ়ুন’-এ আছড়ে পড়ল বিমান?

বেজিং বিমান দুর্ঘটনা : চীনের রাজধানী বেজিংয়ের বুক চিরে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যতম সর্বোচ্চ অট্টালিকা সিটিক টাওয়ার (CITIC Tower) বা ‘চায়না জুন’ শুক্রবার হঠাৎ করেই খবরের শিরোনামে। সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় হু হু করে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও এবং ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ছোট বিমান সজোরে ধাক্কা খেয়েছে এই বহুতলে। আর এই দৃশ্য ঘিরেই রীতিমতো আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে রাজধানী জুড়ে। যদিও এই দুর্ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো বিবৃতি মেলেনি, তবু জল্পনা তুঙ্গে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সরকারিভাবে এখনও কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

নেটদুনিয়ায় ভাইরাল ভিডিওতে ঠিক কী দেখা যাচ্ছে?

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও ফুটেজগুলি যথেষ্ট আতঙ্কজনক। সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, আকাশছোঁয়া এই ভবনের ওপরের দিকের বেশ কয়েকটি কাচের প্যানেল সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, ভবনের ঠিক নিচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিমানের ধ্বংসাবশেষ, আর মাটি থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে কালো ধোঁয়া। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুরক্ষার খাতিরে ইতিমধ্যেই পুরো ভবনটি খালি করে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফিলিপিন্সে ৬.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা নেই

দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটির পরিচয় ও উড়ানের গতিপথ

প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, যে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে সেটি মূলত একটি হালকা বা লাইট এভিয়েশন বিমান। মডেল— সানওয়ার্ড এসএ ৬০এল অরোরা (Sunward SA 60L Aurora – B-12PP)। চীনে নির্মিত এই বিমানটি বেশ জনপ্রিয়। ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে ভবনের ঠিক পাশেই বিমানটির একটি ডানা পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা দুর্ঘটনার ভয়াবহতা প্রমাণ করে।

বেজিং বিমান দুর্ঘটনা

জানা গেছে, ঘটনার সময় পাইলট একাই ওই বিমানের ককপিটে ছিলেন। শিফোসি (Shifosi) বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের প্রায় আধঘণ্টা পর তিনি যখন ফের অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি। কোনও এক অজানা কারণে বিমানটি তার নির্ধারিত রুট বা ফ্লাইটপথ থেকে হঠাৎ সরে যায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, বেজিংয়ের ইস্ট ফিফথ রিং রোড (East Fifth Ring Road) এলাকার কাছাকাছি পৌঁছানোর পরই কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে বিমানটির সমস্ত যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঠিক কী কারণে এই যান্ত্রিক বিচ্যুতি, তা এখনও এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন।

অবরুদ্ধ এলাকা, কড়া পাহারায় পুলিশ

এমন একটি হাই-প্রোফাইল এলাকায় দুর্ঘটনার খবর ছড়াতেই সিটিক টাওয়ার এবং তার আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আটঘাট বেঁধে জোরদার করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, গোটা এলাকা কার্যত পুলিশি দুর্গে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রবেশ তো দূর, ছবি বা ভিডিও তুলতেও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সংলগ্ন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। জরুরি পরিষেবার কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে এই ঘটনায় ঠিক কতজনের প্রাণহানি বা কী পরিমাণ সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার কোনও পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও সামনে আসেনি।

বেজিং বিমান দুর্ঘটনা: কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই ‘চায়না জ়ুন’?

বেজিংয়ের সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টের (CBD) প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘চায়না জ়ুন’ (China Zun) বা ‘সিটিক টাওয়ার (CITIC Tower)’ শুধু একটি সাধারণ বহুতল নয়, এটি আধুনিক চীনের বিশাল বাণিজ্যিক সক্ষমতার এক জ্বলন্ত প্রতীক। প্রায় ১,৭০০ ফুট (১০৯ তলা) উচ্চতার এই আকাশচুম্বী অট্টালিকাটি বর্তমানে বেজিং শহরের সর্বোচ্চ এবং সমগ্র চীনের অন্যতম শীর্ষ ভবন হিসেবে পরিচিত। ভবনটির আধুনিক স্থাপত্য প্রাচীন চীনা আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত একটি বিশেষ পাত্র ‘জ়ুন’ (Zun)-এর অনুকরণে তৈরি করা হয়েছে।

যেহেতু এটি বেজিংয়ের সবচেয়ে অভিজাত এবং জনবহুল একটি বাণিজ্যিক এলাকার অংশ, তাই এখানে কোনো দুর্ঘটনার খবর স্বাভাবিকভাবেই প্রবল আতঙ্ক তৈরি করে। বেজিং বিমান দুর্ঘটনা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও এত চর্চা হওয়ার মূল কারণ এটাই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইং জোনের মধ্যে কীভাবে একটি ছোট বিমান পথভ্রষ্ট হয়ে এত বড় অট্টালিকায় ধাক্কা মারল, তা চীনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থাকেও বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও আগামী পদক্ষেপ

ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক পরিণতি, তা এখনও ধোঁয়াশায় মোড়া। এটি নিছকই কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি, পাইলটের মানবিক ভুল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ লুকিয়ে রয়েছে— তা খতিয়ে দেখতে জোরদার তদন্ত শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলি আদৌ আসল নাকি এডিটেড, তা-ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে যাচাই করানো হচ্ছে। সরকারিভাবে তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনা নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

Avatar photo

Bapan Biswas

বাপন বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক। তিনি সাইটের সম্পাদকীয় পরিকল্পনা, তথ্য যাচাই এবং সংবাদ প্রকাশনার দায়িত্বে রয়েছেন। দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, ব্যবসা-বাণিজ্য, খেলাধুলা ও বিনোদনের খবর সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে সহজ বাংলায় পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *