বিধাননগরে বিধায়ক সেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন, অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
কলকাতা: বিধাননগরে সেবা কেন্দ্র উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সল্টলেকে চালু হওয়া নতুন বিধায়ক কার্যালয়টি এলাকার মানুষের আবেদন, অভিযোগ এবং স্থানীয় সমস্যা জনপ্রতিনিধির কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি নির্দিষ্ট জায়গা হিসেবে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সল্টলেকের সিএফ-৩১২ ঠিকানায় এই কার্যালয়টি তৈরি হয়েছে। বিধাননগরের বিধায়ক তথা রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের এই কার্যালয় থেকেই এলাকার বাসিন্দাদের বিভিন্ন সমস্যা ও আবেদন গ্রহণ করা হবে। তবে কার্যালয়ের নিয়মিত সময়সূচি, যোগাযোগের নম্বর কিংবা পরিষেবার বিস্তারিত তালিকা এখনও প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
বিধাননগরের মানুষ কীভাবে উপকৃত হবেন?
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, এলাকার সাধারণ মানুষ তাঁদের সমস্যা নিয়ে সরাসরি এই সেবা কেন্দ্রে আসতে পারবেন। স্থানীয় স্তরে রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল, পথবাতি বা সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত কোনও আবেদন থাকলে তা বিধায়কের কার্যালয়ে জানানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কোন ধরনের অভিযোগ এখানে সরাসরি গ্রহণ করা হবে, সেই বিষয়ে এখনও পৃথক কোনও লিখিত নির্দেশ প্রকাশিত হয়নি।
একটি বিধায়ক কার্যালয়ের প্রধান ভূমিকা হল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা। কোনও আবেদন সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো, তার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া এবং জরুরি সমস্যায় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে এমন কার্যালয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে কার্যালয়টি কোনও পুরসভা বা সরকারি দফতরের বিকল্প নয়। নাগরিক সমস্যার বাস্তব সমাধানের জন্য বিধাননগর পুরনিগম, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিভাগ এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।
সেবা কেন্দ্র নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের জন্য এমন সেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাংসদ ও বিধায়কদের কার্যালয়কে শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির জায়গা না রেখে জনসংযোগ এবং পরিষেবা-সহায়তার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে ফলের চারা বিতরণের কথাও অনুষ্ঠানে উঠে এসেছে। পরিবেশ রক্ষার কাজে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করতে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে চারা বিতরণ কবে শুরু হবে বা কারা তা পাবেন, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এখনও জানানো হয়নি।
কার্যালয়ের দায়িত্বে বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১১৬ নম্বর বিধাননগর কেন্দ্র থেকে জয়ী হন ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ৯৭ হাজার ৯৭৯টি ভোট পেয়েছিলেন। তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ৩৭ হাজার ৩৩০ ভোট। বর্তমানে তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন।
বিধায়ক এবং মন্ত্রী—দুই দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্য একটি স্থায়ী কার্যালয় চালু হওয়ায় বিধাননগরের নাগরিক সমস্যাগুলি সরাসরি তাঁর দফতরে পৌঁছনোর পথ তৈরি হল। তবে অভিযোগ জানানোর পরে তার অগ্রগতি কীভাবে নথিভুক্ত করা হবে, আবেদনকারীকে কোনও প্রাপ্তিস্বীকার দেওয়া হবে কি না এবং কত দিনের মধ্যে উত্তর পাওয়া যাবে—এসব বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
বাসিন্দাদের কী জানা দরকার?
নতুন কার্যালয়ে যাওয়ার আগে বাসিন্দাদের কয়েকটি তথ্য নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো। কার্যালয় সপ্তাহের কোন দিন খোলা থাকবে, আবেদন লিখিতভাবে দিতে হবে কি না এবং পরিচয়পত্র বা অন্য কোনও নথির প্রয়োজন হবে কি না—এই তথ্যগুলি বিধায়কের কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানা গেলে বিভ্রান্তি কমবে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনও ব্যক্তিগত নম্বর বা অননুমোদিত ঠিকানায় নথি পাঠানো উচিত নয়। কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের তথ্য প্রকাশিত হলে সেটিই অনুসরণ করা নিরাপদ।
জনসংযোগের নতুন ঠিকানা
বিধাননগর ও সল্টলেকের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে স্থানীয় সমস্যার দ্রুত নথিভুক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ। একটি নির্দিষ্ট বিধায়ক কার্যালয় থাকলে নাগরিকদের বারবার রাজনৈতিক কর্মসূচি বা জনসভায় গিয়ে জনপ্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করার প্রয়োজন কমতে পারে।
তবে সেবা কেন্দ্রের সাফল্য শুধু উদ্বোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কত নিয়মিতভাবে কার্যালয় খোলা হচ্ছে, কত আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে এবং কতগুলি সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে—সেই হিসাবই এর কার্যকারিতা নির্ধারণ করবে।
এই মুহূর্তে নিশ্চিত তথ্য হল, সল্টলেকের বিধাননগর বিধানসভা এলাকায় নতুন বিধায়ক সেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কার্যালয়টি বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে স্থানীয় মানুষের আবেদন ও সমস্যার সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ তৈরির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।
