রাজ্য

তারকেশ্বরে পুষ্পবৃষ্টি, শ্রাবণ মেলায় বিশেষ পরিষেবা দেবে প্রশাসন

কলকাতা: রথযাত্রার আগে রাজ্যের নিরাপত্তা ও পরিষেবা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে সোমবার ভার্চুয়াল বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে বিধায়ক, জেলাশাসক, পুলিশ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা মেলায় সহায়তা কেন্দ্র চালু করবে প্রশাসন। পাশাপাশি শ্রাবণ মাসে শিব মন্দিরমুখী পুণ্যার্থীদের জন্যও একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের তত্ত্বাবধানে ৭৫টি সহায়তা কেন্দ্র পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটি, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ একসঙ্গে এই কেন্দ্রগুলির দায়িত্ব সামলাবে।

বেশি জনসমাগম হয় এমন জায়গায় পানীয় জল, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় পুলিশকে আগাম পরিকল্পনা তৈরির কথাও বলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সরকারের দায়িত্ব। সেই কারণে রথযাত্রার আয়োজনে প্রশাসন সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে। আগামী ১৬ জুলাই থেকে রাজ্যে নয় দিনব্যাপী রথযাত্রা উৎসব শুরু হওয়ার কথা। এর আগে জেলাগুলিকে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৬০টি কমিটিকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে সহায়তা

রাজ্যের ৬০টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা আগেই করেছিল সরকার। সোমবারের কর্মসূচিতে অনুমোদিত কমিটিগুলির হাতে সেই অর্থ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রথমবার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে কোনও ত্রুটি থেকে গেলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভবিষ্যতে আরও নির্ভুল তালিকা তৈরির চেষ্টা করা হবে। এই উদ্যোগ আগামী দিনে আরও বড় আকার নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সরকারের আশা, অনুদানের টাকা পুরনো রথের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় মেরামতি এবং উৎসবের পরিকাঠামো তৈরিতে ব্যবহার করবে আয়োজক কমিটিগুলি। কোন খাতে টাকা খরচ করা যাবে এবং তার হিসাব কীভাবে জমা দিতে হবে, সে বিষয়ে প্রশাসনিক নিয়ম মেনে চলতে হবে।

তীর্থক্ষেত্র উন্নয়নে ১,০০০ কোটি টাকা

রাজ্যের বাজেটে থাকা তীর্থক্ষেত্র সার্কিট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাচীন মঠ, মন্দির ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানের সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হবে। ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা কয়েকটি স্থাপনাকে ঐতিহ্যক্ষেত্র হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগও নেওয়া হবে।

এই কাজের জন্য আগামী দু’বছরে মোট ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে কোন প্রকল্পে কত টাকা দেওয়া হবে, তার বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রশাসনিক স্তরে চূড়ান্ত হবে।

শ্রাবণী মেলায় কী ব্যবস্থা থাকবে?

শ্রাবণ মাসে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থী তারকেশ্বর, জল্পেশ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন শিব মন্দিরে যান। প্রাথমিকভাবে হুগলির তারকেশ্বর ধাম, জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির এবং জয়ন্তী এলাকার একটি শিব মন্দিরকে বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।

শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর যাওয়ার পথে প্রতি পাঁচ কিলোমিটার অন্তর অস্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে থাকবে পুলিশ সহায়তা শিবির এবং পুণ্যার্থীদের বিশ্রামের জায়গা। অতিরিক্ত ভিড়ের সময় চিকিৎসা ও জরুরি পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অনুকূল থাকলে শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার জল ঢালতে যাওয়া পুণ্যার্থীদের উপর সরকারি হেলিকপ্টার থেকে ফুল ছড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এই কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে আবহাওয়া এবং বিমান চলাচলের প্রয়োজনীয় অনুমতির উপর নির্ভর করবে।

তারকেশ্বর ও কলকাতার রথযাত্রায় মুখ্যমন্ত্রী

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৪ জুলাই তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলার অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা। এরপর ১৬ জুলাই কলকাতায় ইসকনের রথযাত্রাতেও তিনি যোগ দেবেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

রথযাত্রা এবং শ্রাবণী মেলায় ভিড়ের কথা মাথায় রেখে পুণ্যার্থীদের প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে। অসুস্থ বোধ করলে নিকটবর্তী সহায়তা কেন্দ্র বা স্বাস্থ্যশিবিরে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।