ব্যবসা-বাণিজ্য

অবসরের পরও EPF-এ সুদ! ৫৮ থেকে ৬১ বছর পর্যন্ত কী নিয়ম জানাল EPFO?

নয়াদিল্লি: চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর EPF-এর টাকা না তুললে কি সঙ্গে সঙ্গে সুদ বন্ধ হয়ে যায়? অনেক চাকরিজীবী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর মনে এই প্রশ্ন থাকে। এবার সেই বিভ্রান্তি দূর করল Employees’ Provident Fund Organisation বা EPFO। সংস্থার সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, ৫৮ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার পরও EPF ব্যালেন্সে আরও ৩ বছর পর্যন্ত সুদ জমা হতে পারে।

সহজ কথায়, কেউ যদি ৫৮ বছর বয়সে চাকরি থেকে অবসর নেন এবং তাঁর EPF টাকা সঙ্গে সঙ্গে না তোলেন, তাহলে সেই টাকা ৬১ বছর বয়স পর্যন্ত সুদ পেতে পারে। তবে এই সময়সীমা পেরিয়ে গেলে অ্যাকাউন্ট inoperative হয়ে যায়। তখন আর নতুন করে সুদ জমা হয় না।

EPFO ঠিক কী জানিয়েছে?

EPFO-র আপডেট অনুযায়ী, ৫৮ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার পর EPF অ্যাকাউন্টে ৩ বছর পর্যন্ত সুদ জমা হতে পারে। অর্থাৎ অবসরের পর সঙ্গে সঙ্গে টাকা না তুললেও সদস্যরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুদের সুবিধা পাবেন।

তবে এই সুবিধা অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়। অবসরের ৩ বছর পরে অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় বা inoperative হিসেবে ধরা হয়। EPFO-র FAQ-তেও বলা হয়েছে, inoperative account-এ সুদ জমা হয় না। তাই ৬১ বছর বয়সের পর টাকা অ্যাকাউন্টে ফেলে রাখলে নতুন সুদের সুবিধা মিলবে না।

৫৮ থেকে ৬১-কীভাবে কাজ করবে নিয়ম?

ধরা যাক, কোনও কর্মী ৫৮ বছর বয়সে চাকরি থেকে অবসর নিলেন। তিনি যদি অবসরের পর সঙ্গে সঙ্গে EPF টাকা না তোলেন, তাহলে তাঁর জমা টাকা আরও ৩ বছর সুদ পেতে পারে। এই সময়সীমা শেষ হবে ৬১ বছর বয়সে।

কিন্তু ৬১ বছর পার হয়ে গেলে অ্যাকাউন্ট inoperative হয়ে যাবে। তখন টাকা EPFO-র কাছে সুরক্ষিত থাকলেও নতুন করে সুদ জমা হবে না। সদস্য বা মনোনীত ব্যক্তি নিয়ম অনুযায়ী পরে টাকা দাবি করতে পারবেন।

কেন এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ?

অনেকেই মনে করেন, চাকরি ছাড়লেই বা অবসর নিলেই EPF সুদ বন্ধ হয়ে যায়। আবার কেউ কেউ ভাবেন, টাকা না তুললে দীর্ঘদিন ধরে সুদ জমতেই থাকবে। EPFO-র এই ব্যাখ্যা দুই ধরনের ভুল ধারণাই পরিষ্কার করে।

অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য এই নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ। কারণ EPF অনেকের কাছে অবসরের সবচেয়ে বড় সঞ্চয়। কখন টাকা তোলা উচিত, কতদিন রেখে দিলে সুদ পাওয়া যাবে এবং কখন অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে—এই বিষয়গুলি জানা থাকলে আর্থিক পরিকল্পনা করা সহজ হয়।

এখন EPF সুদের হার কত?

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য EPF আমানতের সুদের হার ৮.২৫% রাখা হয়েছে বলে শ্রম মন্ত্রক ও EPFO-সংক্রান্ত সরকারি আপডেটে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ যোগ্য EPF ব্যালেন্সে এই হার অনুযায়ী বার্ষিক সুদ হিসাব করা হবে।

তবে সুদ কবে পাসবুকে দেখা যাবে, তা EPFO-র হিসাব ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে। অনেক সময় সুদ জমা দেখাতে দেরি হলেও, সাধারণত হিসাব নির্দিষ্ট অর্থবছরের জন্যই করা হয়।

কারা সাবধান হবেন?

যাঁরা ৫৮ বছর বয়সে অবসর নিয়েছেন এবং EPF টাকা এখনও তোলেননি, তাঁদের বয়স ও অ্যাকাউন্টের অবস্থা যাচাই করা উচিত। ৬১ বছর বয়সের আগে টাকা তোলা বা দাবি প্রক্রিয়া শুরু করলে অকারণে সুদ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

এছাড়া যাঁরা অবসরের পর আবার EPF-ভুক্ত চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পুরনো ও নতুন অ্যাকাউন্ট, UAN এবং ট্রান্সফার সংক্রান্ত বিষয় আলাদা করে দেখা দরকার। প্রয়োজনে EPFO পোর্টাল, UMANG অ্যাপ বা EPFO অফিসের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

টাকা কি নিরাপদ থাকে?

অ্যাকাউন্ট inoperative হয়ে গেলেও টাকা হারিয়ে যায় না। সদস্য বা তাঁর nominee নিয়ম অনুযায়ী সেই টাকা দাবি করতে পারেন। তবে নতুন সুদ জমা না হওয়ায় দীর্ঘদিন টাকা ফেলে রাখলে আর্থিকভাবে ক্ষতি হতে পারে। তাই অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের EPFO-র নিয়ম মেনে সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।

EPFO পরিষেবায় নতুন উদ্যোগ

সাম্প্রতিক সময়ে EPFO দাবি নিষ্পত্তি, ডিজিটাল যাচাই এবং সদস্য পরিষেবা সহজ করার দিকে জোর দিয়েছে। দ্রুত claim settlement, Aadhaar-based verification এবং online profile update-এর মতো ব্যবস্থা সদস্যদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে পারে। তবে অনেক সদস্য এখনও claim delay বা interest credit delay নিয়ে অভিযোগ করেন। তাই পরিষেবা আরও উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে।

এখন কী করবেন সদস্যরা?

অবসর নেওয়ার পর EPF টাকা রাখা বা তোলা—এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তির আর্থিক প্রয়োজনের উপর নির্ভর করে। কিন্তু ৫৮ থেকে ৬১ বছর পর্যন্ত সুদ মেলার নিয়ম এবং ৬১ বছরের পর অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হওয়ার বিষয়টি জানা জরুরি।

সব মিলিয়ে, EPFO-র আপডেট অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল। EPF টাকা তোলার আগে বয়স, অ্যাকাউন্টের অবস্থা এবং সুদের সময়সীমা দেখে নেওয়া উচিত।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।