দেশ

বর্ষার দাপুটে প্রত্যাবর্তন, ইসরোর উপগ্রহ চিত্রে উত্তর ভারতে ঘন মেঘের সারি

একটানা তাপপ্রবাহ, অস্বস্তিকর আর্দ্রতা এবং বৃষ্টির দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে উত্তর ভারতের আকাশে ধরা দিল স্বস্তির ছবি। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)-র প্রকাশিত সর্বশেষ উপগ্রহ চিত্রে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু নতুন শক্তি নিয়ে উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, জুন মাসে শতাব্দীর অন্যতম শুষ্ক পরিস্থিতির পর এই পরিবর্তন শুধু আবহাওয়ার নয়, কৃষি ও জলসম্পদ ব্যবস্থার জন্যও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, বর্ষার এই পুনরুজ্জীবন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উত্তর, মধ্য এবং পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিনের বৃষ্টির ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ হওয়ার আশা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ISRO-র উপগ্রহ চিত্রে কী ধরা পড়ল?

বুধবার প্রকাশিত ISRO-র থার্মাল ইনফ্রারেড উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, মধ্য ভারত থেকে ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে ঘন বর্ষার মেঘ। বঙ্গোপসাগরে তৈরি সক্রিয় আবহাওয়া ব্যবস্থা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর শক্তিশালী প্রবাহের কারণে দ্রুত মেঘের বিস্তার ঘটছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগর, দুই দিক থেকেই জলীয় বাষ্পে ভরপুর বাতাস উত্তর ভারতে এসে মিলিত হয়েছে। একই সঙ্গে মৌসুমী অক্ষরেখাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থানের দিকে সরে আসছে। এই দুই কারণ মিলেই টানা এবং বিস্তৃত বৃষ্টির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

দিল্লি-এনসিআর থেকে পঞ্জাব, কোথায় কবে বৃষ্টি?

IMD-এর তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাইয়ের মধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের অধিকাংশ এলাকা এবং পূর্ব হরিয়ানার কিছু অংশে প্রবেশ করেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লি-এনসিআর, চণ্ডীগড়, পঞ্জাব এবং হরিয়ানার আরও বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বর্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করবে বলে পূর্বাভাস।

আবহাওয়া দফতরের মতে, প্রথমে বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়াসহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি শুরু হবে। এরপর ধীরে ধীরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির বিস্তার ঘটবে। এর ফলে জুনজুড়ে তাপপ্রবাহে পুড়ে যাওয়া দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের তাপমাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।

রাজস্থানের অপেক্ষা এখনও শেষ নয়

বর্ষার সক্রিয় বলয়ের বাইরে এখনও রয়েছে রাজস্থানের বড় অংশ। তবে উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ঘন মেঘের বিশাল অংশ দ্রুত পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজস্থানের আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় মৌসুমী বায়ু প্রবেশের সম্ভাবনা প্রবল বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

রাজস্থানে বর্ষার দেরিতে আগমন কৃষি এবং পানীয় জলের উপর ইতিমধ্যেই প্রভাব ফেলেছে। তাই বর্ষার এই অগ্রগতি সেখানে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই বর্ষার প্রত্যাবর্তন?

চলতি বছরের জুন মাসে দেশজুড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে, যা ১৯০১ সালের পর থেকে অন্যতম শুষ্ক জুন হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খরিফ ফসলের বপনেও। পর্যাপ্ত মাটির আর্দ্রতা না থাকায় বহু কৃষক নির্ধারিত সময়ে চাষ শুরু করতে পারেননি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জুলাই মাসের প্রথমার্ধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে যদি ধারাবাহিকভাবে ভালো বৃষ্টি হয়, তাহলে বৃষ্টির ঘাটতি অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি কৃষিজমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ফিরে আসবে, যা ধান, ডাল, ভুট্টাসহ বিভিন্ন খরিফ ফসলের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

সামনে কী বলছে পূর্বাভাস?

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিনে আরও দুটি নিম্নচাপ ব্যবস্থা মৌসুমী বায়ুকে শক্তিশালী করতে পারে। এর জেরে উত্তর ভারত, মধ্য ভারত এবং পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বর্ষার এই প্রত্যাবর্তন শুধু গরম থেকে স্বস্তিই দেবে না, কৃষি, জলাধার এবং সামগ্রিক পরিবেশের জন্যও ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে। এখন নজর থাকবে, জুলাইয়ের প্রথম দুই সপ্তাহে এই সক্রিয় বর্ষা দেশের বৃষ্টির ঘাটতি কতটা পূরণ করতে পারে।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।