দেশ

‘সংসদ চলো’ ঘিরে উত্তপ্ত দিল্লি, কাঁদানে গ্যাস-লাঠিচার্জ, আটক সিজেপি নেতা

নয়াদিল্লি: সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মধ্য দিল্লি। সোমবার যন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি-র হাজার হাজার সমর্থক। পুলিশের বাধা অতিক্রমের চেষ্টা ঘিরে একাধিক জায়গায় ধস্তাধস্তি হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠি ব্যবহারের দৃশ্যও সামনে এসেছে।

সিজেপি জানিয়েছে, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে যন্তর মন্তর থেকে আটক করেছে পুলিশ। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য তাঁর আটক বা গ্রেফতারের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা, শুরু ধস্তাধস্তি

সকাল থেকেই যন্তর মন্তরে ভিড় বাড়তে থাকে। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে একসময় দশ হাজারের বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। বিক্ষোভকারীদের একাংশ সংসদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের আটকে দেয়।

প্রথমে যন্তর মন্তরের কাছে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে বিক্ষোভকারীদের ছোট ছোট দল মধ্য দিল্লির বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে সংসদ এলাকার দিকে এগোনোর চেষ্টা করে। সংসদের আশপাশে বহুস্তরীয় ব্যারিকেড বসানো হয়েছিল। সেগুলি অতিক্রমের চেষ্টা ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সংবাদচিত্রে নিরাপত্তারক্ষীদের কয়েকজন বিক্ষোভকারীর উপর লাঠি ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনকারীদের দাবি, কয়েকটি জায়গায় কাঁদানে গ্যাসও ছোড়া হয়। তবে দিল্লি পুলিশ বলেছে, পরিস্থিতি পেশাদার পদ্ধতিতে সামলানো হয়েছে এবং বাহিনী প্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সংঘর্ষে ঠিক কতজন বিক্ষোভকারী বা পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন, তার কোনও নিশ্চিত সরকারি হিসাব এখনও প্রকাশিত হয়নি।

মধ্য দিল্লিজুড়ে ছড়াল বিক্ষোভ

যন্তর মন্তরের বাইরে রেল ভবন, শাস্ত্রী ভবন, কনস্টিটিউশন ক্লাব এবং সংসদ সংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের জমায়েত দেখা যায়। পুলিশ বারবার মাইকে তাঁদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছনো আটকাতে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়। মোতায়েন করা হয় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী ‘বজ্র’ গাড়ি, জলকামান এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিশেষ দল। সরকারি দপ্তরের কয়েকটি প্রবেশপথও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

বিক্ষোভের প্রভাব পড়ে জনপথ ও কনট প্লেস সংলগ্ন এলাকাতেও। পুলিশের তল্লাশি এবং রাস্তা ঘুরিয়ে দেওয়ার কারণে মধ্য দিল্লির একাধিক পথে যানজট তৈরি হয়। বিভিন্ন মেট্রো স্টেশন থেকে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়া মানুষের ভিড়ও দেখা যায়। নিরাপত্তার কারণে কয়েকটি স্টেশনের প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার খবর সামনে এসেছে।

ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ ব্যাহত করতে সংকেত আটকানোর যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন। তবে এই দাবির পক্ষে পুলিশ বা টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের কোনও নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আগে থেকেই অনুমতি দেয়নি পুলিশ

সিজেপি-র ‘সংসদ চলো’ মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে আগেই জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। নয়াদিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। অনুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল ও বিক্ষোভের উপর এই ধারায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যায়।

নিরাপত্তার জন্য দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২৫টির বেশি ব্যাটালিয়নও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। নয়াদিল্লিকে ১৫টি নিরাপত্তা অঞ্চলে ভাগ করে প্রতিটি অঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয় উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের।

তবে বাহিনী মোতায়েনের এই বিস্তারিত সংখ্যাগুলি দিল্লি পুলিশের কোনও পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ্য বিবৃতিতে এখনও একসঙ্গে জানানো হয়নি।

কেন ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি?

সাম্প্রতিক প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির ডাক দেয় সিজেপি। তাদের প্রধান দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা পরিচালনায় সংস্কার এবং দায় নির্ধারণের দাবিও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।

এই আন্দোলনের সমর্থনে গত ২৮ জুন যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেছিলেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শারীরিক অবস্থার অবনতির আশঙ্কায় ১৮ জুলাই তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার হাসপাতাল থেকে পাঠানো বার্তায় শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় গ্রহণ-সহ তিনটি শর্তে অনশন ভাঙার কথা জানিয়েছেন তিনি।

জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক

বিক্ষোভ চলাকালীন সিজেপি-র দুই প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন। সংগঠনের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, প্রায় ১০ মিনিটের বৈঠকে তাঁদের লিখিত দাবি জমা দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভিতরে আলোচনা করার আশ্বাস পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ বা আন্দোলনকারীদের অন্য দাবিগুলি মেনে নেওয়া হয়েছে, এমন কোনও তথ্যও নেই।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।