রাজনীতি

রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা কোয়েল মল্লিকের, তৃণমূলের সদস্যসংখ্যা কমে ৯

নয়াদিল্লি: রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী কোয়েল মল্লিক। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যানকে লেখা চিঠিতে সদস্যপদ ছাড়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। পদত্যাগপত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আবেদন জানালেও কেন তিনি সরে দাঁড়ালেন, তার কোনও কারণ উল্লেখ করেননি।

রাজ্যসভার পক্ষ থেকে পদত্যাগ গ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও সামনে আসেনি। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সদস্যের চিঠি চেয়ারম্যান গ্রহণ করার পরেই তাঁর আসন শূন্য হয়। পদত্যাগটি স্বেচ্ছায় ও প্রকৃত সিদ্ধান্ত কি না, প্রয়োজনে তা যাচাই করার ক্ষমতাও চেয়ারম্যানের রয়েছে।

পদত্যাগপত্রে কী জানিয়েছেন কোয়েল?

কোয়েলের সরকারি নাম রুক্মিণী মল্লিক। চেয়ারম্যানকে লেখা চিঠিতে তিনি রাজ্যসভার সদস্যপদ অবিলম্বে ছাড়তে চান বলে জানিয়েছেন। অল্প সময়ের সাংসদ জীবনে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান, ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং সচিবালয়ের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন। তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্য, ব্যক্তিগত কারণ বা অন্য দলে যোগদানের বিষয়ে চিঠিতে কিছু বলা হয়নি।

তৃণমূলের পক্ষ থেকেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে কোয়েল শুধু সাংসদ পদ ছাড়ছেন, নাকি দলীয় রাজনীতিতেও অন্য সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন—তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তিন মাসের কিছু বেশি সময়েই সরে দাঁড়ালেন

চলতি বছরের মার্চে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন কোয়েল। এপ্রিলের শুরুতে তাঁর মেয়াদ শুরু হয় এবং পরে সাংসদ হিসেবে শপথ নেন। সেই হিসাবে সংসদে প্রবেশের তিন মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই পদত্যাগপত্র দিলেন তিনি।

অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ কোয়েলকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে বিশেষ নজর কেড়েছিল। দলের সাংস্কৃতিক ও জনসংযোগের মুখ হিসেবেও তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা ছিল। সেই কারণে এত দ্রুত তাঁর সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠছে।

রাজ্যসভায় তৃণমূলের সদস্যসংখ্যা কত হবে?

কোয়েলের আগে তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক সাংসদ পদ ছেড়েছিলেন। পরে তিনজনই বিজেপিতে যোগ দেন এবং পশ্চিমবঙ্গের শূন্য আসনগুলির উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

ওই তিনজনের পদত্যাগের আগে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সদস্য ছিলেন ১৩ জন। তাঁদের সরে যাওয়ার পরে সংখ্যা দাঁড়ায় ১০। কোয়েলের পদত্যাগ চেয়ারম্যান গ্রহণ করলে উচ্চকক্ষে দলের কার্যকর সদস্যসংখ্যা নেমে আসবে ৯-এ।

সংখ্যা কমলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের বক্তব্য রাখার সুযোগ, সংসদীয় কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব এবং বিভিন্ন বিষয়ে দলের উপস্থিতিতে প্রভাব পড়তে পারে। তবে কোনও বিলের ফল নির্ধারণে কতটা প্রভাব পড়বে, তা সংশ্লিষ্ট ভোটের সময় অন্য দলগুলির অবস্থানের উপরও নির্ভর করবে।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনার ভিত্তি কতটা?

আগের তিন সাংসদের বিজেপিতে যোগদানের কারণে কোয়েলের ভবিষ্যৎ নিয়েও একই আলোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু অভিনেত্রী নিজে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা বলেননি। বিজেপির পক্ষ থেকেও তাঁকে দলে নেওয়া বা রাজ্যসভায় ফের প্রার্থী করার কোনও ঘোষণা হয়নি।

তাই এই পর্যায়ে তাঁর সম্ভাব্য দলবদলকে নিশ্চিত খবর হিসেবে লেখা যাবে না। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হল—তিনি রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়তে চেয়ে চিঠি দিয়েছেন এবং তার কারণ প্রকাশ করেননি।

এখন নজর থাকবে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন কি না এবং কোয়েল নিজের সিদ্ধান্তের কারণ প্রকাশ্যে জানান কি না। পদত্যাগ গৃহীত হলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরও একটি রাজ্যসভা আসন শূন্য হবে এবং সেই আসনে উপনির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।