রাজ্য

‘মা আহারে’ প্রকল্পে বড় বদল: ভর্তুকি দ্বিগুণ, ৫ টাকায় মিলবে কী কী?

কলকাতা: রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য চালু স্বল্পমূল্যের খাদ্য প্রকল্প ‘মা আহার প্রকল্প’-কে আরও কার্যকর ও পুষ্টিকর করে তুলতে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। মাত্র ৫ টাকায় খাবার পাওয়া এই স্বল্পমূল্যের এই খাদ্য প্রকল্পে প্রতি মিলের সরকারি ভর্তুকি ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা করা হয়েছে। ফলে একই মূল্যে উপভোক্তারা এখন থেকে আগের তুলনায় অনেক বেশি পুষ্টিকর এবং বৈচিত্র্যময় খাবার পাবেন।

নগরোন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সম্প্রতি এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই নতুন নির্দেশিকা রাজ্যের অধিকাংশ পুরসভার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে বিভিন্ন ‘মা আহার’ কেন্দ্রে নতুন মেনু চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।।

শুধু পেট ভরানো নয়, এবার লক্ষ্য পুষ্টিকর খাবার

সরকারি সূত্রের দাবি, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য শুধু স্বল্পমূল্যে খাবার দেওয়া নয়, বরং সাধারণ মানুষের পাতে সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য পৌঁছে দেওয়া। সেই ভাবনা থেকেই মেনুতে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সপ্তাহে দু’দিন মাছ-ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা হবে ডাল এবং সবজি। আরও দু’দিন ডিম-ভাতের পাশাপাশি থাকবে ডাল ও সবজি। বাকি দু’দিন নিরামিষ মেনুতে ভাত, ডাল ও সবজির সঙ্গে অতিরিক্ত হিসেবে দেওয়া হবে চাটনি এবং পাঁপড় ভাজা।

এর ফলে আগের তুলনায় খাবারের বৈচিত্র্য যেমন বাড়বে, তেমনই শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির দিকেও নজর দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

কীভাবে বদলেছে প্রকল্প?

এই প্রকল্পের শুরু হয়েছিল আগের সরকারের আমলে ‘মা ক্যান্টিন’ নামে। তখন প্রতি মিলের জন্য সরকারি ভর্তুকি ছিল ১০ টাকা এবং ৫ টাকার বিনিময়ে মূলত ডিম-ভাত পরিবেশন করা হতো।

পরবর্তীকালে নতুন সরকার প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করে ‘মা আহারে’ রাখে। একই সঙ্গে সপ্তাহে দু’দিন মাছ-ভাত পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবার সেই উদ্যোগকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ভর্তুকি দ্বিগুণ করা হল এবং খাবারের তালিকায় যুক্ত করা হল ডাল, সবজি, চাটনি ও পাঁপড়ের মতো অতিরিক্ত পদ।

পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মানে কোনও আপস নয়

নতুন নির্দেশিকায় শুধু খাবারের পরিমাণ বা মেনুই নয়, বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে খাদ্যের গুণমান এবং স্বাস্থ্যবিধির উপরও। সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রান্না থেকে শুরু করে খাবার পরিবেশন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। ক্যান্টিনের পরিচ্ছন্নতা, রান্নার মান, ব্যবহৃত উপকরণের গুণগত মান এবং খাদ্যের পুষ্টিমূল্য, সব ক্ষেত্রেই নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে। যেসব স্বনির্ভর গোষ্ঠী এই ক্যান্টিনগুলি পরিচালনা করছে, তাঁদেরও নির্ধারিত নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বনির্ভর গোষ্ঠীর জন্যও বড় স্বস্তি

প্রতি মিলে সরকারি ভর্তুকি ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা হওয়ায় স্বস্তিতে ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরাও। তাঁদের মতে, বর্তমান বাজারদরে আগের ভর্তুকিতে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা কঠিন হয়ে উঠছিল।

নতুন ভর্তুকি কার্যকর হলে খাবারের মান বজায় রাখা যেমন সহজ হবে, তেমনই ক্যান্টিন পরিচালনার আর্থিক চাপও অনেকটাই কমবে।

সাধারণ মানুষের জন্য কী বদলাবে?

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সময়ে শহর ও শহরতলির বহু নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ প্রতিদিনের খাবারের জন্য ‘মা আহারে’ প্রকল্পের উপর নির্ভরশীল। শ্রমজীবী মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক, পথবিক্রেতা থেকে শুরু করে বহু প্রবীণ নাগরিকও এই পরিষেবার সুবিধা নিয়ে থাকেন।

সরকারের আশা, একই ৫ টাকার বিনিময়ে আরও উন্নত ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার ফলে প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে। পাশাপাশি খাদ্যের মান, পরিচ্ছন্নতা এবং সুষম পুষ্টির উপর জোর দেওয়ায় এটি শুধু একটি স্বল্পমূল্যের খাদ্য প্রকল্প হিসেবেই নয়, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।