‘মুখ্যমন্ত্রীর দূরদর্শিতা আছে’, বিধায়কদের সামনেই প্রশংসা ওম বিড়লার
কলকাতা: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করে তুলতে বিধায়কদের নিয়মিত শেখার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। শুক্রবার কলকাতার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্যদের জন্য আয়োজিত দু’দিনের ওরিয়েন্টেশন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—শুধু বক্তব্য রাখাই নয়, বিধানসভায় উপস্থিত থেকে শেখার মানসিকতাও একজন জনপ্রতিনিধির বড় দায়িত্ব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওম বিড়লা বলেন, বিধানসভায় যতক্ষণ থাকবেন, নতুন কিছু শেখার সুযোগ থাকবে। বলার সুযোগ থাকুক বা না থাকুক, অধিবেশনে উপস্থিত থাকাটা জরুরি। তাঁর মতে, সংসদীয় গণতন্ত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের বড় পথ হল আলোচনায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অন্য সদস্যদের বক্তব্য ও কার্যপ্রণালী মন দিয়ে দেখা।
মানুষের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল হতে হবে বিধায়কদের
লোকসভার স্পিকার বলেন, একজন বিধায়কের উপর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে। আইন প্রণয়ন, জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরা এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, একটি সফল বিধানসভা সেই যেখানে শুধু সমস্যার কথা বলা হয় না, সমাধানের পথও খোঁজা হয়। তাই বিধায়কদের তথ্য, গবেষণা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
ওম বিড়লা আরও বলেন, অতীতের বিধানসভা ও সংসদের বিতর্ক নিয়মিত পড়লে জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যের মান উন্নত হয়। এতে আইনসভায় আলোচনা আরও সমৃদ্ধ হয় এবং নীতি নির্ধারণেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
আরো পড়ুন: বিধায়কদের প্রশিক্ষণ শিবির থেকে বেরিয়ে গেলেন কুণাল ঘোষ, স্পিকারদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
ডিজিটাল যুগে তথ্যভিত্তিক রাজনীতির উপর জোর
বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সময়ের কথা উল্লেখ করে লোকসভার স্পিকার বলেন, এখন তথ্য পাওয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ। বিভিন্ন দেশের বাজেট, আইন বা নীতিগত সিদ্ধান্তও খুব দ্রুত জানা যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিধায়কদের নিজেদের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন তিনি।
তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার, একজন জনপ্রতিনিধির শেখার প্রক্রিয়া কোনও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হয় না। নতুন প্রযুক্তি, নতুন আইন এবং সমাজের পরিবর্তিত বাস্তবতা সম্পর্কে নিয়মিত ধারণা রাখা এখন আরও বেশি প্রয়োজন।
বাংলার ঐতিহ্যের প্রসঙ্গও তুললেন ওম বিড়লা
পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথাও এদিন উঠে আসে ওম বিড়লার বক্তব্যে। তিনি বলেন, বাংলা শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য ও উদ্যোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেই ঐতিহ্যকে নতুনভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়নমূলক কাজ গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। সেই কাজে শাসক ও বিরোধী—সব পক্ষের গঠনমূলক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি?
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার উদ্যোগে আয়োজিত এই দু’দিনের প্রশিক্ষণ শিবিরের উদ্দেশ্য হল নবীন ও প্রবীণ, উভয় ধরনের বিধায়কদের সংসদীয় রীতি, আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া, বিধানসভার কার্যপ্রণালী এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পর্কে আরও দক্ষ করে তোলা। কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভার স্পিকার, সংসদীয় বিশেষজ্ঞ এবং সাংবিধানিক পদাধিকারীদের অংশগ্রহণের ফলে প্রতিনিধিরা বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সুশাসনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা লাভের সুযোগ পাবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে জনপ্রতিনিধিদের প্রস্তুতি ও দক্ষতার উপর। সেই কারণে এই ধরনের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি আইনসভার কাজের মান উন্নত করতে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সংসদীয় রীতিনীতি শেখার প্রয়োজনীয়তা
ওম বিড়লার মতে, আইনসভায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হলে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য যথেষ্ট নয়। প্রশ্নোত্তর পর্ব, আলোচনার নিয়ম, বিল পেশের পদ্ধতি এবং কমিটির কাজকর্ম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। এতে একজন বিধায়ক নিজের এলাকার মানুষের সমস্যা আরও সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেন।
নবীন বিধায়কদের জন্য বার্তা
প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিশেষ করে নতুন বিধায়কদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই প্রথমবার আইনসভায় আসেন, তাই অধিবেশনের নিয়ম, বক্তব্য রাখার পদ্ধতি এবং তথ্যভিত্তিক প্রস্তুতির বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা পাওয়া তাঁদের কাজে লাগবে।
শেষ কথা
ওম বিড়লার বক্তব্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—জনপ্রতিনিধির কাজ শুধু বক্তব্য রাখা বা রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরা নয়। মানুষের সমস্যা বুঝে আইনসভায় তা কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা, তথ্যভিত্তিক আলোচনা করা এবং সমাধানের পথ খোঁজাও সমান জরুরি।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে বিধায়কদের প্রস্তুতি, উপস্থিতি এবং শেখার আগ্রহ বড় ভূমিকা নেয়। সেই বার্তাই এদিন পশ্চিমবঙ্গের বিধায়কদের সামনে তুলে ধরলেন লোকসভার স্পিকার।
সূত্র: লোকসভার স্পিকারের বক্তব্য ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।
