দেশ

রথযাত্রা স্পেশাল! পুরীগামী যাত্রীদের জন্য ৩০০টির বেশি বিশেষ ট্রেন রেলের

পুরী: জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ঘিরে পুরীতে ভক্তসমাগমের কথা মাথায় রেখে বড় প্রস্তুতি নিয়েছে ভারতীয় রেল। আগামী ১৬ জুলাই রথযাত্রা উপলক্ষে পুরীগামী যাত্রীদের জন্য ৩০০-র বেশি বিশেষ ট্রেন চালানো হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।

রেল সূত্রে জানা যাচ্ছে, নিয়মিত ট্রেন পরিষেবার পাশাপাশি এই বিশেষ ট্রেনগুলি চালানো হবে। শুধু ট্রেন বাড়ানো নয়, পুরী স্টেশনেও অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে আলাদা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ৩০ হাজারের বেশি ভক্তের জন্য অস্থায়ী অপেক্ষার জায়গা, বাড়তি টিকিট কাউন্টার, খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়েছে। রথযাত্রার সময় পুরী শুধু ওড়িশা নয়, গোটা দেশের ভক্তদের গন্তব্য হয়ে ওঠে। তাই যাত্রী চাপ সামলানো, নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং স্টেশনে পরিষেবা সচল রাখা রেলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

এক নজরে

  • রথযাত্রা উপলক্ষে পুরীগামী যাত্রীদের জন্য ৩০০-র বেশি বিশেষ ট্রেন
  • নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি অতিরিক্ত পরিষেবা চালাবে ভারতীয় রেল
  • পুরী স্টেশনে ৩০ হাজারের বেশি ভক্তের জন্য অস্থায়ী ব্যবস্থা
  • ভিড় নিয়ন্ত্রণ, টিকিট কাউন্টার, খাবার ও পানীয় জলে বাড়তি নজর
  • পুরী–কোরাপুট এক্সপ্রেস চালু হওয়ায় ওড়িশার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ আরও সহজ হবে


কেন এত বড় প্রস্তুতি নিচ্ছে রেল?

রথযাত্রার সময় পুরীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ পৌঁছন। জগন্নাথদেব, বলভদ্র ও সুভদ্রার রথযাত্রা দেখতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। অনেকেই সড়কপথের বদলে ট্রেনকে ভরসা করেন। এই সময় পুরী, ভুবনেশ্বর, কটকসহ ওড়িশার গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে যাত্রী চাপ অনেক বেড়ে যায়। সাধারণ ট্রেনের টিকিট পাওয়া কঠিন হয়। স্টেশনেও ভিড় নিয়ন্ত্রণ বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতি এড়াতেই আগেভাগে বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলের লক্ষ্য, ভক্তদের যাত্রা যতটা সম্ভব সহজ ও নিরাপদ করা।

কত বিশেষ ট্রেন চলবে?

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, রথযাত্রার সময় ৩০০-র বেশি বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। এই ট্রেনগুলি নিয়মিত পরিষেবার বাইরে অতিরিক্ত ব্যবস্থা হিসেবে চলবে। এর ফলে পুরীগামী যাত্রীদের জন্য আসন ও যাতায়াতের সুযোগ বাড়বে। ওড়িশার বিভিন্ন জেলা, প্রতিবেশী রাজ্য এবং দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আসা ভক্তদের এতে সুবিধা হতে পারে। তবে যাত্রীদের ট্রেনের সময়সূচি ও আসন সংক্রান্ত তথ্য আগে দেখে নেওয়া জরুরি। কারণ উৎসবের সময় শেষ মুহূর্তে টিকিটের চাপ অনেক বেড়ে যায়।

পুরী স্টেশনে কী কী ব্যবস্থা থাকবে?

রথযাত্রার সময় পুরী স্টেশন কয়েক দিনের জন্য অত্যন্ত ব্যস্ত হয়ে ওঠে। অনেক যাত্রী ট্রেন ধরার আগে দীর্ঘ সময় স্টেশনে থাকেন। আবার অনেকেই রথযাত্রা শেষে ফেরার জন্য স্টেশনে ভিড় করেন। এই চাপ সামলাতে স্টেশনে ৩০ হাজারের বেশি ভক্তের জন্য অস্থায়ী অপেক্ষার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। বাড়ানো হচ্ছে টিকিট কাউন্টার। খাবার বিতরণ, পানীয় জল, ঘোষণা ব্যবস্থা এবং যাত্রী নির্দেশনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রেলের দাবি, যাত্রীদের চলাচল যাতে আটকে না যায়, সেই জন্য আলাদা পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভিড় বেশি হলে কোথায় অপেক্ষা করতে হবে, কোন পথে প্ল্যাটফর্মে যেতে হবে, সেই দিকনির্দেশও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর

রথযাত্রার সময় পুরী স্টেশনে একই সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ পৌঁছতে পারেন। তাই প্ল্যাটফর্ম, প্রবেশপথ, টিকিট কাউন্টার এবং অপেক্ষার জায়গায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ জরুরি। রেল নিরাপত্তা বাহিনী, স্টেশন কর্মী এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় রেখে ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। জরুরি পরিষেবা, ঘোষণা ব্যবস্থা এবং যাত্রী সহায়তা কেন্দ্রও প্রস্তুত রাখা হবে। বিশেষ করে বয়স্ক ভক্ত, শিশু, মহিলা এবং অসুস্থ যাত্রীদের জন্য পরিষেবা ঠিক রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভিড়ের সময় ছোট ভুলও বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই যাত্রীদেরও নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

পুরী–কোরাপুট এক্সপ্রেস কেন গুরুত্বপূর্ণ?

রথযাত্রার আগে পুরী–কোরাপুট এক্সপ্রেস চালু হওয়াকে ওড়িশার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ট্রেন পুরীকে দক্ষিণ ও পশ্চিম ওড়িশার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করবে। কোরাপুট, রায়গড়া, বলাঙ্গির, সম্বলপুর, অঙ্গুল, ভুবনেশ্বর ও খুর্দা রোডের মতো একাধিক এলাকার যাত্রী এই পরিষেবা থেকে সুবিধা পেতে পারেন। তীর্থযাত্রীদের পাশাপাশি পর্যটক, ছাত্র, রোগী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীদের জন্যও এই রুট গুরুত্বপূর্ণ। পুরী শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, ওড়িশার বড় পর্যটন শহরও। তাই রেল যোগাযোগ উন্নত হলে স্থানীয় অর্থনীতি, পর্যটন এবং সাধারণ মানুষের চলাচলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পুরী স্টেশনের উন্নয়নেও নজর

পুরী স্টেশনকে আরও আধুনিক করার কাজও চলছে। রথযাত্রার প্রস্তুতির সঙ্গে স্টেশনের উন্নয়ন কাজ পর্যালোচনা করেছেন রেলমন্ত্রী ও ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রী চলাচল, প্ল্যাটফর্ম ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং পরিষেবা উন্নত করাই লক্ষ্য। রথযাত্রার মতো বড় উৎসবের সময় এই প্রস্তুতি সরাসরি পরীক্ষার মুখে পড়ে। তাই শুধু উৎসবের কয়েক দিনের ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদে পুরী স্টেশনকে আরও যাত্রীবান্ধব করার পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ।

যাত্রীদের কী করা উচিত?

রথযাত্রার সময় পুরী যাওয়ার আগে ট্রেনের সময়সূচি দেখে নেওয়া দরকার। টিকিট আগে কাটা ভালো। সম্ভব হলে শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়িয়ে যাত্রার পরিকল্পনা করা উচিত। স্টেশনে পৌঁছে রেলের ঘোষণা ও নির্দেশ মেনে চলতে হবে। শিশু ও বয়স্কদের সঙ্গে থাকলে বাড়তি সতর্কতা দরকার। ভিড়ের মধ্যে তাড়াহুড়ো না করাই নিরাপদ। খাবার, জল, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা ভালো। যাত্রার সময় সরকারি নির্দেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সহযোগিতা করাই সবচেয়ে জরুরি।

শেষ কথা

জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ঘিরে পুরীতে ভক্তদের ঢল নামতে চলেছে। সেই ভিড় সামলাতে ভারতীয় রেল ৩০০-র বেশি বিশেষ ট্রেন, পুরী স্টেশনে অস্থায়ী অপেক্ষার ব্যবস্থা এবং বাড়তি যাত্রী পরিষেবার পরিকল্পনা করেছে। এই উদ্যোগ পুরীগামী ভক্তদের যাত্রা সহজ করতে পারে। তবে ভিড়ের সময় যাত্রীদেরও সচেতন থাকতে হবে। আগে থেকে পরিকল্পনা, সঠিক ট্রেনের তথ্য এবং নিরাপত্তা নির্দেশ মেনে চলাই নিরাপদ যাত্রার মূল চাবিকাঠি।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।