দেশ

ফোন নম্বর আর নয়, ইউজারনেমেই WhatsApp! নতুন ফিচারে নজর কেন্দ্রের

ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা আরও শক্তিশালী করতে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে WhatsApp। নতুন ব্যবস্থায় ফোন নম্বর শেয়ার না করেও শুধুমাত্র একটি ইউনিক username ব্যবহার করে অন্য ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। এতে প্রথমবার কারও সঙ্গে কথা বলার সময় ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর প্রকাশ করার প্রয়োজন কমবে।

তবে এই সুবিধা পুরোপুরি চালু হওয়ার আগেই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হয়েছে ভারত সরকার। সরকারি মহলের উদ্বেগ, ফোন নম্বরের বদলে username ব্যবহারের সুযোগ প্রতারক চক্রের জন্য নতুন পথ খুলে দিতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে ভুয়ো পরিচয়, প্রতারণা, impersonation এবং সাইবার জালিয়াতির ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এক নজরে:
• WhatsApp-এ username দিয়ে যোগাযোগের নতুন সুবিধা আসছে
• ফোন নম্বর না শেয়ার করেও chat করা যাবে
• ফিচারটি privacy বাড়ালেও fraud risk নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে
• ভারত সরকার নিরাপত্তা ও অপব্যবহারের দিক খতিয়ে দেখছে
• username key নামে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থাও থাকবে

কী এই WhatsApp Username ফিচার?

WhatsApp-এর নতুন username ফিচারে ব্যবহারকারীরা চাইলে নিজের জন্য একটি ইউনিক username রাখতে পারবেন। সেই username অন্য কাউকে দিলে তিনি ফোন নম্বর না জেনেও WhatsApp-এ যোগাযোগ করতে পারবেন। ফলে personal number সবার সঙ্গে শেয়ার করার প্রয়োজন কমবে।

এই সুবিধা বাধ্যতামূলক নয়। ব্যবহারকারী চাইলে username তৈরি করবেন, না চাইলে আগের মতোই phone number দিয়ে WhatsApp ব্যবহার করতে পারবেন। ভবিষ্যতে username পরিবর্তন বা মুছে ফেলার সুযোগও থাকবে বলে জানা যাচ্ছে।

গোপনীয়তার ক্ষেত্রে কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমানে WhatsApp-এ নতুন কাউকে message করতে হলে সাধারণত phone number শেয়ার করতে হয়। ব্যবসা, online service, group বা অচেনা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনেকেই নিজের ব্যক্তিগত নম্বর দিতে অস্বস্তি বোধ করেন। Username ফিচার সেই সমস্যার একটি সমাধান হতে পারে।

বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ী, content creator, public figure বা online service ব্যবহারকারীদের জন্য এটি সুবিধাজনক হতে পারে। এতে যোগাযোগের পথ খোলা থাকবে, কিন্তু personal number প্রকাশের ঝুঁকি কমবে।

কেন উদ্বিগ্ন কেন্দ্র?

ভারতে গত কয়েক বছরে digital fraud, fake KYC, investment scam, OTP fraud এবং ভুয়ো পরিচয়ে প্রতারণার ঘটনা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে messaging app ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করা হয়। সেই কারণেই WhatsApp-এর username ব্যবস্থা প্রতারকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার দেখতে চাইছে এই ফিচারে impersonation ঠেকানোর ব্যবস্থা কতটা কার্যকর। কেউ যদি সরকারি সংস্থা, bank, courier service, পরিচিত company বা public figure-এর মতো username ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে তা বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

কীভাবে অপব্যবহার হতে পারে?

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, username ব্যবস্থার সুবিধা যেমন আছে, তেমন ঝুঁকিও আছে। কোনও প্রতারক পরিচিত সংস্থা বা ব্যক্তির কাছাকাছি দেখতে username তৈরি করে সাধারণ ব্যবহারকারীকে message করতে পারে। অনেক মানুষ verified identity না দেখে সেই message-কে সত্যি ভেবে প্রতারণার শিকার হতে পারেন।

এছাড়া investment link, fake customer care, refund fraud, KYC update, job offer বা parcel delivery scam-এর মতো পুরনো প্রতারণার ধরন username ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন রূপ নিতে পারে। তাই ফিচারটি চালুর আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

WhatsApp কী সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখছে?

WhatsApp-এর তরফে দাবি করা হচ্ছে, username চালু হলেও নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা হবে না। ব্যবহারকারীরা শুধু username দিয়ে সহজে searchable হয়ে যাবেন না। অর্থাৎ social media-র মতো public directory থাকবে না বলে জানা যাচ্ছে।

এর পাশাপাশি username key নামে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থার কথাও সামনে এসেছে। এটি একটি optional code, যা ব্যবহারকারী চাইলে নিজের username-এর সঙ্গে শেয়ার করতে পারবেন। এতে অচেনা কেউ শুধুমাত্র username জানলেই সহজে message করতে পারবে না—অতিরিক্ত key দরকার হতে পারে।

সেলিব্রিটি ও ব্র্যান্ডের নাম নিয়ে বিশেষ সতর্কতা

Username ফিচার চালু হলে public figure, celebrity, politician, brand এবং পরিচিত সংস্থার নাম নিয়ে বিভ্রান্তির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই জনপ্রিয় বা গুরুত্বপূর্ণ নামের অপব্যবহার ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।

ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং creator-রা চাইলে Facebook বা Instagram-এ ব্যবহৃত পরিচয়ের সঙ্গে WhatsApp username মিলিয়ে রাখতে পারবেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ আছে। এতে official identity বজায় রাখা সহজ হবে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদেরও সতর্ক থাকতে হবে—কোনও message পেলেই সেটিকে verified ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

গোপনীয়তা বনাম নিরাপত্তা

WhatsApp Username ফিচার একদিকে privacy বাড়াতে পারে, অন্যদিকে security challenge তৈরি করতে পারে। ফোন নম্বর না দেখানো ব্যবহারকারীর জন্য সুবিধাজনক হলেও, পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা দুর্বল হলে প্রতারণার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও নতুন privacy feature চালুর সময় user education খুব জরুরি। ব্যবহারকারীদের বুঝতে হবে, username দেখে কাউকে বিশ্বাস করা যাবে না। কোনও payment, OTP, bank details, document বা personal information শেয়ার করার আগে পরিচয় যাচাই করা জরুরি।

সাধারণ ব্যবহারকারীদের কী করা উচিত?

এই ফিচার চালু হলে ব্যবহারকারীদের কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অচেনা username থেকে আসা message-এ link খুলবেন না। কোনও bank, government office বা courier service-এর নামে message এলেও official website বা verified number থেকে নিশ্চিত না হয়ে তথ্য দেবেন না।

Username key ব্যবহার করার সুযোগ থাকলে সেটি সচেতনভাবে ব্যবহার করা উচিত। একই সঙ্গে suspicious account block ও report করার অভ্যাস রাখতে হবে। WhatsApp-এর end-to-end encryption message-এর content সুরক্ষিত রাখলেও fraud থেকে বাঁচতে ব্যবহারকারীর নিজের সতর্কতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ কথা

WhatsApp-এর username ফিচার ব্যবহারকারীদের privacy বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে। ফোন নম্বর না শেয়ার করেও যোগাযোগের সুবিধা অনেকের জন্য উপকারী হবে। তবে নতুন সুবিধার সঙ্গে নতুন ঝুঁকিও আসে।

ভারত সরকারের নজরদারি তাই শুধু নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন নয়, বরং ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, Meta ও WhatsApp কীভাবে privacy, identity protection এবং fraud prevention—এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে ফিচারটি চালু করে।

Avatar photo

Bapan Biswas

বাপন বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক। তিনি সাইটের সম্পাদকীয় পরিকল্পনা, তথ্য যাচাই এবং সংবাদ প্রকাশনার দায়িত্বে রয়েছেন। দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, ব্যবসা-বাণিজ্য, খেলাধুলা ও বিনোদনের খবর সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে সহজ বাংলায় পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।