অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা পাননি? চালু হল হেল্পলাইন ও নতুন পোর্টাল
কলকাতা: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের দ্বিতীয় মাসের আর্থিক সহায়তা বিতরণ শুরু হলেও বহু আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না পৌঁছানোয় রাজ্যজুড়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উপভোক্তাদের উদ্বেগ কমাতে হেল্পলাইন নম্বর এবং বিশেষ অনলাইন ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
প্রশাসনের বক্তব্য, আবেদন করেও টাকা না পাওয়া, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ ঢুকতে দেরি, নথি সংক্রান্ত সমস্যা বা প্রকল্প নিয়ে অন্য কোনও প্রশ্ন থাকলে নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। পাশাপাশি প্রকল্পকে আরও স্বচ্ছ করতে একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর কথাও জানানো হয়েছে, যেখানে উপভোক্তা তালিকা ও অভিযোগ জানানোর মতো পরিষেবা থাকবে বলে প্রশাসনিক মহলে দাবি।
বুধবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের দ্বিতীয় মাসের কিস্তি বিতরণের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। তিনি জানান, দুপুর ১টার মধ্যে ১ কোটি ৩০ লক্ষ সম্ভাব্য উপভোক্তার মধ্যে ১ কোটি ৯ লক্ষ ৯২ হাজার ৩৭৮ জন মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। বাকি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টেও ধাপে ধাপে অর্থ পৌঁছে যাবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
টাকা না পেলে কী করবেন?
সরকারি ঘোষণা সত্ত্বেও অনেক আবেদনকারী জানিয়েছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা জমা পড়েনি। এই পরিস্থিতিতে নবান্নের তরফে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।
যাঁরা আবেদন করেও এখনও টাকা পাননি বা প্রকল্প সংক্রান্ত সমস্যার মুখে পড়েছেন, তাঁরা ৮২৮২০৮২৮২০ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন। সোমবার থেকে শনিবার, সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই পরিষেবা চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, হেল্পলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ নথিভুক্ত করে সমস্যা দ্রুত খতিয়ে দেখা হবে। ব্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া, নথি যাচাই, অ্যাকাউন্ট সংযোগ বা DBT সংক্রান্ত কারণে অনেক সময় টাকা ঢুকতে দেরি হতে পারে। তাই টাকা না এলেই আতঙ্কিত না হয়ে আগে কিছুটা সময় অপেক্ষা করা এবং তারপর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আসছে পোর্টাল, বাড়বে স্বচ্ছতা
শুধু হেল্পলাইন নয়, প্রকল্পের তথ্য আরও সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের উদ্যোগে একটি বিশেষ ডিজিটাল পোর্টাল চালুর কথাও জানানো হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই এই পোর্টাল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, পোর্টালে গিয়ে নাগরিকরা নিজেদের এলাকার উপভোক্তা তালিকা দেখতে পারবেন। যদি কারও মনে হয়, তালিকায় এমন কোনও নাম রয়েছে যিনি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, তাহলে সেই বিষয়েও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে।
অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশাসন প্রয়োজনীয় যাচাই করবে বলে জানানো হয়েছে। এই ব্যবস্থা চালু হলে প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তি কমবে এবং উপভোক্তা তালিকা নিয়ে স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
ডিজিটাল যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত তালিকা
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে ১ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি মহিলা আবেদন করেছেন। আবেদনগুলি ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাই করা হয়েছে। নথি পরীক্ষা, তথ্য মিলিয়ে দেখা এবং বিভিন্ন স্তরের যাচাইয়ের পর প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি।
অর্থাৎ, আবেদন করলেই সবাই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন—এমন নয়। নির্ধারিত যোগ্যতা, নথি এবং যাচাইয়ের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যাঁদের আবেদন বাতিল হয়েছে বা যাঁদের টাকা আসেনি, তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা কোথায় হয়েছে তা জানার জন্য হেল্পলাইন ও পোর্টাল গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পদক্ষেপ?
সরকারি প্রকল্পে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা থাকলেও অনেক সময় নথি, Aadhaar-link, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য বা verification-এর কারণে সমস্যা তৈরি হয়। ফলে উপভোক্তারা বুঝতে পারেন না, তাঁদের টাকা দেরিতে আসছে, নাকি আবেদনেই কোনও সমস্যা হয়েছে।
এই অবস্থায় হেল্পলাইন ও পোর্টাল চালু হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের তালিকা ও অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকলে স্বচ্ছতা বাড়বে বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ।
তবে অনলাইন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সতর্কতাও জরুরি। প্রকল্পের নামে ভুয়ো website, link বা form ছড়ালে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হতে পারেন। তাই official portal বা সরকারি ঘোষণার বাইরে কোনও link-এ personal details, bank details বা OTP দেওয়া উচিত নয়।
এখন উপভোক্তারা কী করবেন?
যাঁদের অ্যাকাউন্টে এখনও ৩ হাজার টাকা জমা পড়েনি, তাঁদের প্রথমে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, Aadhaar-link এবং আবেদন সংক্রান্ত তথ্য ঠিক আছে কি না দেখে নেওয়া উচিত। অনেক সময় DBT payment processing-এ কিছুটা সময় লাগে।
তারপরও টাকা না এলে ৮২৮২০৮২৮২০ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে। সোমবার থেকে শনিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে বলে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে সরকারি email-এর মাধ্যমেও অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
নতুন পোর্টাল চালু হলে আবেদনকারীরা নিজেদের এলাকার উপভোক্তা তালিকা যাচাই করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আপত্তি বা অভিযোগ জানাতে পারবেন। ফলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের পুরো প্রক্রিয়াই আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার চেষ্টা করছে প্রশাসন।
শেষ কথা
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের দ্বিতীয় মাসের টাকা বিতরণ শুরু হলেও অনেক উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা না পৌঁছানোয় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, ধাপে ধাপে টাকা পৌঁছবে এবং সমস্যার সমাধানে হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।
এই মুহূর্তে উপভোক্তাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল—অযাচিত link বা ভুয়ো website থেকে দূরে থাকা, official তথ্যের উপর নির্ভর করা এবং সমস্যা হলে নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নম্বরে অভিযোগ জানানো। পোর্টাল চালু হলে উপভোক্তা তালিকা, অভিযোগ এবং যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে বলেই আশা করছে প্রশাসন।
