পহেলগাঁও মামলায় হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে NIA-র অভিযোগপত্র খারিজ পাকিস্তানের
ইসলামাবাদ/নয়াদিল্লি: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার ঘটনায় লস্কর-ই-তইবা প্রধান হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার অতিরিক্ত অভিযোগপত্র প্রত্যাখ্যান করল পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, পাকিস্তানের সঙ্গে ওই হামলার যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভারত বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ সামনে আনতে পারেনি।
গত ৬ জুলাই জম্মুর বিশেষ আদালতে হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অভিযোগপত্র জমা দেয় NIA। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও-এর বৈসরন উপত্যকায় হামলার নেপথ্যে থাকা সীমান্তপারের ষড়যন্ত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল। ওই হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও স্থানীয় এক বাসিন্দা-সহ ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন।
হাফিজের বিরুদ্ধে পরে জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছে জম্মুর বিশেষ NIA আদালত। তবে অভিযোগপত্রে থাকা অভিযোগগুলি এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
পাকিস্তান কী বলেছে?
পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে পাকিস্তানকে যুক্ত করার চেষ্টা ভিত্তিহীন। ইসলামাবাদ একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিও পুনরায় জানিয়েছে।
পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করতে ভারত আইনি প্রক্রিয়া ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেছে। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে অবশ্য এই ধরনের অভিযোগ আগেও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন, পাকিস্তানের মুখপাত্রের ‘প্রায় তিন দশক আগের মামলা পুনরুজ্জীবিত করা’ এবং প্রয়াত হুরিয়ত নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার মন্তব্যটি সরাসরি পহেলগাঁও হামলার অভিযোগপত্র সম্পর্কে নয়। সেটি ১৯৯৬ সালের শ্রীনগর হিংসা মামলায় ১০ জুলাই জমা দেওয়া পৃথক অভিযোগপত্রের প্রসঙ্গ। দুটি আলাদা মামলা একসঙ্গে মিশিয়ে প্রকাশ করলে তথ্যগত বিভ্রান্তি তৈরি হবে।
হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে NIA-র অভিযোগ কী?
NIA-র সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পাকিস্তানে থাকা লস্কর-ই-তইবা তথা দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের প্রধান হিসেবে হাফিজ সইদের নাম পহেলগাঁও মামলার অতিরিক্ত অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁকে হামলার ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে সংস্থাটি।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পাকিস্তানে থাকা লস্কর নেতৃত্ব এবং তাদের সহযোগীদের নির্দেশে হামলাটি চালানো হয়েছিল। TRF-কে লস্করের ছায়া সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। পাকিস্তান অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হামলাকারীদের ধারণ করা ভিডিও, গোপন বার্তা আদান-প্রদান, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য এবং সীমান্তপারের অস্ত্র সরবরাহের মতো প্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে বলে কয়েকটি গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে NIA-র প্রকাশ্য সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্যের সম্পূর্ণ ফরেনসিক বিবরণ দেওয়া হয়নি। তাই আদালতের নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এগুলিকে তদন্ত-সূত্রের দাবি হিসেবেই উল্লেখ করা নিরাপদ।
হাফিজ সইদের রাষ্ট্রপুঞ্জের তালিকাভুক্তি
হাফিজ সইদ রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত ব্যক্তি। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে তাঁর নাম ওই তালিকায় যুক্ত করা হয়। রাষ্ট্রপুঞ্জের নথিতে তাঁকে লস্কর-ই-তইবার প্রধান এবং জামাত-উদ-দাওয়ার নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের নথি
ফলে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে হাফিজ সইদের ব্যক্তিগত অবস্থানের সরাসরি সমর্থন না বলে, তাঁর বিরুদ্ধে NIA-র অভিযোগ এবং পাকিস্তানের যোগসূত্র প্রত্যাখ্যান হিসেবে লেখা তথ্যগতভাবে বেশি নির্ভুল। ইসলামাবাদ তাঁর বিরুদ্ধে থাকা রাষ্ট্রপুঞ্জের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলেনি।
মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
জামিন-অযোগ্য পরোয়ানার পরে হাফিজ সইদকে পলাতক ঘোষিত অভিযুক্ত করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে NIA। তিনি পাকিস্তানে থাকায় ওই পরোয়ানার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপের উপর।
ভারতের তদন্তকারী সংস্থাকে এখন আদালতে অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ পেশ করতে হবে। অন্যদিকে পাকিস্তানের অস্বীকারের কারণে পাহেলগাম হামলার দায় এবং সীমান্তপারের নেটওয়ার্ক নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক বিরোধ আরও বাড়ল।
