পুরীর রথযাত্রায় প্রবল ভিড়, পদপিষ্ট প্রায় ১২০ ভক্ত
পুরী: জগন্নাথদেবের রথযাত্রায় লক্ষাধিক ভক্তের সমাগমের মধ্যে পুরীর বড়দাণ্ডে প্রবল ভিড়ের চাপ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রথের শোভাযাত্রার কাছে পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে বিশেষ উদ্ধারকারী দল। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, শ্বাসকষ্ট ও অসুস্থতা অনুভব করায় প্রায় ১২০ জনকে ভিড় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
অসুস্থদের প্রাথমিক চিকিৎসার পরে পুরীর বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের প্রত্যেকের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এক ভক্তের মৃত্যুর খবরও কয়েকটি সূত্রে সামনে এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, ভিড়ের মধ্যে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিলেন। তাঁকে পুরী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলা প্রশাসন, পুলিশ বা স্বাস্থ্য দপ্তর মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তাই মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধ বা ভিড়ের চাপকে এখনই নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা ঠিক হবে না।
বড়দাণ্ডে কী ঘটেছিল?
রথের শোভাযাত্রা দেখার জন্য বিপুলসংখ্যক মানুষ বড়দাণ্ডের বিভিন্ন অংশে জড়ো হয়েছিলেন। একটি এলাকায় মানুষের ঘনত্ব হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। কয়েকজন ভক্ত অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের ভিড় থেকে দ্রুত সরিয়ে আনে বিশেষ উদ্ধারকারী দল।
ঘটনাটিকে এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পদপিষ্টের ঘটনা’ বলা হয়নি। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, মূলত অতিরিক্ত ভিড়, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা এবং শ্বাসকষ্টের কারণে একাধিক মানুষ অসুস্থ হয়েছেন। কোনও ব্যক্তি পদপিষ্ট হয়েছেন কি না, তা প্রশাসন নিশ্চিত করেনি।
ঘটনার পরে বড়দাণ্ডে ভক্তদের চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। জরুরি পরিষেবার কর্মী এবং চিকিৎসক দলকেও সতর্ক রাখা হয়েছে।
লক্ষাধিক ভক্তের উপস্থিতিতে শুরু রথযাত্রা
বৃহস্পতিবার পুরীতে শুরু হয়েছে জগন্নাথদেবের বিশ্ববিখ্যাত রথযাত্রা। জগন্নাথ মন্দির থেকে তিন দেবতা—জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা—নিজ নিজ রথে গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
মন্দির থেকে প্রথমে চক্ররাজ সুদর্শনকে বের করে দেবী সুভদ্রার দর্পদলন রথে স্থাপন করা হয়। পরে বিশেষ ‘পহণ্ডি’ রীতিতে দেবী সুভদ্রাকে তাঁর রথে আনা হয়। বলভদ্র ও জগন্নাথদেবের বিগ্রহও নির্ধারিত আচার মেনে রথে নিয়ে আসেন সেবায়েতরা।
জগন্নাথদেব মন্দির থেকে বেরিয়ে আসার সময় বড়দাণ্ড জুড়ে ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি ওঠে। শঙ্খ, ঘণ্টা ও করতালের শব্দে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
দর্শনার্থীদের জন্য সতর্কতা
পুরীতে থাকা দর্শনার্থীদের অত্যধিক ভিড়ের মধ্যে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রবীণ নাগরিক, শিশু, অন্তঃসত্ত্বা এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের তুলনামূলক ফাঁকা জায়গায় থাকা নিরাপদ।
ভিড়ের মধ্যে অসুস্থ বোধ করলে কাছের পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র, চিকিৎসা শিবির বা স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। হঠাৎ ভিড় বাড়লে উল্টো দিকে ধাক্কা দিয়ে এগোনোর চেষ্টা না করে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে ধীরে সরে যাওয়া প্রয়োজন।
