হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ মিলল না, কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে ফের তলব অভিষেককে!
কলকাতা: ডিজে মন্তব্যকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড় এল। কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করলেও এখনও পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়ার উপর কোনও স্থগিতাদেশ মেলেনি।
এই অবস্থায় বিধাননগর আদালত তাঁকে ফের তলব করেছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৮ জুলাই সকাল ১০টার মধ্যে বিধাননগর ACJM আদালতে উপস্থিত হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ এবং তদন্তকারী আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এই নমুনা সংগ্রহ করা হতে পারে।
এক নজরে:
• ডিজে মন্তব্য মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের তলব
• ৮ জুলাই সকাল ১০টায় বিধাননগর ACJM আদালতে হাজিরার নির্দেশ
• কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশে এখনও স্থগিতাদেশ নেই
• হাইকোর্টে দ্রুত শুনানির আবেদন করেছেন অভিষেকের আইনজীবীরা
• মামলা এখনও তদন্তাধীন, অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি
হাইকোর্টে দ্রুত শুনানির আর্জি
নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আইনজীবীরা মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন করেছেন। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়েছেন, যাতে কোন বেঞ্চে মামলাটি শুনবে তা নির্ধারণ করা যায়।
তবে নতুন বেঞ্চে শুনানি হওয়ার আগে পর্যন্ত নিম্ন আদালতের নির্দেশের উপর কোনও স্থগিতাদেশ নেই। তাই বিধাননগর আদালত নিজের প্রক্রিয়া অনুযায়ী কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নতুন তারিখ ধার্য করেছে।
আরো পড়ুন: যেখানে হাত দিচ্ছি সেখানেই ধ্বংসলীলা’, মমতাকে আক্রমণ শুভেন্দুর
কী এই ডিজে মন্তব্য বিতর্ক?
ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা একটি মন্তব্যকে ঘিরে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর “ডিজে বাজবে” মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে উস্কানিমূলক ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বাগুইআটি থানা এবং পরে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম শাখায় মামলা দায়ের হয়।
প্রথমে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্তভার যায় রাজ্য সিআইডি-র হাতে। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন কণ্ঠস্বরের নমুনা চাইছে তদন্তকারীরা?
তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, বিতর্কিত মন্তব্যের অডিও বা ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত কণ্ঠস্বর মিলিয়ে দেখার জন্য ফরেন্সিক পরীক্ষা প্রয়োজন। সেই কারণেই কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের আবেদন জানানো হয়েছিল।
বিধাননগর আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে প্রথমে ৩০ জুন নমুনা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু নির্ধারিত দিনে অভিষেক আদালতে হাজির হননি। এরপর নতুন করে ৮ জুলাইয়ের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
আদালতের অবস্থান কী?
কলকাতা হাইকোর্টে অভিষেকের পক্ষ থেকে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তাঁর আইনজীবীদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট বক্তব্য তাঁরই এবং তা অস্বীকার করা হয়নি। তাই নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তদন্তে কোন প্রমাণ প্রয়োজন বা কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, তা তদন্তকারী সংস্থার বিষয়। আদালত সেই পর্যায়ে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করে দিতে পারে না। তবে মূল মামলার শুনানি কোন বেঞ্চে হবে, তা প্রধান বিচারপতির দপ্তর ঠিক করবে।
রাজনৈতিক মহলে চর্চা
এই মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, তদন্ত প্রক্রিয়া আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূলের বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাপে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে।
তবে বিষয়টি এখনও বিচারাধীন ও তদন্তাধীন। তাই অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং আইনি প্রক্রিয়াকে আলাদা করে দেখাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ।
নজর এখন ৮ জুলাইয়ের দিকে
এখন নজর ৮ জুলাইয়ের দিকে। তার আগে কলকাতা হাইকোর্টে দ্রুত শুনানি হলে এবং কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ এলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। অন্যথায় বিধাননগর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই দিন কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে হতে পারে।
এই মামলার পরবর্তী আইনি অগ্রগতি রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যায় না—এই আইনি অবস্থান বজায় রাখাই জরুরি।
