হাওড়ায় ৭০০ কোটির বিনিয়োগে আমুলের মেগা ডেয়ারি প্রকল্প, নিউ টাউনে বসে ভূমিপুজো সারলেন অমিত শাহ
পশ্চিমবঙ্গের দুগ্ধশিল্প ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বিরাট জোয়ার আসতে চলেছে। রবিবার কলকাতার নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে ভার্চুয়ালি ‘আমুল বেঙ্গল ডেয়ারি প্রকল্প’-এর ভূমিপুজো করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ। এই মেগা প্রকল্পে দুগ্ধ সমবায় ক্ষেত্রের শীর্ষ সংস্থা আমুল বাংলায় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চলেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক প্রতিনিধি এবং দুগ্ধ সমবায় ক্ষেত্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
A Significant Step for West Bengal’s Dairy Sector.
Today, Hon’ble Union Home & Cooperation Minister Shri Amit Shah Ji laid the foundation stone of the new Amul Bengal Dairy Curd Production Unit.
It was a privilege to have Shri Amit Shah Ji preside over this grand event, in the… pic.twitter.com/X5g4KJSiV3— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) July 19, 2026
বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন কেন্দ্র হতে চলেছে হাওড়ায়
হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে তৈরি হতে চলা এই দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রটি সাধারণ কোনো কারখানা নয়। আমুল কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি পুরোপুরি চালু হওয়ার পর উৎপাদন ক্ষমতার নিরিখে এটি বিশ্বের বৃহত্তম দই ও দইজাত পণ্য তৈরির কেন্দ্রে পরিণত হবে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি দৈনিক প্রায় ১০ লাখ কেজি (১ হাজার মেট্রিক টন) দই এবং একই ধরনের দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের ব্যবস্থা থাকবে এখানে।
শুধু সাধারণ দুধ নয়, তৈরি হবে একাধিক উন্নত মানের পণ্য
সাঁকরাইলের এই আধুনিক কারখানায় কাঁচা দুধ পরীক্ষা, শীতলীকরণ (Cooling) থেকে শুরু করে প্যাকেটজাতকরণের সব রকম বিশ্বমানের প্রযুক্তি থাকবে।
- প্রতিদিন ১০ লাখ লিটার সাধারণ দুধ প্যাকেটজাত করার পাশাপাশি, এখানে ২ লাখ লিটার ইউএইচটি (UHT) দুধ প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। এই বিশেষ পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত দুধ বন্ধ প্যাকেটে অনেক দিন পর্যন্ত ভালো থাকে, যা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমায়।
- এছাড়াও প্রতিদিন ১ লাখ লিটার আইসক্রিম, ২০ টন পনির, ১০ টন ঘি, ১০ টন ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং প্রায় আড়াই লাখ প্যাকেট ফ্লেভারড মিল্ক তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
বাংলার দুগ্ধচাষিরা কীভাবে উপকৃত হবেন?
গুগল অ্যাডসেন্স সব সময় দেখে খবরটি সাধারণ মানুষের কতটা উপকারে আসছে। এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো বাংলার কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি দুগ্ধচাষি আমুলের সমবায় ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত, যাঁর মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি মহিলা। রাজ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ৯ লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হয়।
নতুন এই মেগা কারখানাটি চালু হলে দুধের চাহিদা বর্তমানের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এর ফলে রাজ্যের আরও হাজার হাজার দুগ্ধচাষি সরাসরি এই সংগঠিত ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। গ্রামাঞ্চলে সঠিক সংরক্ষণের অভাবে প্রতিদিন প্রচুর দুধ নষ্ট হয়। কিন্তু আমুলের এই নতুন পরিকাঠামো গড়ে উঠলে কৃষকেরা নির্দিষ্ট কেন্দ্রে দুধ জমা দিয়ে দ্রুত গুণমান পরীক্ষা ও নিয়মিত সঠিক মূল্য পাওয়ার সুবিধা পাবেন।
সাঁকরাইল ফুড পার্ককে বেছে নেওয়ার আসল কারণ (ভৌগোলিক বিশ্লেষণ)
ব্যবসায়িক ও লজিস্টিকসের দিক থেকে হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি জাতীয় সড়কের সাথে সরাসরি যুক্ত এবং কলকাতার খুব কাছে। দুধ, দই বা আইসক্রিমের মতো পচনশীল পণ্য বাজারে পৌঁছানোর জন্য কোল্ড চেইন বজায় রাখা জরুরি। উৎপাদনকেন্দ্র বাজারের কাছাকাছি হওয়ায় পরিবহণের দূরত্ব ও সময় অনেকটাই কমে যাবে। ফলে কলকাতা, দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা-সহ গোটা পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বাজারে আমুল খুব দ্রুত তাদের তাজা পণ্য পৌঁছে দিতে পারবে।
রবিবার ভূমিপুজোর মাধ্যমে এই মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হলো। জমি প্রস্তুত করা, আধুনিক যন্ত্রপাতি বসানো এবং পরীক্ষামূলক উৎপাদনের পর এটি বাণিজ্যিকভাবে চালু হবে। এই প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে শুধু দুগ্ধচাষি নয়, সরবরাহ, সংরক্ষণ ও পরিবহণ ক্ষেত্রেও রাজ্যের হাজার হাজার যুবকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি হবে।
