মমতা-অভিষেককে নিয়ে ঋতব্রত দিলেন কড়া জবাব, ‘যোগ দিতে চাইলে সিদ্ধান্ত নেবে কর্মসমিতি’
দলের বিক্ষুব্ধ নেতাদের ফিরে আসার জন্য শনিবারই খোলা বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি বিদ্রোহীরা ফিরলে এক ঘণ্টার মধ্যে নিজের পদ ছাড়ার কথাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। আর ঠিক তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লি থেকে সেই বার্তার কড়া জবাব দিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। রবিবার মমতা-অভিষেককে নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
মমতা-অভিষেকের যোগদান প্রসঙ্গে কী বললেন ঋতব্রত?
রবিবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যদি তাঁদের শিবিরে যোগ দিতে চান, তবে সেই সিদ্ধান্ত কোনো একক নেতার কথায় হবে না। বিষয়টি পুরোপুরি তাঁদের শিবিরের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে স্থির করা হবে।
উল্লেখ্য, মমতা বা অভিষেকের তরফ থেকে শিবির বদলের কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরেই এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন ঋতব্রত। তিনি জানান, তাঁদের শিবিরের সভাপতি হিসেবে অরূপ রায়কে আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে শীর্ষ নেতৃত্বের কেউ যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে, তা কর্মসমিতির সামনেই পেশ করা হবে। জেলা স্তরেও তাঁদের নতুন সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিষেকের ইস্তফার প্রস্তাবে পাল্টা কটাক্ষ
শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ থেকে বাঁচতেই দলের একাংশ নেতা শিবির বদল করেছেন। রবিবার সেই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন ঋতব্রত। তাঁর কটাক্ষ, “যাঁরা ভয় বা চাপের কারণে দল ছেড়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁদেরই আবার ফিরে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে কেন? এটি তো সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী কথা।” অভিষেকের পদত্যাগের প্রস্তাব প্রসঙ্গে ঋতব্রতের সাফ জবাব, শর্ত দেওয়ার আগে অভিষেকের উচিত নিজের ঘোষিত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করা।
নির্বাচন কমিশনে ‘আসল তৃণমূল’ লড়াই
তৃণমূল কংগ্রেসের নাম, দলের জোড়াফুল প্রতীক এবং তহবিলের অধিকার কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে লড়াই চলছে দুই শিবিরের। গত ২২ জুন বিশেষ অধিবেশন ডেকে অরূপ রায়কে সভাপতি করে ৩০ সদস্যের জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করে ঋতব্রত শিবির। নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষের কাছেই বেশ কিছু নথি তলব করেছে। সেই প্রস্তুতির কাজেই তিনি দিল্লিতে এসেছেন বলে জানিয়েছেন ঋতব্রত। যদিও নির্বাচন কমিশন বা আদালত এখনও পর্যন্ত কোনো শিবিরকেই চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেয়নি।
দলীয় তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
দিল্লিতে দাঁড়িয়ে দলীয় ফান্ডের আর্থিক লেনদেন নিয়েও সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, তৃণমূলের তহবিলে জমা অর্থের সুদ এবং অন্যান্য লেনদেনের সম্পূর্ণ হিসাব সাধারণ কর্মীদের সামনে প্রকাশ করা উচিত। তাঁর কাছে আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তিনি তা তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
একদিকে দলের সংগঠন বিস্তার এবং অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনে দলের রাশ নিজেদের হাতে রাখার আইনি লড়াই—এই দুই জোড়া ফলাতেই এখন এগোতে চাইছে ঋতব্রত শিবির। আগামী দিনে আরও তিনটি জেলার কমিটি ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
