ভারতের আকাশে উড়ল দেশের সবচেয়ে ভারী বৈদ্যুতিক বিমান, ১২ মাসেই তৈরি বেঙ্গালুরুর ‘Sylla 1.0’
শহরের রোজকার যানজটে হাঁসফাঁস অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে যদি এমন কোনো ট্যাক্সি থাকত, যা আকাশপথে সোজা গন্তব্যে পৌঁছে দেবে! কল্পবিজ্ঞানের মতো শোনালেও, ভারতের মাটিতে বসেই এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল বেঙ্গালুরুর স্টার্টআপ সংস্থা Sarla Aviation। মাত্র ১২ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তারা তৈরি করে ফেলেছে তাদের পরীক্ষামূলক বৈদ্যুতিক বিমান ‘Sylla 1.0’। সম্প্রতি সফলভাবে এর প্রথম ধাপের উড়ান পরীক্ষাও শেষ করেছে সংস্থাটি।
কী এই Sylla 1.0?
Sylla 1.0 কোনো সাধারণ যাত্রীবাহী বিমান নয়। ভবিষ্যতে মানুষ বহনের জন্য যে বিশাল এয়ার ট্যাক্সি তৈরি হবে, তার প্রযুক্তি ঠিকমতো কাজ করছে কি না—তা পরখ করে দেখার জন্যই এই অর্ধেক আকারের (half-scale) মডেলটি বানানো হয়েছে। গত ছ’মাস ধরে চলা এই ট্রায়ালে বিমানটি ৫০০-টির বেশি পরীক্ষা সফলভাবে পার করেছে। আকাশে উড়েছে সব মিলিয়ে ১৮ ঘণ্টারও বেশি সময়। সাতশো কেজি ওজনের এবং সাড়ে সাত মিটার চওড়া ডানার এই মডেলটিকে বলা হচ্ছে ভারতের আকাশে ওড়া এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে ভারী বৈদ্যুতিক বিমান।
🚨 ANOTHER BIG ACHIEVEMENT 🇮🇳
Bengaluru-based Sarla Aviation has SUCCESSFULLY flight-tested Sylla 1.0, its half-scale eVTOL technology demonstrator.
What’s even more impressive? It was designed, built and flown in just 12 months. 🔥 pic.twitter.com/aAPAwMgOqx
— Megh Updates 🚨™ (@MeghUpdates) July 19, 2026
কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?
এই ধরনের বিমানগুলোকে বলা হয় eVTOL (ইলেকট্রিক ভার্টিকাল টেকঅফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং)। অর্থাৎ, এগুলো ওড়ার জন্য কোনো বড় রানওয়ের দরকার পড়ে না। হেলিকপ্টারের মতোই মাটি থেকে সোজা আকাশে উঠে যেতে পারে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, কোনো পাইলট ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি নিজের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারে। বাতাসে স্থিরভাবে ভেসে থাকার সময় এর ব্যাটারি, ৪০০ ভোল্টের পাওয়ার সিস্টেম এবং একাধিক মোটর কতটা নিখুঁতভাবে কাজ করে, সেটাই ছিল এই পরীক্ষার মূল আকর্ষণ।
সংস্থার চিফ টেকনোলজি অফিসার (CTO) রাকেশ গাঁওকর খুব সুন্দর একটি কথা বলেছেন। তাঁর মতে, কম্পিউটারের স্ক্রিনে বসে সব হিসেব মেলানো যায় না। বাস্তবে যখন একটা বিমান ওড়ে, তখন ব্যাটারি কতটা গরম হচ্ছে, হাওয়ার দাপটে কতটা কাঁপছে—এই ব্যাপারগুলো জানতেই Sylla 1.0-কে আকাশে ওড়ানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র ১ কোটি ৩০ লক্ষ ডলারেরও কম খরচে এই প্রজেক্ট বাস্তবায়িত করেছে দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে গড়া এই দল।
ভবিষ্যতের এয়ার ট্যাক্সি ‘Shunya’
প্রথম ধাপে বাজিমাত করার পর, এখন Sarla Aviation-এর নজর ‘Sylla 2.0’-এর দিকে। এই নতুন মডেলে তারা দেখবে বিমানটি সোজা আকাশে ওঠার পর কীভাবে সাধারণ প্লেনের মতো ডানা ব্যবহার করে সামনের দিকে উড়ে যেতে পারে। এটা সফল হলেই শুরু হবে আসল কাজ— ‘Shunya’ প্রজেক্ট। এটি হবে ৬ জন যাত্রী ও ১ জন পাইলট বসার মতো একটি পূর্ণাঙ্গ যাত্রীবাহী এয়ার ট্যাক্সি।
সংস্থাটি লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে ২০২৮ সালের মধ্যেই ‘Shunya’-কে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত করার। তবে কাজটা খুব একটা সহজ নয়। প্রযুক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি, শহরের মাঝে ল্যান্ডিং প্যাড তৈরি করা, ব্যাটারির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে ভাড়ার অঙ্কটা রাখা—এই বড় চ্যালেঞ্জগুলো পার করতে পারলেই তবেই ট্রাফিক জ্যামকে চিরতরে বিদায় জানাতে পারবে ভারতবাসী।
