খেলাধুলা

শেষ সাত মিনিটে মেসির দুই পাস, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা

আটলান্টা: নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট বাকি থাকতেও বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কায় ছিল আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ড তখন ১-০ গোলে এগিয়ে। লিয়োনেল মেসির সামনে জায়গা বন্ধ করে থমাস টুখেলের দল প্রায় নিখুঁতভাবেই নিজেদের পরিকল্পনা কার্যকর করেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মেসির দুটি পাস থেকে গোল করে ম্যাচের ফলই বদলে দিলেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ।

আটলান্টায় ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। ৮৫ মিনিটে এনজো সমতা ফেরান। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জয়সূচক গোল করেন পরিবর্ত হিসেবে নামা লাউতারো। আর্জেন্টিনার দুটি গোলের পাসই এসেছে মেসির পা থেকে।

প্রথমার্ধ থেকে মেসির জন্য আলাদা পরিকল্পনা নিয়েছিল ইংল্যান্ড। তিনি মাঝমাঠে নেমে বল নেওয়ার চেষ্টা করলেই কাছাকাছি কোনও ইংরেজ ফুটবলার তাঁকে চাপে ফেলছিলেন। ডেকলান রাইস রক্ষণভাগের সামনে জায়গা বন্ধ করেন। জুড বেলিংহ্যাম ও এলিয়ট অ্যান্ডারসনের পরিশ্রমেও আর্জেন্টিনার স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হচ্ছিল।

বল বেশি সময় নিজেদের দখলে রাখলেও প্রথম এক ঘণ্টায় পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে সমস্যায় পড়ে আর্জেন্টিনা। জুলিয়ান আলভারেজ ইংল্যান্ডের রক্ষণের পিছনে জায়গা পাচ্ছিলেন না। ফলে আক্রমণ গড়তে মেসিকে অনেকটা নিচে নেমে আসতে হয়।

অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে বারবার বিপজ্জনক হয়ে উঠছিল ইংল্যান্ড। ৫৫ মিনিটে মর্গ্যান রজার্সের পাস ধরে গর্ডন গোল করলে টুখেলের পরিকল্পনা সফল বলেই মনে হচ্ছিল।

ব্যবধান বাড়ানোর বদলে রক্ষণে মন ইংল্যান্ডের

এগিয়ে যাওয়ার পরই ম্যাচের গতিপথ ধীরে ধীরে বদলে যায়। দ্বিতীয় গোলের জন্য চাপ বজায় রাখার পরিবর্তে ইংল্যান্ড নিজেদের রক্ষণ আরও নিচে নামিয়ে আনে। মাঝমাঠে চাপ কমে যাওয়ায় বল নিয়ন্ত্রণের সময় ও জায়গা পেতে শুরু করেন রদ্রিগো দি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো।

এই কৌশলে ইংল্যান্ড সাময়িকভাবে আক্রমণ সামলাতে পারলেও আর্জেন্টিনাকে ক্রমাগত সামনে এগিয়ে আসার সুযোগ দেয়। গোলের ব্যবধান মাত্র এক হওয়ায় একটি সফল আক্রমণেই ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

গোল না করেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রক মেসি

ইংল্যান্ড মেসির দৌড় এবং গোলের সুযোগ অনেকটাই সীমিত রাখতে পেরেছিল। কিন্তু তাঁর পাস দেওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি। বয়স ৩৯ হলেও ম্যাচের গতি বুঝে জায়গা তৈরি এবং সঠিক সময়ে বল ছাড়ার ক্ষমতাই আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে পার্থক্য গড়ে দিতে সাহায্য করে।

৮৫ মিনিটে তাঁর তৈরি করা আক্রমণ থেকে সমতা ফেরান এনজো। সাত মিনিট পরে মেসির আরও একটি নিখুঁত পাস ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভেঙে দেয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন লাউতারো।

মেসি নিজে গোল না পেলেও দুটি গোলে সহায়তা করে দেখিয়ে দিলেন, দলের প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁর ভূমিকা বদলেছে। এখন তাঁকে শুধু গোলদাতা হিসেবে আটকে রাখলেই আর্জেন্টিনাকে থামানো যাচ্ছে না।

আর্জেন্টিনার শক্তি এখন গোটা দল

এই জয় আরও একবার প্রমাণ করল, বর্তমান আর্জেন্টিনা শুধু মেসির ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উপর নির্ভরশীল নয়। এনজো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করেছেন। পরিবর্ত হিসেবে নেমে সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন লাউতারো। দি পল মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন এবং আলভারেজ লাগাতার দৌড়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছেন।

মেসি এখনও দলের মূল চালিকাশক্তি। তবে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মতো একাধিক ফুটবলার তৈরি হওয়াই লিয়োনেল স্কালোনির দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। চাপের মধ্যেও কাঠামো না ভেঙে অপেক্ষা করার মানসিকতা তাদের আবারও কঠিন ম্যাচ জিতিয়েছে।

সামনে স্পেন, ইতিহাস থেকে এক জয় দূরে আর্জেন্টিনা

১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পরে কোনও দেশ পুরুষদের বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। ফলে স্পেনকে হারাতে পারলে ৬৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেই বিরল নজির গড়বে স্কালোনির দল।

স্পেন এখনও পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় অপরাজিত। তাই ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাজ সহজ হবে না। তবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তের প্রত্যাবর্তন বুঝিয়ে দিয়েছে, চাপের সময়েও ধৈর্য হারায় না বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।