বিশ্ববাজারে তেলের দামের উত্থান, ডিজেল ও বিমান জ্বালানি রফতানিতে কর বাড়াল কেন্দ্র
নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার মধ্যে জ্বালানি রফতানির করহার সংশোধন করল কেন্দ্র। ডিজেল ও বিমান জ্বালানি রফতানির উপর কর বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, পেট্রোল রফতানির কর কমানো হয়েছে। নতুন হার ১৬ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, ডিজেল রফতানির কর লিটারপ্রতি ৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে কর বেড়েছে ৭ টাকা।
বিমান জ্বালানি বা এটিএফ রফতানির ক্ষেত্রেও কর লিটারপ্রতি ৭ টাকা বেড়েছে। আগের ৭ টাকা ৫০ পয়সার পরিবর্তে নতুন হার হয়েছে ১৪ টাকা ৫০ পয়সা।
তবে পেট্রোল রফতানির ক্ষেত্রে উল্টো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি লিটারে কর ৪ টাকা থেকে কমিয়ে ২ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে।
কোন জ্বালানিতে কত কর বদলাল?
| জ্বালানি | আগের হার | নতুন হার | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| ডিজেল | ₹৮.৫০ প্রতি লিটার | ₹১৫.৫০ প্রতি লিটার | ₹৭ বৃদ্ধি |
| বিমান জ্বালানি | ₹৭.৫০ প্রতি লিটার | ₹১৪.৫০ প্রতি লিটার | ₹৭ বৃদ্ধি |
| পেট্রোল | ₹৪ প্রতি লিটার | ₹২.৫০ প্রতি লিটার | ₹১.৫০ হ্রাস |
দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবার হার সংশোধন
এর আগে ১ জুলাই থেকে ডিজেল রফতানির কর ১৪ টাকা থেকে কমিয়ে ৮ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছিল। বিমান জ্বালানির ক্ষেত্রেও কর ১২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছিল ৭ টাকা ৫০ পয়সা।
সেই সময় পেট্রোল রফতানির কর লিটারপ্রতি ১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা করা হয়েছিল। নতুন নির্দেশে ডিজেল ও বিমান জ্বালানির কর আবার বাড়ল, আর পেট্রোলের কর কিছুটা কমানো হল।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত?
কর বৃদ্ধির ফলে ডিজেল ও বিমান জ্বালানি বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে রফতানিকারী সংস্থাগুলিকে প্রতি লিটারে আগের তুলনায় বেশি কর দিতে হবে। ফলে একই রফতানি মূল্য বজায় থাকলে ওই দুই জ্বালানির রফতানি থেকে পাওয়া নিট অর্থ কমতে পারে।
পেট্রোলের ক্ষেত্রে কর কমায় প্রতি লিটারে রফতানি ব্যয় কিছুটা কমবে। তবে কোনও নির্দিষ্ট সংস্থার আয় বা রফতানির পরিমাণ কতটা প্রভাবিত হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক দাম, বিক্রয়মূল্য এবং রফতানির পরিমাণের উপর সেই প্রভাব নির্ভর করবে।
সরকারি নির্দেশে তিনটি জ্বালানির জন্য আলাদা হার নির্ধারণ করা হলেও, কোন পণ্যের কর কেন বাড়ানো বা কমানো হয়েছে—তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে দেওয়া হয়নি। তাই ডিজেলের কর বৃদ্ধির সঙ্গে দেশের বাজারে ঘাটতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে দাবি করা ঠিক হবে না।
আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে কেন অস্থিরতা?
আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ইরানের বন্দরগুলির উপর আমেরিকার নৌ অবরোধ এবং পাল্টা অঞ্চলে মার্কিন পরিকাঠামোয় ইরানের হামলার খবরে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বুধবার তেলের দাম বাড়ার পরে কিছুটা কমলেও বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় ছিল।
পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা বাড়লে তেল পরিবহণ, বন্দর ব্যবহার এবং বিমার খরচ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়। সেই কারণেই সামরিক সংঘাতের খবর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে কেন্দ্রের নতুন করহার শুধুমাত্র সংঘাতের কারণেই নির্ধারণ করা হয়েছে—সরকারি নির্দেশের পূর্ণ ব্যাখ্যা ছাড়া এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
পেট্রোল পাম্পের দাম কি বদলাবে?
নতুন নির্দেশটি রফতানি করা ডিজেল, পেট্রোল ও বিমান জ্বালানির কর সংক্রান্ত। দেশের পেট্রোল পাম্পে বিক্রি হওয়া জ্বালানির খুচরো দাম পরিবর্তনের কোনও ঘোষণা এই নির্দেশে নেই।
অতএব, ১৬ জুলাই থেকে এই করহার কার্যকর হলেই সাধারণ ক্রেতার পেট্রোল বা ডিজেলের দাম বেড়ে যাবে—এমন নয়। খুচরো মূল্য পরিবর্তন হলে তেল বিপণন সংস্থা বা সরকারের তরফে আলাদা সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা প্রয়োজন হবে। এটি নির্দেশটির পরিধি থেকে করা সরাসরি ব্যাখ্যা।
বিমান জ্বালানির রফতানি কর বাড়লেও দেশের বিমান সংস্থাগুলির জন্য এটিএফের বিক্রয়মূল্য এই নির্দেশের মাধ্যমে সরাসরি পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে এখনই বিমানভাড়া বাড়বে বলে দাবি করারও ভিত্তি নেই।
পাঠকের জন্য মূল কথা
কেন্দ্র ডিজেল ও বিমান জ্বালানি রফতানির কর প্রতি লিটারে ৭ টাকা করে বাড়িয়েছে। পেট্রোল রফতানির কর কমেছে ১ টাকা ৫০ পয়সা। পরিবর্তিত হার ১৬ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
এটি রফতানির উপর কর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত। দেশের বাজারে পেট্রোল, ডিজেল অথবা বিমানভাড়ার তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের ঘোষণা নয়।
