দিল্লি ও উত্তরাখণ্ডে সম্ভাব্য খলিস্তানি নাশকতার হুমকি ঘিরে হাই-অ্যালার্ট, তদন্তে পুলিশ
“সম্ভাব্য খলিস্তানি জঙ্গি হামলার হুমকি ঘিরে দিল্লি ও উত্তরাখণ্ডে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।” জাতীয় স্তরের একাধিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি সন্দেহজনক ইমেল পাওয়ার পর প্রশাসনের তরফে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই ইমেলটির সত্যতা যাচাই এবং এর উৎস শনাক্ত করতে গভীর তদন্ত শুরু করেছে।
নিশানায় কারা? কোথায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা?
গোয়েন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্দেহজনক ওই ইমেলটিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গাকে সম্ভাব্য টার্গেট বা নিশানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই রাজ্যেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে:
- গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান (মন্দির), সরকারি দফতর এবং পুলিশ স্থাপনাগুলিতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
- রেলস্টেশন, জনবহুল এলাকা এবং সংবেদনশীল স্থানগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
- কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সুরক্ষার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
- কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তুর ওপর সিসিটিভি (CCTV)-র মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।
উত্তরাখণ্ডের বর্তমান প্রেক্ষাপট
এই নিরাপত্তা সতর্কতাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার কর্ণপ্রয়াগে নিহঙ্গ শিখ তীর্থযাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। গত ১৬ জুনের ওই অনভিপ্রেত ঘটনার পর থেকেই উত্তরাখণ্ডের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে আলাদাভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
আরও পড়ুন : মোংলা ইকোনমিক জোন: ভারতের বাতিল প্রকল্পের জায়গায় চীনা বিনিয়োগ
তবে পুলিশ বা কোনো সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এটি নিশ্চিত করা হয়নি যে, ওই সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে এই হুমকি ইমেলের সরাসরি কোনো যোগসূত্র বা সম্পর্ক রয়েছে। তাই দুটি ঘটনাকে এখনই এক করে দেখার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নেই।
তদন্তে সাইবার এক্সপার্টরা, আতঙ্ক নয় সতর্ক থাকার বার্তা
হুমকি ইমেলটির সত্যতা নিশ্চিত করতে দিল্লি পুলিশের সাইবার সেল এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে। আইপি ট্র্যাকিং (IP Tracking) এবং ইমেলের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণ করে এর মূল হোতাদের খোঁজার চেষ্টা চলছে।
জনসাধারণের প্রতি বার্তা
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চলাফেরার সময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং কোনো রকম সন্দেহজনক পরিস্থিতি নজরে এলে অবিলম্বে স্থানীয় পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
