রাজ্য

১৬ বছর পর কলকাতার দুই সাধারণ থানার দায়িত্বে মহিলা ওসি, কোথায় নিয়োগ?

কলকাতা: কলকাতা পুলিশের প্রশাসনিক স্তরে বড় রদবদলের মধ্যেই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল লালবাজার। দীর্ঘ ১৬ বছর পর শহরের দুটি সাধারণ থানার দায়িত্ব পেলেন মহিলা পুলিশ আধিকারিক। সরশুনা থানার ওসি হয়েছেন রূপা সিং। সিঁথি থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চামেলি মুখোপাধ্যায়কে।

বৃহস্পতিবার জারি করা নির্দেশিকায় ওসি ও অতিরিক্ত ওসি মিলিয়ে মোট ৩৩ জন পরিদর্শকের বদলির কথা জানানো হয়েছে। শহরের প্রায় ২০টি থানার দায়িত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেই তালিকাতেই রূপা সিং ও চামেলি মুখোপাধ্যায়ের নতুন দায়িত্বের উল্লেখ রয়েছে।

রূপা সিং এতদিন টালিগঞ্জ মহিলা থানার ওসি ছিলেন। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, এবার তিনি সরশুনা থানার দায়িত্ব সামলাবেন। অন্যদিকে, চামেলি মুখোপাধ্যায় ছিলেন উল্টোডাঙা মহিলা থানার ওসি। তাঁকে উত্তর কলকাতার সিঁথি থানার ওসি করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে তিনি অল্প সময়ের জন্য কালীঘাট থানার দায়িত্বও সামলেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে।

কলকাতা পুলিশের ওয়েবসাইটে থাকা আগের তালিকাতেও রূপা সিংকে টালিগঞ্জ মহিলা থানা এবং চামেলি মুখোপাধ্যায়কে উল্টোডাঙা মহিলা থানার ওসি হিসেবে দেখানো হয়েছে। নতুন নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পরে সরকারি তালিকা পর্যায়ক্রমে সংশোধন হতে পারে। কলকাতা পুলিশের থানা-সংক্রান্ত তালিকা

কেন এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ?

কলকাতায় মহিলা থানা থাকলেও সাধারণ থানার সর্বোচ্চ দায়িত্বে দীর্ঘদিন কোনও মহিলা আধিকারিক ছিলেন না। সাধারণ থানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধের তদন্ত, অভিযোগ গ্রহণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, সব ধরনের দায়িত্বই ওসিকে সামলাতে হয়।

ফলে একসঙ্গে দুই মহিলা আধিকারিককে এমন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুলিশ প্রশাসনে মহিলাদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই নিয়োগকে কোনও নির্দিষ্ট অপরাধের প্রতিক্রিয়া বা রাজনৈতিক নীতির সরাসরি ফল হিসেবে লালবাজার ব্যাখ্যা করেনি। তাই প্রশাসনিক রদবদল হিসেবেই বিষয়টিকে দেখা যথাযথ।

শেষবার মহিলা ওসি ছিলেন কে?

কলকাতা পুলিশের কোনও সাধারণ থানায় শেষবার মহিলা ওসি দেখা গিয়েছিল ২০১০ সালে। সেই সময় দেবশ্রী চট্টোপাধ্যায় নর্থ পোর্ট থানার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। পরে তিনি তারাতলা থানার দায়িত্বও সামলান।

তাঁকেই কলকাতা পুলিশের কোনও সাধারণ থানার প্রথম মহিলা ওসি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে মহিলা থানাগুলিতে মহিলা ওসি থাকলেও সাধারণ থানায় আর কোনও মহিলা আধিকারিককে ওই দায়িত্বে দেখা যায়নি। পূর্ববর্তী মহিলা ওসি সম্পর্কে প্রতিবেদন

নারী সহায়তা ব্যবস্থায় কী পদক্ষেপ হয়েছে?

নারীদের অভিযোগ গ্রহণ এবং দ্রুত সহায়তার জন্য থানাগুলিতে পৃথক সহায়তা-কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহিলা পুলিশকর্মীদের দায়িত্ব ও অভিযোগকারীদের সঙ্গে সংবেদনশীল আচরণ নিয়েও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।

এর আগে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মহিলা পুলিশকর্মী পরিচালিত ‘পিঙ্ক বুথ’ চালু করা হয়েছিল। রাতের শহরে টহলের জন্য গঠন করা হয় মহিলা পুলিশকর্মীদের বিশেষ ‘শাইনিং’ দল। এই দুই ব্যবস্থা আগের সরকারের আমলে চালু হয়েছিল। নতুন প্রশাসনে নারী সহায়তা ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।

সাধারণ থানার দায়িত্বে দুই মহিলা আধিকারিকের নিয়োগ সেই বৃহত্তর প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করল। তবে নারী নিরাপত্তার বাস্তব উন্নতি কতটা হচ্ছে, তা নির্ভর করবে অভিযোগ গ্রহণ, তদন্তের গতি এবং থানাস্তরে পরিষেবার কার্যকারিতার উপর।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।