বারুইপুর এনকাউন্টার তদন্তে সিআইডি, বিকাশরঞ্জনের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক
কলকাতা: বারুইপুরে নাবালিকা যৌন নির্যাতন ও খুনের মামলায় ধৃত অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশের গুলিতে মৃত্যু নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পেল সিআইডি। একই সঙ্গে এই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তও চলবে। ফলে শুধু মূল অপরাধের তদন্ত নয়, অভিযুক্তের মৃত্যুর রাতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও আলাদা করে খতিয়ে দেখা হবে।
পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে সূর্যপুরের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় তিনি পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই গুলি চালাতে হয় বলে দাবি পুলিশের। তবে এই দাবি এখন তদন্তের বিষয়। সিআইডি ও বিচারবিভাগীয় অনুসন্ধানেই বোঝা যাবে, ওই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল।
কেন সিআইডি তদন্ত
এনকাউন্টারে বারুইপুর পুলিশ জেলার সদস্যরা যুক্ত ছিলেন। সেই কারণে নিরপেক্ষতার প্রশ্নে ওই একই জেলার পুলিশ এই তদন্ত করছে না। ঘটনার আলাদা তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সিআইডি-কে।
সিআইডির সামনে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অভিযুক্তকে রাতে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছিল? নিরাপত্তার ব্যবস্থা কী ছিল? পুলিশের অস্ত্র কীভাবে অভিযুক্তের হাতে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হল? গুলি চালানো ছাড়া অন্য পথ ছিল কি না? এই প্রশ্নগুলির উত্তর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বিকাশরঞ্জনের আপত্তি কোথায়
আইনজীবী তথা বাম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এই এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, একজন অভিযুক্ত যতই গুরুতর মামলায় ধরা পড়ুন, তাঁকে আদালতে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করাই আইনের পথ। অভিযুক্তের মৃত্যু হলে অনেক সময় মামলার ভিতরের তথ্য, সম্ভাব্য যোগসূত্র বা অন্য কারও ভূমিকা জানার সুযোগ কমে যেতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
তবে এটি বিকাশরঞ্জনের আইনি ও রাজনৈতিক অবস্থান। তদন্তে সত্যিই কোনও তথ্য চাপা পড়েছে কি না, তা এখনই বলা যায় না। সেই বিষয়টি সিআইডি তদন্ত, বিচারবিভাগীয় অনুসন্ধান এবং আদালতের প্রক্রিয়াতেই স্পষ্ট হবে।
মূল মামলার তদন্তও গুরুত্বপূর্ণ
প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু নিয়ে আলাদা তদন্ত শুরু হলেও, নাবালিকার মৃত্যুর মূল মামলাটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই মামলায় অন্য অভিযুক্তদের ভূমিকা, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া প্রমাণ, ময়নাতদন্ত ও ফরেন্সিক রিপোর্ট—সব দিক খতিয়ে দেখা দরকার।
আইনজীবীদের একাংশের মতে, দ্রুত শাস্তির দাবি সমাজে থাকতেই পারে। কিন্তু আদালতে টিকে থাকার মতো প্রমাণ সংগ্রহই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে জরুরি। বিশেষ করে নাবালিকা-সংক্রান্ত মামলায় তদন্তের প্রতিটি ধাপ সতর্কভাবে এগোনো প্রয়োজন।
রাজনীতিতে নতুন চাপ
এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে মতভেদ স্পষ্ট। একাংশ পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করছে। অন্যদিকে বিরোধী ও মানবাধিকার মহলের একাংশ বলছে, বিচার আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
এনকাউন্টার নিয়ে সিআইডি তদন্ত শুরু হওয়ায় এখন প্রশাসনের ওপরও চাপ বাড়ল। তদন্তে পুলিশের দাবি সমর্থন পায়, নাকি নতুন প্রশ্ন ওঠে—সেটাই এখন দেখার।
