খেলাধুলা

বিশ্বকাপে মেসির নতুন রেকর্ড, কাবো ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে আরও একবার নিজের নাম লিখলেন লিওনেল মেসি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে তিনি ৩০টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা প্রথম ফুটবলার হলেন।

শুক্রবার মায়ামি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও কাবো ভার্দে মুখোমুখি হয়। ম্যাচটি ছিল নাটকীয়। নির্ধারিত সময়ে দুই দলই লড়াই করে। অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে জয় পায়।

এই জয়ের ফলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে। পরের ম্যাচে লিওনেল স্কালোনির দল মিশরের বিরুদ্ধে খেলবে।

মেসির ৩০তম বিশ্বকাপ ম্যাচ

কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে ছিলেন মেসি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে তাঁর ম্যাচ সংখ্যা দাঁড়াল ৩০।

এর আগে এই তালিকায় তাঁর কাছাকাছি ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং জার্মানির লোথার ম্যাথাউস। কিন্তু মেসি এবার ৩০ ম্যাচের মাইলফলক ছুঁয়ে আলাদা জায়গায় পৌঁছে গেলেন।

২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন মেসি। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—মোট ছয়টি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি মাঠে নেমেছেন।

এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি শুধু ম্যাচ খেলেননি। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ, নেতৃত্ব এবং বড় ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাঁর ভূমিকা বারবার আলোচনায় এসেছে।

বিশ্বকাপে ২০তম গোল করলেন মেসি

এই ম্যাচে শুধু ম্যাচ খেলার রেকর্ড নয়, গোলের রেকর্ডও আরও এগিয়ে নিলেন মেসি। ২৯ মিনিটে তিনি আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন।

লাউতারো মার্তিনেসের পাস নিয়ন্ত্রণ করে কাবো ভার্দের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন মেসি। এটি ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর ২০তম গোল।

চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির সপ্তম গোল। ফলে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়েও তিনি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও মেসি সাত গোল করেছিলেন। এবার সেই সংখ্যায় তিনি আবার পৌঁছে গেলেন।

আর্জেন্টিনার জয় সহজ ছিল না

স্কোরলাইন দেখে সহজ জয় মনে হলেও ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য মোটেই সহজ ছিল না। কাবো ভার্দে তাদের প্রথম বিশ্বকাপেই দারুণ লড়াই দেখিয়েছে। আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে তারা পুরো ম্যাচে চাপ ধরে রাখে।

মেসি প্রথমে গোল করলেও কাবো ভার্দে পরে সমতা ফেরায়। ডেরয় দুয়ার্তে দ্বিতীয়ার্ধে গোল করেন। এরপর অতিরিক্ত সময়ে লিসান্দ্রো মার্তিনেস আর্জেন্টিনাকে আবার এগিয়ে দেন।

কিন্তু কাবো ভার্দে আবারও হাল ছাড়েনি। সিডনি লোপেস কাব্রাল দুর্দান্ত গোল করে ম্যাচ ২-২ করেন। শেষ পর্যন্ত কাবো ভার্দের আত্মঘাতী গোলেই জয় পায় আর্জেন্টিনা।

মেসির কর্ণার থেকে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো মাথা ছোঁয়ানো শট নেন। বল কাবো ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্গেসের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। সেই গোলেই আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে।

কাবো ভার্দের লড়াইও প্রশংসিত

কাবো ভার্দে এই বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক। ছোট দেশ হয়েও তারা নকআউট পর্বে উঠেছিল। আর্জেন্টিনার মতো দলের বিরুদ্ধে দু’বার পিছিয়ে থেকেও তারা ম্যাচে ফিরে আসে। তাদের কোচ বুবিস্তা ম্যাচের পর ফুটবলারদের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, এই পারফরম্যান্স কাবো ভার্দের ফুটবলের জন্য ঐতিহাসিক। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও প্রতিপক্ষকে সম্মান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বকাপে কোনও ম্যাচ সহজ নয়। কাবো ভার্দে সেই কথাই আবার প্রমাণ করেছে।

মেসির রেকর্ড কেন গুরুত্বপূর্ণ?

৩০টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা শুধু দীর্ঘ সময় ধরে খেলার রেকর্ড নয়। এটি ধারাবাহিকতা, ফিটনেস এবং বড় মঞ্চে দীর্ঘদিন প্রভাব ধরে রাখার প্রমাণ। মেসি এখন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেও নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন। ছয়টি বিশ্বকাপে খেলা, ৩০ ম্যাচে নামা এবং ২০ গোল করা, এই তিনটি তথ্যই তাঁকে ফুটবল ইতিহাসের বিরল জায়গায় নিয়ে গেছে।

আর্জেন্টিনার জন্যও তাঁর ভূমিকা এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়লেও দল বড় মুহূর্তে এখনও তাঁর দিকেই তাকিয়ে থাকে।

পরের চ্যালেঞ্জ মিশর

কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে কঠিন জয় আর্জেন্টিনাকে সতর্ক বার্তাও দিল। নকআউট পর্বে ভুলের সুযোগ খুব কম। মিশরের বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে আরও সংগঠিত ফুটবল খেলতে হবে।

মেসির ফর্ম আর্জেন্টিনার জন্য বড় ভরসা। তবে কাবো ভার্দে ম্যাচ দেখিয়ে দিল, শুধু মেসির ওপর নির্ভর করলে চাপ বাড়তে পারে।

এখন নজর থাকবে মিশর ম্যাচে। মেসি কি রেকর্ড আরও বাড়াবেন, নাকি আর্জেন্টিনার খেতাব রক্ষার লড়াই আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়বে—তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।